০৪:৩২ পি.এম
ফিলিপাইনের স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চল বাংসামোরো প্রথমবারের মতো নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট অধিবেশনে আবদুলরাওফ মাকাকুয়াকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশকের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামের পর এই ঘটনা ঘটেছে। কোটাবাটো সিটিতে বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ৮০ সদস্যের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর অঞ্চলটিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৪ শতাংশের বেশি। পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে আবদুলরাওফ মাকাকুয়া ৫১ ভোট পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ ইব্রাহিম পান ২৭ ভোট। একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং একজন অনুপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর।
দায়িত্ব গ্রহণের পর উদ্বোধনী বক্তব্যে মাকাকুয়া বলেন, “প্রকৃত স্বশাসনের লক্ষ্যে আমাদের দীর্ঘ যাত্রায় আজ আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যুক্ত হলো।” তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী বাংসামোরো গড়ে তুলতে শুধু অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। মতপার্থক্য দূর করতে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরিপক্বতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ইরান: আলোচনা উদ্যোগকে স্বাগত, তবে যুদ্ধের আশঙ্কা অস্বীকার করছে না আরাগচি
৬৯ বছর বয়সী মাকাকুয়া বাংসামোরো ট্রানজিশন অথরিটির সদস্য ছিলেন। তিনি স্যামি গাম্বার নামেও পরিচিত। একসময় তিনি মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের (এমআইএলএফ) জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সংগঠনটির সশস্ত্র শাখার চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের মার্চে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মাধ্যমে ২০১৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা মুরাদ ইব্রাহিমের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের মুসলিম-অধ্যুষিত মিনদাও অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছিল। ২০১৪ সালে ফিলিপাইন সরকার ও মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে বাংসামোরো ফিলিপাইনের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল এবং সরকারি জরিপ অনুযায়ী এখানে সাক্ষরতার হারও সবচেয়ে কম। নতুন আঞ্চলিক সরকারকে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মূলত ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এ অঞ্চলের জন্য ১১৫ বিলিয়ন পেসোর বেশি (প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মিশিগানের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হতে চলেছেন মুহিত মাহমুদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন