ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৫৮ জনকে গ্রেফতার


ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৫৮ জনকে গ্রেফতার

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অত্র বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ৩০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সাত জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ সাত জন, শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ছয় জন, তেজগাঁও থানা পুলিশ পাঁচ জন এবং আদাবর থানা পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ, চার দিন পর নরসিংদীতে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নয়ন (১৮), মোসা. শাহিনুর বেগম (২০), মো. জুনায়েদ হোসেন ওরফে জুনাইদ (১৯), জেসমিন (২২), মো. শাহনেওয়াজ, জালাল উদ্দিন হিরা (৩২), মো. আসিফ তারেক (৩৪), মো. কোরবান (৩১), মো. বেলাল হোসেন (১৮), মনিরুল ислам (৪০), মো. রবিন (২০), মো. সাইদুর রহমান সাঈদ (৩৭), মো. রুবেল হোসেন ভাতিজা রুবেল (৩৫), মো. শাওন (৪০), মো. শরীফ হাওলাদার (৩০), মো. আফ্রিদি (২৭), মো. হোসেন (২৬), মো. জামাল, মো. হোসেন ভূঁইয়া (২১), মো. হোসেন, মো. জাকির হোসেন (৩২), মো. জয়নাল আবেদীন (৩২), মো. তানভীর হোসেন মাউরা রাকিব (২৬), মো. সাদ্দাম হোসেন (৪৭), মো. নয়ন (২০), মো. স্বপন সরদার (৩৮), মো. রাসেল (২৮), মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. ইমরুল হাসান (৩৯), মো. রাশেদ ইসলাম (১৯), মো. রাকিব (১৮), মো. সাগর হৃদয় (১৯), মো. জনী (২১), নূর ইসলাম (২০), মো. আল আমিন (২০), মো. সাগর (১৯), মো. পলাশ (২২), গোলাম রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার সরদার (২২), মোস্তাফিজুর রহমান (২০), আব্দুল মোমেন (৩০), মো. জাকারিয়া (২৫), মো. মিরাজ (২২), সানিমুল হাসান শাওন (১৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩০), জাহাঙ্গীর (২২), কামরুল (৩৭), জুম্মন (৩৫), মো. আমির হোসেন (৪০), মো. ইলিয়াস মিয়া (৫২), মোসা. বিলকিস (৪০), মো. রাকিব হোসেন (২৪), মো. আনোয়ার (৪০), মো. মাসুম (৩৫), মো. খাইরুল (৫২), মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. আব্দুল হাকিম (২৮) ও মোয়াজ্জেম হোসেন মারুফ (৩৩)।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টকশোতে বাগযুদ্ধের পর এবার রাশেদ-তুষারের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


টকশোতে বাগযুদ্ধের পর এবার রাশেদ-তুষারের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো ‘স্বাধীন সংলাপ’-এ তুমুল বাগযুদ্ধে জড়ানোর পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পৃথক ফেসবুক পোস্টে দুই রাজনীতিক একে অপরকে ইঙ্গিত করে নানা মন্তব্য করেন।

এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে এটিএন নিউজের নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাধীন সংলাপ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তর্কে জড়ান রাশেদ খান ও সারোয়ার তুষার।

৪২ মিনিটের ওই আলোচনার শেষ দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থাপিকা রাশেদকে উদ্ধৃত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে একটি প্রসঙ্গে যেতে চাইলে তুষার রাশেদের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একপর্যায়ে রাশেদকে উদ্দেশ করে তুষার বলেন, ‘উনি (রাশেদ) শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে এমন অনেক কথাই বলেন। মিথ্যা কথা বলায় ওনার বিরাট… আছে।’ এরপর থেকে মূলত টকশো আর এগোতেই পারেনি। জুলাই আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল, কে মামলা খেয়েছে আর কে খায়নি- সেসব নিয়ে তর্কে জড়ান দুই বক্তা।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে সারোয়ার তুষারের বক্তব্যের জবাব দেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল এটিএন নিউজ টকশোতে আমি পুরোটাই গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সারোয়ার তুষার শেষ পার্টে এসে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটাক করে বলেছে, মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকি! এটা নাকি তাকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেছে! কোন নেতারা? যারা গণঅভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে! অথচ আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এ প্রসঙ্গে সে আমাকে বলেছে, জেল তো চুরির মামলায়ও হয়! তার কাছে জেল-জুলুমের কোন মূল্য নাই! অথচ আমি ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। সে সময় তাকে কখনো রাজপথে দেখি নাই।’

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেবো। শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সাথে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি।’

রাশেদের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির বৈঠক তার মাধ্যমে হয়েছিল।

১৮ জুলাই তিনি সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খানকে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান এবং এ নিয়ে সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি আহনাফ সাঈদ খানের কাছে কর্মসূচি বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ আরও বলেন, ‘১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তার করার পরে আমার বাসায় ২ বার অভিযান চালায়। এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (সালাহউদ্দিন আহমদ) নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে এরেস্ট হলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যেয়েন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

আন্দোলনের শেষ পর্যায়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘এছাড়া যখন আন্দোলন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, নতুনভাবে আন্দোলন শুরু করার জন্য ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নামলো, সেটাও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি পরামর্শের ভিত্তিতে ঠিক করেছিলাম। ৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তার ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।’

টকশোতে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘যাইহোক, গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিলো। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিলো, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? সে উত্তরে বলেছে, ১৯ জুলাই মাঠে ছিলো। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে। আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু ২য় বার আবারও বেয়াদব বলাতে আমি পাল্টা জবাব বলেছি।’

এ প্রসঙ্গে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মির্জার একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ। এ প্রসঙ্গে তিনি পোস্টে বলেন, ‘ইমতিয়াজ মির্জা ভাই লিখেছেন, ‘‘সারোয়ার তুষারকে ২০২৪ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে আমাদের ‘প্রগ্রেসিভ বিএএফ’ গ্রুপে যুক্ত করি। জুলাইয়ে আমাদের সব এক্টিভিটির হাব ছিলো প্রগ্রেসিভ বিএএফ, কারন ইয়াং ক্রাউড ছিলো আর দ্রুত এ্যাকশন নেয়া যেতো। ঠিক আগস্টের ২-৩ তারিখে আওয়ামী লীগ গুজব ছড়িয়ে দেয়, হোয়াটসএ্যাপ গ্রুপ গুলোতে যারা থাকবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। যে শোনা সেই কাজ, সারোয়ার তুষার এর মত বিশাল বিশাল বিপ্লবীরা গ্রুপ থেকে চম্পট দেয়’’।’

সবশেষে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বিতর্কের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দিবো! এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না। আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান, আবার এতো চেতেন কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, নতুবা ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কারও পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরও বেশি আসবে।’

রাশেদের ওই পোস্টের পর তাকে ইঙ্গিত করে পাল্টা জবাব দেন সারোয়ার তুষারও। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এ নেতা দাবি করেন, দেনদরবার বা লবিং করে তিনি টকশোতে যান না। তাকে টকশোতে ডাকতে কারও মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রযোজকদের তদবিরও করান না।

সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘আমি দেনদরবার কিংবা লবিং করে টকশোতে যাই না। আমাকে টকশোতে যেন ডাকে সে জন্য অমুক-তমুককে দিয়ে টকশো প্রডিউসারদের তদ্বিরও করাই না। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে টেলিভিশন হাউজগুলোকে চাপ দিয়ে নিজেকে টকশো আলোচক বানাই নাই।’

‘এমন দলছুট ভ্যাগাবন্ড কারো কারো কথা জানি, যারা হাউজগুলোতে সরকারি ক্ষমতার জোরে চাপ সৃষ্টি করে টকশোতে যায়৷ কারণ সরকারের কাছ থেকে যে খুদকুঁড়া পায়, তা হালাল করতে হবে তো! আমি কারো নাম নেই নাই, কিন্তু দেখবেন ঠিকই জায়গামতো গিয়ে ঢিলটা পড়বে!’ যোগ করেন তিনি।

‘মিডিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক শতভাগ অর্গানিক’ উল্লেখ করে তুষার বলেন, ‘বিভিন্ন নিউজের জন্য বাইট দেয়া, টকশোতে যাওয়া, কোথাও কথা বললে সেটা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা— আমার প্রতি মিডিয়ার এই মনোযোগের জন্য আমি এতটুকু দেনদরবার, তদ্বির করি নাই। এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী হাউজগুলোর সিইও, সিএনই ও প্রডিউসাররা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬: জাতীয় সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সুপরিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের দীর্ঘ সময় ধরে আনা রিটের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রিট খারিজের এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। অন্যদিকে রিটের পক্ষে রিটকারি আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ স্বয়ং নিজেই শুনানি করেন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২০ আগস্ট।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আরও আগে একবার রিট করেছিলেন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত একটি আদেশ প্রদান করে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল জারি করেন। তবে বেঞ্চের অপর বিচারপতি রিট খারিজের আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বিষয়টি আবার হাইকোর্টের আরেকটি (তৃতীয় বেঞ্চ) একক বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। সে বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেন।

আদেশের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিজয়। হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা/কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালনের জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং বিজয়-১৪ আদালতে দায়িত্ব পালনকারী সকল আইন কর্মকর্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প, সত্যিই কি বেশি কাঁপছে পৃথিবী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প, সত্যিই কি বেশি কাঁপছে পৃথিবী?

গত মাসে ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার তিনটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানা হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের কারণে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

জুন মাসে উত্তর ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে এখন একটি প্রশ্ন মাথাচাড়া দিচ্ছে, পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি কাঁপছে?

২০২৬ সালের ১০টি বৃহত্তম ভূমিকম্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি ফিলিপাইনে ঘটেছিল। জুনে মিন্দানাওয়ের উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার ফলে ১০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। একই মাসে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫। এসব ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে জুলাইয়ে মেক্সিকো এবং আগস্টে কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব ভূমিকম্পের সবগুলোর মাত্রাই ছিল ৭ দশমিক ৪ বা তার বেশি।

২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৬ বা তার বেশি মাত্রার ১৩৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বছরভেদে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৪ সালে সবচেয়ে কম ৯৯টি এবং ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি ১৫৭টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ২০২৬ সালের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬ বা তার বেশি মাত্রার ৯১টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ মাত্রার বেশি ছিল ১১টি।

এই সংখ্যা গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও এখনো স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে। এ বছর এখনো ৮ বা ৯ মাত্রার কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি। সাধারণত এ ধরনের ভূমিকম্প অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে।

একটি ভূমিকম্পের প্রাণঘাতী হতে কতটা নির্ভর করে, তা শুধু এর মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। বরং ভূমিকম্পটি কোথায় আঘাত হেনেছে, সেটিই প্রকাণ্ড প্রসঙ্গ। ভূমিকম্পের গভীরতা, জনবসতিপূর্ণ শহরের কতটা কাছে এটি আঘাত করেছে এবং ওই এলাকার ভবনগুলোর ক্ষেত্রে তারা কতটা শক্তিশালী, সবকিছু ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম নেই। বছরের সব সময়েই ভূমিকম্প ঘটে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমি ধারা থাকে না। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানায়, বিজ্ঞানীরা এখনো এটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি কবে একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানবে। কারণ, ফল্ট লাইনে চাপ জমতে থাকা বছরের নির্দিষ্ট চক্রের সঙ্গে মেলানো সম্ভব নয়। ভূমিকম্পের পরপরই আফটারশকের ঝুঁকি শেষ হয় না, বরং এটি কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হলো প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার। পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প এই অঞ্চলে ঘটে। এটি পশ্চিম আমেরিকা থেকে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। রিং অব ফায়ারের মধ্যে জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে। এসব দেশে সাধারণত শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

কিন্তু শুধুমাত্র রিং অব ফায়ারেই ভূমিকম্প ঘটে না। জাভা থেকে হিমালয়, তারপর তুরস্ক ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আল্পাইড বলয়ের মধ্যে কঠোর ভূমিকম্প ঘটে। পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় ১৭ শতাংশ এই অঞ্চলে হয়।

ভূমিকম্পের শক্তি বা মাত্রা মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল দিয়ে মাপা হয়। সাধারণভাবে বললে, ভূমিকম্প যত শক্তিশালী হয়, এর মাত্রা তত বেশি হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা লগারিদমিক স্কেলে মাপা হয়, যেখানে এক ধাপ বাড়লে ভূমিকম্পের কম্পন তীব্রতা প্রায় ১০ গুণ এবং নির্গত শক্তি প্রায় ৩২ গুণ বাড়ে।

এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প চিলিতে আঘাত হেনেছিল। ১৯৬০ সালের ২২ মে চিলির ভালদিভিয়া অঞ্চলে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয়। ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডে ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিরাজমান। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের উপকূলে ৯ দশমিক ১ থেকে ৯ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাবে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার মানুষ নিহত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

গোপালগঞ্জের বৌলতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে ট্রাকের চালক ও সহকারীও রয়েছেন। সংঘর্ষের ফলে বাসের অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের সদর উপজেলার বৌলতলী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বৌলতলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউল আলম জানান, মাদারীপুর থেকে ছাড়া সোনালী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস যখন বৌলতলী এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে বাসটি রাস্তার পাশে খাদে ছিটকে পড়ে যায় এবং ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক নারী যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এরই মধ্যে নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%