ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চরফ্যাশন ৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার


চরফ্যাশন ৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

চরফ্যাশন থানা পুলিশের একটি অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। চরফ্যাশন থানা পুলিশ এই অভিযানটি পরিচালনা করে।

আজ ২৯ আগষ্ট শনিবার দুপুর সারে ১২ টার দিকে চরফ্যাশন পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বিএড কলেজ সড়কের সুশান্তের চায়ের দোকানের সামনে এই অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন কুলসুমবাগ এলাকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে শাহাদাত হোসেন তামিম (২০) এবং অপরজন একই এলাকার নিরব মিয়ার ছেলে বনি আমিন (১৯)।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১৮ হাজার টাকা।

চরফ্যাশন থানার এসআই মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করেছে, এমনটি জানিয়েছেন চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, আসামীদেরকে আজ বিকালে চরফ্যাশন চৌকি আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদেরকে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি শক্তির ইশারায় সরকারের সফলতা ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: গয়েশ্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


বিদেশি শক্তির ইশারায় সরকারের সফলতা ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: গয়েশ্বর

ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিদেশি শক্তির ইশারায় বর্তমান সরকারের সফল কর্মকাণ্ডকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ষড়যন্ত্র আপাতত দৃশ্যমান না হলেও ভবিষ্যতে দৃশ্যমান হবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কিছু কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা শুরু করেছেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব। তবে বিগত ১৭ বছরে তৎকালীন সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। 

চুনকুটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহমুদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শুভাঢ্যা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন সোহেল, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে: বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে: বিশ্লেষক

চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে ইরান; এমন কথাই বলেছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মারান্দি। আল মায়াদিনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট স্ট্যান্ডঅফ: ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ তিনি জানান, তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানব ইতিহাসের নজিরবিহীন।

পেন্টাগনের সাবেক সিনিয়র সিকিউরিটি পলিসি অ্যানালিস্ট মাইকেল মালোফের সঙ্গে এই আলোচনায় মারান্দি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধাপে এই সংঘাত চালিয়ে আসছে, যার মধ্যে বর্তমান যুদ্ধ গত ছয় মাস ধরে চলছে। বর্তমান যুদ্ধের পর্যায়টিকে তিনি অবরোধ যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে একে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, সরাসরি বোমা হামলা চালিয়ে স্কুল বা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শিশুদের হত্যার পরিবর্তে অবরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে দেশের সমস্ত কিশোর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মারান্দি বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর তীব্রতা মানব ইতিহাসে তুলনাহীন, তবুও ইরানিরা অটল রয়েছে এবং আগ্রাসীদের শাস্তি দেবে। এর আগে ৪০ দিনের যুদ্ধ, অবরোধ যুদ্ধ এবং ১৩ দিনের সংঘাতেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরিহার করে টিকে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান অবরোধের কারণে জনজীবন কঠিন হলেও ইরান তার প্রতিরোধ এবং মিত্রদের নিয়ে টিকে থাকার অনন্য ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। 

এছাড়া নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য বলে সতর্ক করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং আঞ্চলিক সরকারগুলো তাতে সহযোগিতা করে, তবে তেহরানের জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত। ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে যোগসূত্র টেনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে রাশিয়া ও ইরান উভয়েই একে অপরের প্রতিরোধ থেকে লাভবান হয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক পেন্টাগন বিশ্লেষক মাইকেল মালোফ এই সংঘাতকে ত্রুটিপূর্ণ ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মার্কিন নীতির সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিণতি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ভুল করেছে এবং এই যুদ্ধ মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেখানে সামরিকভাবে তুলনামূলক কম সক্ষম একটি দেশ পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

মালোফের মতে, ইরান, রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে শিখেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিচ্ছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও এখন মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ এই ঘাঁটিগুলো সুরক্ষার বদলে নিজেদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আল মায়াদিন 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে তিনি এ বার্তা দেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।’

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হচ্ছে— গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করেছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব উদ্বৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের সামনে থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। অপরদিকে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি।

তিনি বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য দুনিয়াজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।  

আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে শনিবার (২৯ আগস্ট) এ দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই দিনে আমরা গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাদের শোকার্ত ও প্রতীক্ষারত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। প্রিয়জন হারানোর নির্মম যন্ত্রণা কতটা দুঃসহ, তা ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও প্রিয় মানুষের সন্ধান না পেয়ে অগণিত পরিবার আজও গভীর মানসিক ট্রমা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে; অনেক পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্বৈরাচারী শাসকদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহু মানুষ প্রতিনিয়ত গুম হচ্ছেন। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধ করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা, যেখানে বছরের পর বছর ধরে নিরীহ মানুষের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম নির্যাতন চালানো হয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে এভাবে নাগরিকদের গুম করে রাখা কেবল মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনেরও সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৮ বছরের অবর্ণনীয় বন্দিদশা ও গুম থাকার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে আসলেও, জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তি আজও ফিরে আসেননি। তাদের ভাগ্য এখনও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঝুলছে।

তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নবগঠিত সরকার অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করতে অস্বীকৃতি জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধ্যাদেশটির বিভিন্ন বিধানে অসঙ্গতি রয়েছে। তাই এগুলো অনুমোদন না করে সরকার বলেন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই বাছাইক্রমে ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে।

‘সংসদের প্রথম অধিবেশন আহবানের ৩০ দিন পরে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ এর কার্যকারিতা লোপ পায়। সরকার পরবর্তীতে উক্ত অধ্যাদেশটিতে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন খসড়া বিল প্রণয়ন করেছেন। কিন্তু উক্ত খসড়া বিলে আইনটি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যকেই অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন খসড়া বিলে গুম সংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গুমের মতো গুরুতর অপরাধ, যা সাধারণত শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তার অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে প্রদান করা হয়েছে। তদন্তের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গুম একটি বিশেষ ধরনের অপরাধ যার মোকাবিলায় বিশেষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অপরাধের তদন্তভার পুনরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই তুলে দেওয়া একটি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। 

তাছাড়া, গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুমের ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন সরকার নিজেই সম্পৃক্ত থাকে। তাই সরকারের অধীনে এই তথ্যভাণ্ডার কতটা নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষিত হবে এবং জনগণের সামনে গুমের সঠিক তথ্য প্রকাশ পাবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, নতুন বিলে গুম সংক্রান্ত তদন্ত ও অনুসন্ধানসহ সমস্ত কার্যক্রম থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ গুমের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও  যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতেই থাকা উচিত ছিল। এছাড়া সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’-এর জন্যেও একটি নতুন খসড়া বিল প্রণয়ন করেছে, যেখানে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনকে কার্যত একটি নখদন্তহীন বাঘ-এ পরিণত করা হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সরকার এই মানবিক সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। নিখোঁজ ও গুম হওয়া সকল নাগরিককে দ্রুত সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, গুমের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তি ও মাস্টারমাইন্ডদের বিচারে আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। 

আমরা আরও প্রত্যাশা করি যে, সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসবে। জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা চিন্তা করবে। জনগণের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমকে একটি বিশেষ অপরাধ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করবে। একইসঙ্গে এই বিশেষ ধরনের অপরাধের সঠিক অনুসন্ধান, সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের জন্য একটি বিশেষ ও স্বাধীন আইনি কাঠামো গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%