০৬:১৭ পি.এম
সিলেট থেকে ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের সঙ্গে টিকিটের নামের মিল থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির মিল না থাকলে যাত্রীদের ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন এই ঘোষণা দেন। অভিযানে অনলাইনে কাটা টিকিটের নামের সঙ্গে একাধিক যাত্রীর মূল পরিচয়ের কোনো মিল না পাওয়ার পর প্রশাসন এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: ইমদাদুল হক মিলন উদ্বোধন করলেন সেরাদেশ ওয়েব পোর্টাল
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "আগামী ১২ অক্টোবর থেকে টিকিটের নাম ও যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের মিল না থাকলে যাত্রীকে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি সিলেট থেকে ঢাকা বা অন্য কোথাও যেতে চান তাহলে অবশ্যই তার টিকিটের সঙ্গে এনআইডি কার্ডের নাম মিলতে হবে। আজকে আমরা দেখেছি কিছু কিছু যাত্রীর টিকিটের সঙ্গে এনআইডির নাম মিলছে না। আমরা তিন-চারদিন সময় দিচ্ছি। ১২ তারিখ থেকে কঠোর অপারেশন শুরু হবে। আমি চেক করব। রেল স্টেশনে রেগুলার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।"
জেলা প্রশাসন জানায়, সাধারণ মানুষের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও কালোবাজারিমুক্ত রাখতে এই তদারকি নিয়মিত চলবে। গত বছরের অক্টোবরেও তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে নিজ নামে টিকিট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর প্রশাসনের সেই নজরদারি থেমে গেলে আবারও টিকিট নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে কালোবাজারি চক্র। সিলেট রেল স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে ঢাকা-সিলেট সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এতে বেড়েছে কালোবাজারিও। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার তিন-চার মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যার বড় অংশই কালোবাজারিরা কিনে নেয়।
ট্রেনের টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ ও যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে সম্প্রতি সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন।
সিলেটে ট্রেনের টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-কে। এই মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতে রেলস্টেশনে অভিযানে যান জেলা প্রশাসক।
আরও পড়ুন: নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু, জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
এর আগে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ম্যাজিস্ট্রেটের মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।
জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকায় উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এসব রুটের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। যেটি নজরে আসে আদালতের।
পরবর্তীতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের সব টিকিট বিক্রির বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে। এরই প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি এজাহারে কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেলেও পরে অধিক মূল্যে বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে কুমারী পূজা পরিদর্শনে কায়সার কামাল, দিলেন সম্প্রীতি ও শিক্ষার বার্তা
বিষয়টি নজরে আসার পর ট্রেনের টিকিট বিক্রির সরকারি ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন আদালত। সেখানে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। বিপুলসংখ্যক টিকিট এত অল্প সময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয় আদালতের।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, একটি চক্র ট্রেনের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারও কারও সহযোগিতায় মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের টিকিট সরিয়ে নিয়ে পরে তা অধিক মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, রেলের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে হয়। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রিতে আমাদের কোনো হাত নেই।
আরও পড়ুন: আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে পূর্বধলায় ৬৬ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন