প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে পৌঁছেছে। সরকার জানিয়েছে, বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধার অভিযানকে জোরদার করতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি ঘটে, যার ফলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল বেলা স্থানীয় সময় রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ কথা নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়টি এখনও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বর।
তিনি যোগ করেন, উদ্ধারকাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলছে।
ভূমিকম্পের পরে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারের চেষ্টা, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এদিকে, এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণে সরকার একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচারে ভূমিকম্পের পর ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরো প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০টি পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
কুমামোতোর একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে, যেখানে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। এছাড়া একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ার পর সেখানেও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাপান বিশ্বের একটি অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত দেশটিতে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশই জাপানে ঘটে। এর আগে ২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন