প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা—এবার বাম্বালিতে ৫০০ হেক্টরের কৃষি ও বনভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মানে।
ফুটবল মাঠে সাফল্যের পর, নিজের শিকড়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির আগেই গড়েছেন সাদিও মানে। এবার সেই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন সেনেগালের এই তারকা। নিজের জন্মস্থান বাম্বালিতে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০ হেক্টর কৃষি ও বনভিত্তিক এলাকা, প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ এবং স্থানীয় আম প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি সৌরশক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এতে প্রায় ২,৫০০ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
মানের কাছে উদ্যোগটির গুরুত্ব বিনিয়োগের অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের আলো, বড় ম্যাচ কিংবা শিরোপা জয়ের আগেই তাঁর জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল বাম্বালিতে। তাই এবার এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চান, যেখানে স্থানীয় মানুষ কেবল সহায়তা পাবেন না; কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগও পাবেন।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের আধুনিক কৃষিপদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে বাম্বালির জন্য মানের কাজ শুরু হয়েছে আরও অনেক আগে। ২০১৮ সালে নিজের জন্মস্থানে একটি ১৭ কক্ষের মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত না। কাছাকাছি উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও আবাসনের সংকট ছিল এর অন্যতম কারণ। বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগটি সেই সমস্যার বাস্তব সমাধানের অংশ ছিল।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় অবদান রেখেছেন মানে। ২০২১ সালে বাম্বালিতে একটি হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড অর্থায়ন করেন তিনি। হাসপাতালটি শুধু নিজের গ্রামের মানুষের জন্য নয়, আশপাশের ৩৪টি গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও তৈরি করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের সঙ্গে মানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও যোগ রয়েছে। চিকিৎসাসুবিধার অভাবে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর নিজের এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি মানের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেও সরাসরি সহায়তা করেছেন এই ফুটবলার। ২০২২ সালে বাম্বালির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেরা ৪০০ শিক্ষার্থীকে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য উৎসাহিত করাও ছিল তাঁর লক্ষ্য।
বাম্বালির সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নেও মানের অবদান রয়েছে। হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের পাশাপাশি তিনি মসজিদ, ডাকঘর ও একটি পেট্রোল স্টেশন নির্মাণে অর্থায়ন করেছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কয়েকটি মৌলিক সেবা নিজ এলাকাতেই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তাঁর সহায়তা শুধু বড় অবকাঠামো প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাম্বালির প্রতিটি পরিবারকে মাসে প্রায় ৭০ ইউরো করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন মানে।
ফুটবলের মাধ্যমে গ্রামের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। লিভারপুলে খেলার সময় বাম্বালির তরুণদের জন্য ৩০০টি লিভারপুল জার্সি উপহার দিয়েছিলেন মানে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সাদিও মানের দাতব্য কর্মকাণ্ডের ধরনও বদলেছে। শুরুতে ছিল সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও অবকাঠামো নির্মাণ; এরপর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। আর এখন তাঁর লক্ষ্য কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি।
“আমি শুধু যে গোলগুলো করেছি, সেগুলোর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাই না। স্টেডিয়াম, আলো আর বিজয়ের আগে—ছিল বাম্বালি…” — সাদিও মানে।
এসএম১০ অ্যাগ্রো পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে বাম্বালিতে মানের উদ্যোগের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে—যেখানে শুধু অর্থ ব্যয় নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিই হবে মূল লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন