০৩:৫২ পি.এম
বিশ্বের অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের সঙ্গে শেখ হাসিনার তুলনা করা যায় না, মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি রবিবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এই আলোচনা সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার তুলনা মুসোলিনি এবং হিটলারের সঙ্গে করা যায় না। কারণ তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চান, জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও; এতে তার কিছু যায় আসে না। শুধু তাকে সমর্থন করতে হবে। এই কারণেই জনগণের প্রতি তিনি কোনও গুরুত্ব দেননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। এই টিকে থাকার জন্য তিনি এত রক্তের বন্যা বইয়েছেন। জনগণের মধ্যে এত বড় শক্তি থাকতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী দলের কোনও জায়গা ছিল না। কথা বলারও সুযোগ ছিল না। এই কারণে ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষকদের আক্রান্ত হতে হয়েছে। আসিফ নজরুলের চেম্বারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর করেছে। আরও অনেক শিক্ষক কথা বলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিই ছিল দুঃশাসনের উদাহরণ।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এইভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে জুলাইয়ে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
জুলাইয়ের চেতনাকে প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চেতনা হচ্ছে হৃদয়ের বন্ধন। আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে। এখনও অনেকে বলেন, তারাই ভালো ছিলেন। ফ্যাসিবাদের লোকজন এখনো বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছে। তাদের প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
রিজভী আরও বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে এটুকু বলতে চাই, এ ধরনের পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন হয় না। এই চেতনাকে ধারণ করে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি ভুল করি, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ আবার অন্য কোনো পথ বা চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা কিছু করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।
রিজভী বললেন, গত ১৭ বছর দেশে প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া হয়নি। সাংবাদিকরা এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় বিভিন্ন অভিভাবকের মতামত জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ফলাফল যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সত্যকে প্রকাশ না করে নিজের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য বিষয়গুলোকে বাড়িয়ে দেখালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গত ১৭ বছর এমন কাজই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: ২ পক্ষ ১ হয়েছে, সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ।
এই সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন