০২:১১ পি.এম
ভারতের কারাবন্দি মানবাধিকারকর্মী উমর খালিদ ২০২৬ সালের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স অ্যাট রিস্ক’ পুরস্কার লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আয়ারল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স এ বছরের পুরস্কারপ্রাপকদের নাম প্রকাশ করে। কারাগারে থাকার কারণে খালিদ ডাবলিনে অনুষ্ঠিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের মামলায় ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ছয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটির বিচার এখনও শুরু হয়নি।
এ বছরের পুরস্কারে খালিদের সঙ্গে সম্মানিত হয়েছেন ইরানের মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কর্মী আহমাদরেজা হায়েরি, অ্যাঙ্গোলার নারীবাদী ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের অধিকারকর্মী লরিন্ডা ম্যানুয়েল গুভেইয়া, ব্রাজিলের কৃষ্ণাঙ্গ ট্রান্স নারী অধিকারকর্মী আদ্দা ভিক্টোরিয়া কায়েতানো এবং সার্বিয়ার নারীবাদী শান্তি প্রতিষ্ঠার কর্মী লিলিয়ানা নেশিচ।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই ‘এনকাউন্টার’, বিজেপি সরকারের বার্তা কী?
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় ৫৩ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন, যাদের অধিকাংশই মুসলিম।
উমর খালিদ, শারজিল ইমামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন প্রতিরোধ আইন, অস্ত্র আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পুলিশের দাবি, সহিংসতা ছিল নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। আন্দোলনকারীরা এই পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও পুলিশের দাবি।
তবে ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স উল্লেখ করেছে যে, খালিদের দীর্ঘদিনের কারাবাস ভারতে ভিন্নমতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ক্রমবর্ধমান প্রয়োগের একটি উদাহরণ। সংগঠনটির মতে, জনমত গঠনে অনুগত গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই কঠোর জামিন-সংক্রান্ত বিধানকে শাস্তির মতো ব্যবহারের প্রবণতাও উদ্বেগজনক।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ ধরনের প্রবণতায় মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চাকারী শিক্ষার্থীরা অসমভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
আরও পড়ুন: কোরিয়ায় বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের ওপর জরিমানা বন্ধে নজরদারির তাগিদ
ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্সের মতে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মহারাষ্ট্রের আমরাবতীতে দেওয়া খালিদের ভাষণকে প্রসিকিউশন পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখালেও বক্তব্যটি উসকানিমূলক ছিল না। ওই ভাষণে খালিদ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করেন। তিনি ‘ইনকিলাবি সালাম’ ও ‘ক্রান্তিকারি ইস্তিকবাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির ভারত সফরের সময় অহিংস প্রতিবাদের আহ্বান জানান।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট তৃতীয়বারের মতো উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন নাকচ করে। আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্টের ৫ জানুয়ারির আদেশে নির্ধারিত শর্ত পরিবর্তন করার সুযোগ তাদের নেই। বিচারিক শৃঙ্খলার বাধ্যবাধকতার কারণে ওই আদেশ অনুসরণ করতে হচ্ছে বলেও জানায় হাইকোর্ট।
এর আগে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট খালিদ ও ইমামের জামিন আবেদন নাকচ করলেও গালফিশা ফাতিমা, মীরা হায়দার, শিফা-উর-রহমান, মুহাম্মদ সেলিম খান ও শাদাব আহমেদকে জামিন দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সুরক্ষিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ আগে শেষ হলে খালিদ ও ইমাম তখনই আবার জামিনের আবেদন করতে পারবেন। আর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হলে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাঁরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। তথ্যসূত্র: স্ক্রল ডটইন
আরও পড়ুন: সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট চালুর সুখবর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন