শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫২ পি.এম
জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘ কোথায় পিছিয়ে পড়ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। যেসব বিষয় আর কার্যকর নয়, সেগুলোতে সংস্কার আনতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আস্থা চাওয়া যায় না, এটি অর্জন করতে হয়।’ শিল্প খাতের নেতা থেকে শুরু করে তরুণ পরিবর্তনকারীদের মতো আরো বেশি কণ্ঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আরো বলেন, এবারের অধিবেশন এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে, যা কঠিন বাস্তবতা মোকাবেলায় যথেষ্ট বাস্তববাদী, সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সাহসী এবং প্রয়োজনীয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্মুক্ত।
এভাবেই জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আমিন বাজারে এসআই আলতাব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নাম্বার আসামি মারুন (২০) পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১.৩০ মিনিটে আমিন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. জাকির আল আহসান এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স-সহ বড়দেশী পশ্চিম পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় মারুনকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আলতাব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রিমান্ডের আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আকস্মিক বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নেইমার অবসর গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই ফুটবল জগতে চলছিল আলোচনা—পরবর্তী বিশ্বকাপচক্রে সেলেসাওদের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটি কার গায়ে উঠবে? অবশেষে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) সেই কৌতুহলের উত্তর দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতির সময় তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য নতুন জার্সি নম্বর প্রকাশ করেছে তারা, যেখানে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সিটি পেয়েছেন বার্সেলোনা তারকা রাফিনিয়া।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে ১১ নম্বর জার্সি পরে খেলা রাফিনিয়া বর্তমানে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তিনি চলতি মৌসুমে ৮ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন এবং ৩টি গোল করিয়েছেন। এই ভূমিকা ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়, যা অতীতে কিংবদন্তি পেলে, জিকো, রোনালদিনহো, কাকা ও নেইমার ধারণ করেছেন।
জার্সি নম্বরে এসেছে আরও একাধিক পরিবর্তন। রাফিনিয়ার সাবেক ১১ নম্বর জার্সিটি এখন চেলসি উইঙ্গার এস্তেভাওয়ের গায়ে, যিনি পূর্বে ২০ নম্বর পরতেন। মাতেউস কুনিয়ার অনুপস্থিতিতে ৯ নম্বর জার্সি পেয়েছেন এনদ্রিক, দগলাস সান্তোস পেয়েছেন ৬ নম্বর এবং কাসেমিরোর ৫ নম্বর জার্সিটি উঠেছে দানিলো সান্তোসের গায়ে। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৭), ব্রুনো গিমারাইস (৮) এবং মারকিনিওস (৪) তাদের পূর্বের জার্সি নম্বরই ধরে রেখেছেন।
গুঞ্জন ছিল ভিনিসিয়ুস বা এস্তেভাও ১০ নম্বর জার্সি পেতে পারেন, কিন্তু সাম্প্রতিক ক্লাবের দুর্দান্ত ফর্ম রাফিনিয়াকেই এই সম্মানের দৌড়ে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এবং তাদের সঙ্গে ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টদের সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদাখালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, ‘গালিগালাজ এমনভাবে করে, এটা হলো বিরোধী দলের গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যদি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এ রকম হয়, তাহলে এদেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তাদেরকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলা যাবে না। তারা নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য। তারা নিজেদের মুখেই বলছে ১১ দলের দাবি না মানলে বোমাবাজি বন্ধ হবে না, ককটেলবাজি বন্ধ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে, তারা ওই পাড়ে বসে তাদের কাজ, তাদের গাড়িতে আগুন, তাদের নেতৃত্বে ককটেল মারা, তাদের নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল করা, আর বর্তমান বিরোধী দলের অপকর্ম, কথাবার্তা, কর্মকান্ডের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দেশের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তাদেরকে স্মরণ করে দিচ্ছি, এটা জিয়ার দল, এটা খালেদা জিয়ার দল, আন্দোলন করতে করতে এখানে এসেছি, রাজপথ থেকে আমরা উঠে এসেছি, রাজপথে আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করেছি। আগামী দিনে এই অপশক্তিকে আমরা মোকাবেলা করব রাজপথে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি ও সদর (পূর্ব) উপজেলার বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা—এবার বাম্বালিতে ৫০০ হেক্টরের কৃষি ও বনভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মানে।
ফুটবল মাঠে সাফল্যের পর, নিজের শিকড়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির আগেই গড়েছেন সাদিও মানে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন সেনেগালের এই তারকা। নিজের জন্মস্থান বাম্বালিতে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০ হেক্টর কৃষি ও বনভিত্তিক এলাকা, প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ এবং স্থানীয় আম প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি সৌরশক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এতে প্রায় ২,৫০০ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
মানের কাছে উদ্যোগটির গুরুত্ব বিনিয়োগের অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের আলো, বড় ম্যাচ কিংবা শিরোপা জয়ের আগেই তাঁর জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল বাম্বালিতে। তাই এবার এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চান, যেখানে স্থানীয় মানুষ কেবল সহায়তা পাবেন না; কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগও পাবেন।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে বাম্বালির জন্য মানের কাজ শুরু হয়েছে আরও অনেক আগে। ২০১৮ সালে নিজের জন্মস্থানে একটি ১৭ কক্ষের মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত না। কাছাকাছি উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও আবাসনের সংকট ছিল এর অন্যতম কারণ। বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগটি সেই সমস্যার বাস্তব সমাধানের অংশ ছিল।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় অবদান রেখেছেন মানে। ২০২১ সালে বাম্বালিতে একটি হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড অর্থায়ন করেন তিনি। হাসপাতালটি শুধু নিজের গ্রামের মানুষের জন্য নয়, আশপাশের ৩৪টি গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও তৈরি করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের সঙ্গে মানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও যোগ রয়েছে। চিকিৎসাসুবিধার অভাবে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর নিজের এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি মানের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেও সরাসরি সহায়তা করেছেন এই ফুটবলার। ২০২২ সালে বাম্বালির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেরা ৪০০ শিক্ষার্থীকে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য উৎসাহিত করাও ছিল তাঁর লক্ষ্য।
বাম্বালির সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নেও মানের অবদান রয়েছে। হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের পাশাপাশি তিনি মসজিদ, ডাকঘর ও একটি পেট্রোল স্টেশন নির্মাণে অর্থায়ন করেছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কয়েকটি মৌলিক সেবা নিজ এলাকাতেই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তাঁর সহায়তা শুধু বড় অবকাঠামো প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাম্বালির প্রতিটি পরিবারকে মাসে প্রায় ৭০ ইউরো করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন মানে।
ফুটবলের মাধ্যমে গ্রামের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। লিভারপুলে খেলার সময় বাম্বালির তরুণদের জন্য ৩০০টি লিভারপুল জার্সি উপহার দিয়েছিলেন মানে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সাদিও মানের দাতব্য কর্মকাণ্ডের ধরনও বদলেছে। শুরুতে ছিল সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও অবকাঠামো নির্মাণ; এরপর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। আর এখন তাঁর লক্ষ্য কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি।
“আমি শুধু যে গোলগুলো করেছি, সেগুলোর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাই না। স্টেডিয়াম, আলো আর বিজয়ের আগে—ছিল বাম্বালি…” — সাদিও মানে।
এসএম১০ অ্যাগ্রো পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে বাম্বালিতে মানের উদ্যোগের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে—যেখানে শুধু অর্থ ব্যয় নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিই হবে মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ