০৩:৫৫ পি.এম
নেত্রকোণা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভুক্ত ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোক সাহিত্য গবেষণা একাডেমি থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, বরং নেত্রকোনা জেলার আরও পাঁচটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ, জেলার ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, এসব প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিওভুক্ত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
কলেজের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
পূর্ববর্তী বছরেও এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হন। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শাহ্পুর গ্রামে ‘ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সুন্দর ভবন নির্মিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও ফলাফলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের সাফল্য পাচ্ছে না।
চলতি বছর কলেজটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। এ ব্যাপারে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই।’ ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আপনাদেরকে কিছু বলতে চাই না, যা বলার শিক্ষা বোর্ডকে বলব।’
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ড্যাবের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
জেলায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এবার নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯ শত ১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৮ শত ৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে তরুণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেন,১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন