মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
০৯:৫২ এম
অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৬২টি অবৈধ জাল উদ্ধার করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য বিভাগ এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে নুনখাওয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল-বিল এবং পৌরসভার পয়রাডাঙ্গা এলাকার মসলিয়ার বিলে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। উদ্ধার করা জালগুলো ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ জানান, অবৈধ চায়না জালের মাধ্যমে নির্বিচারে দেশীয় মাছ ও মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে আসে। এরপর উদ্যোগ গ্রহণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, উদ্ধার করা জালগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ lakh টাকা, এবং দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, চায়না দুয়ারী জাল জলাশয়ের ছোট মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে নিধন করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে, যাতে টেকসই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত এবং শপথ নেওয়া সংসদ সদস্য (এমপি) সারোয়ার আলমগীরকে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখতে করা আপিল আবেদনের ওপর আজ আদেশ দেওয়া হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেবেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন।
আদালতে ওইদিন বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছিলেন। আপিলকারী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ছিলেন।
এর আগে, সারোয়ার আলমগীরের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে নুরুল আমীন আপিল বিভাগে আবেদন করেন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চান। আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই দুই দিন শুনানি নিয়ে আদেশের দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।
ভোটের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে।
ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সারোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন। এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত লিভ মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। আদালতের নির্দেশনার কারণে ওইসময় তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।
গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের পর ওইদিন গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সন্ধ্যায় সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন নুরুল আমীন।
আবেদনে বলা হয়, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে এবং তাকে শপথ পড়ানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে পৌঁছেছে। সরকার জানিয়েছে, বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধার অভিযানকে জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি ঘটে, যার ফলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল বেলা স্থানীয় সময় রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ কথা নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়টি এখনও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বর।
তিনি যোগ করেন, উদ্ধারকাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলছে।
ভূমিকম্পের পরে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারের চেষ্টা, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এদিকে, এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণে সরকার একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারে ভূমিকম্পের পর ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরো প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০টি পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
কুমামোতোর একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে, যেখানে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। এছাড়া একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ার পর সেখানেও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাপান বিশ্বের একটি অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত দেশটিতে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে ঘটে। এর আগে ২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিন দিন ধরে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে গভীর রাতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর জবাবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে সংঘটিত হয়েছে, এই হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কোথায় ছিল, সে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক অবস্থান, রসদ এবং অস্ত্রের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবির বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জবাব এড়াতে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে হামলা বন্ধ করতে হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সৌদি আরবও দাবি করেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকে অবস্থানরত ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এসব ড্রোন দ্বারা হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে হামলা শুরুর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর আগে টানা তিন দিন دو দেশের মধ্যে কোনো হামলা বা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই বিরতির লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের অধিকার নিয়ে এখনও অচলাবস্থা রয়েছে। যদিও তেহরান এমন কোনো আলোচনা চলছে বলেই অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
পেন্টাগন জানিয়েছেন, এর মধ্যে ৪১৭ জন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-সংক্রান্ত ঘটনায় আহত হয়েছেন।
নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হঠাৎ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির এই বিবৃতির পর, হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীর ওপর একটি হঠাৎ হামলা মার্কিন সেনারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘ইস্টার্ন টাইম বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইরান থেকে আইআরজিসি বাহিনী একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি অতর্কিত হামলা করার চেষ্টা ছিল।’
সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম বা লক্ষ্যবস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, হামলার জন্য ব্যবহার করা ইরানের সব মিসাইল মাঝপথে সফলভাবে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মার্কিন বাহিনী বর্তমানে যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, নিজেদের বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার কড়া জবাব দিতে ওয়াশিংটন বিন্দুমাত্র দেরি করেনি। বুধবার ভোরে মার্কিন ও সৌদি বাহিনী সম্প্রতি ইরাকের মধ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির আকস্মিক হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য নিহত এবং আহত হয়েছে, পাশাপাশি একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে এক ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উসকানি’, ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরাসরি আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে, পূর্বে তাদের উপর হওয়া হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পিএমএফ গঠিত হয়। আইএসআইএস-কে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১৬ সালে পিএমএফ-কে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যদিও এই জোটের বেশ কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের আইআরজিসি-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস ও ইয়েমেনের হুতিদের মতো পিএমএফ-ও এই অঞ্চলে তেহরানের ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কারণেই তারা দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ