মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ এম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
এ সম্মিলন ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদের সই করা চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান রূপান্তরমুখী অভিযাত্রা এবং পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মিলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দেশের কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অধ্যক্ষবৃন্দের ভূমিকা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ সম্মিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
এ সম্মিলনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ জাতীয় শিক্ষানীতি, সরকারের শিক্ষা-দর্শন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা লাভ করবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত লিংকে (https://collegeportal.nu.ac.bd/) প্রবেশ করে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ড্যাশবোর্ড থেকে অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬ ক্লিক করে যথাযথভাবে ফরম পূরণ করে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠান থেকে টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার পূর্বে বর্তমানে এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, মজুরি আরও বেশি হওয়া উচিত।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার সমান। সরকার এটি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে, কিন্তু নতুন হার এবং কার্যকর হওয়ার সময় সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এমএসএমই খাতের টিকে থাকা দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।"
এর আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেন। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার সাবেক শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, "কোনো কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করবে, অথচ শ্রমিকরা এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাবেন এটি টেকসই নয়।"
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা ও কোম্পানির আয় বৃদ্ধি পেলে শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরির মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাজেটে কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা ২০১৩ সালে চালু হয়, তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়।
অর্থাৎ, ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের হার ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে কর্মীর সংখ্যা নির্বিশেষে দেশজুড়ে তা কার্যকর করা হয়। তবে গৃহকর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।
বিদেশি শ্রমিকরাও পাবেন সুবিধা
মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া সহ অন্যান্য দেশের যোগ্য বিদেশি শ্রমিকরাও স্থানীয় আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মৌলিক মজুরি পাওয়ার অধিকারী।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও অন্তত এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম বেসিক বেতন পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন হার দুই হাজার রিঙ্গিত হলে যোগ্য বিদেশি শ্রমিকদের বেসিক বেতনও সেই হারে বাড়বে।
মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। ন্যূনতম মজুরি বাড়লে তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ও নেপালের কয়েকজন কর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা বলেন, খাবারের দাম বাড়ায় খরচ মেটানোর পর প্রতি মাসে অবশিষ্ট টাকা/ রুপি দেশে পাঠাতে পারেন। তবে ওভারটাইম না থাকলে সঞ্চয় করা কঠিন।
শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩,১০০ রিঙ্গিত
ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার আলোচনা চললেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) দাবি করেছে, ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিত করা হোক। বর্তমান এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের তুলনায় এটি ৮২ শতাংশেরও বেশি।
ইতোমধ্যে কিছু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাসে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে এখনো নতুন আইনগত ন্যূনতম মজুরি হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেনি।
এক হাজার ৭০০ থেকে সরাসরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিতে মজুরি বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে সীমিত মুনাফায় পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দাম ও নতুন নিয়োগের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আকমান নাসির বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তার মতে, মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতারও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়ার আইনে অন্তত দুই বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এ সময় জাতীয় মজুরি পরামর্শ কাউন্সিলকে ন্যূনতম মজুরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।
২০২৭ সালের বাজেটের প্রাক-বাজেট বিবৃতিতেও সরকারের ‘ডিসেন্ট ওয়েজ এজেন্ডা’ বা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। একই সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে।
মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে উচ্চ আয় ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেতনের ওপর মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ)-এ নিয়োগকর্তা ও বিদেশি শ্রমিক উভয়কেই ২ শতাংশ করে অবদান রাখতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ বিমানঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ যুবকের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন জল্পনা-কল্পনা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসটি এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানায় এবং সতর্ক করে যে, এটি যুক্তরাজ্যে ইরানবিরোধী উসকানি ছড়ানোর একটি ষড়যন্ত্র।
বিবৃতিতে ইরানি দূতাবাস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে এমন বানানো খবর যুক্তরাজ্যের মাটিতে ইরানবিরোধী প্রচারণাকেই কেবল উসকে দেবে। মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে দেশের অধিকার ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস দমন পুলিশ জানায়, রবিবার বিমান ঘাঁটির দিকে তিনটি গাড়ি যেতে দেখে গ্লুচেস্টারশায়ারের ওয়েলফোর্ড এলাকা থেকে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য পুলিশ ঘটনাটিকে একটি ‘অত্যন্ত জটিল ও বড় আকারের অভিযান’ হিসেবে তদন্ত করছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশের হেফাজতে রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী ক্রিস্টা পাইক জানিয়েছেন, মৃত্যুর ভয় তার নেই। তবে, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ .
৫০ বছর বয়সী পাইক গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
পাইক ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাইক এবং তার দুই সহযোগী স্লেমারকে টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও মারধর করেন। পরে স্লেমার মারা যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তন্ত্রসাধনার যোগ ছিল। স্লেমারের বুকে একটি বিশেষ চিহ্ন খোদাই করা হয়েছিল এবং পাইক তার মাথার খুলির একটি অংশ স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়ার কথা অন্য এক সহপাঠীকে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
পাইক তার ভূমিকার কথা অস্বীকার করেননি। তবে, তার আইনজীবীরা বলছেন, শৈশব থেকেই তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতন এবং অবহেলার শিকার হয়েছেন। এসব তথ্য তার মৃত্যুদণ্ডের বিচার চলাকালীন জুরিদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে দাবি তাদের।
পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, শৈশবের নির্যাতনের কারণে পাইক গুরুতর মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে আটকে রাখার প্রক্রিয়া তার ওপর অতিরিক্ত মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।
তবে, টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর বলেছে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতির কারণে পাইকের অতিরিক্ত মানসিক ক্ষতি হবে—এমন ধারণার পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
এদিকে, টেনেসির গভর্নর বিল লি পাইকের মৃত্যুদণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ফলে, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তই তার শেষ সুযোগ।
সহযোগীদের সাজা ছিল ভিন্ন
পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও একই ঘটনায় জড়িত অন্যদের সাজা ছিল ভিন্ন। তার প্রেমিক তাদারিল শিপ ঘটনার সময় ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তিনি ভবিষ্যতে মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
অন্য সহযোগী শাদোলা পিটারসন তখন ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় পাহারার দায়িত্বে ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করার বিনিময়ে প্রবেশন পান।
পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, ঘটনার সময় তার বয়স মাত্র ১৮ বছর হওয়াও বর্তমানে তরুণদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তারা আরও দাবি করেছেন, সে সময় প্রসিকিউটররা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিনিময়ে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমঝোতা গ্রহণ করা হয়নি।
শৈশবের নির্যাতনের তথ্য সামনে
মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড তিন বছর আগে পাইকের মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। তিনি পুলিশি নথি, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন।
ব্র্যান্ডের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার পরিবারেও স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল না। ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ব্র্যান্ডের মতে, পাইকের শৈশবের মানসিক আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। কারাগারে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার পর তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত ও অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে জানান তিনি।
তবে, নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের হত্যার জন্য পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াকেই ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত মেয়ের দেহের বিভিন্ন অংশ পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে নারী সদস্যদের গুরুত্ব
পাইক নারী হওয়ায় টেনেসির কারা কর্তৃপক্ষ তার কিছু বিশেষ অনুরোধ বিবেচনা করছে। তাকে ন্যাশভিলের নারী কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত কারাগারে নেওয়ার সময় নারী প্রহরী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দলে নারী সদস্যদের রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, একজন পুরুষ চিকিৎসক এতে অংশ নিতে পারেন। এর আগে ব্যর্থ হওয়া একটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন কার্যকরের সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পাইকের আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা মিকি নোয়েশেলকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি পাইকের সঙ্গে প্রার্থনা, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
মৃত্যুর আগে এক চিঠিতে পাইক লিখেছেন, তার প্রতি পাওয়া সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, জীবনের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে তিনি বেশি ভালোবাসা অনুভব করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং এফসি বার্সেলোনা মাদ্রিদের একটি আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন। ২৫ নভেম্বর সেখানে একটি সমঝোতার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্য সোমবার মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। শুনানির পর পেরেজের বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি মামলা দায়ের হতে পারে।
পেরেজের মে মাসের একটি মন্তব্যের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, বার্সেলোনা রেফারিদের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এই মন্তব্যের পর, বার্সেলোনা ১২ জুন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বার্সেলোনা তাদের দাবি করেছে যে, তারা চায় পেরেজ তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিক। ক্লাবটির ভাষায়, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, মানহানিকর এবং ক্লাবের ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর। বার্সেলোনা সতর্ক করেছে যে, যদি সমঝোতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়, তারা ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করবে।
এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো পেরেজের ১২ মে এক সংবাদ সম্মেলনে করা মন্তব্য। সেখানে তিনি তথাকথিত নেগ্রেইরা মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন।
স্পেনের আদালত একটি বিষয়ের তদন্ত করছে। বার্সেলোনা প্রায় দুই দশক ধরে হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরার সঙ্গে যুক্ত কিছু কোম্পানিকে অর্থ প্রদান করেছে। এই অর্থের পরিমাণ ৭০ লাখ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেগ্রেইরা স্পেনের রেফারি কমিটির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তদন্তে দেখা হচ্ছে, এই অর্থ প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল কি না।
বার্সেলোনা কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই টাকা রেফারিদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রদান করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি আদালত বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল।
পেরেজ এই ঘটনাকে ‘ফুটবলে দুর্নীতির সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে বার্সেলোনা রেফারিদের প্রধানকে টাকা দেবে।’
পেরেজ দাবি করেছেন যে, রিয়াল মাদ্রিদকে লিগ শিরোপা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সাতটি লিগ জিতেছি। আমি এর দ্বিগুণ জিততে পারতাম। বাকিগুলো আমার কাছ থেকে চুরি হয়ে গেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ