ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি ও মালামাল জব্দের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই


মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি ও মালামাল জব্দের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি ও বিভিন্ন মালামাল জব্দের ঘটনায় তার আইনজীবীরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারা এ অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, এটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিশোধমূলক’ এবং জব্দ করা পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য সামগ্রী অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তদন্ত করছে যে, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ইলহান ওমর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে নিজের বয়স সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন কি না। এই তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার ওয়াশিংটনের বাসায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এ সময় তারা বেশ কিছু নথিপত্র, মুঠোফোন, নোটবুক, ল্যাপটপ ও পাসপোর্ট জব্দ করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ফক্স নিউজ জানায়, ফেডারেল কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইলহান ওমরের আইনজীবীরা তল্লাশির আইনি ভিত্তি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে আইন লঙ্ঘনের কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচনের ৬০ দিনের মধ্যে এ ধরনের তল্লাশি না চালানোর দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উপেক্ষা করে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। তাছাড়া, তল্লাশির সময় ইলহান ওমরকে পরোয়ানার কোনো অনুলিপি দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীরা আরো দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম শীর্ষ কংগ্রেসীয় সমালোচক ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নেওয়া এ পদক্ষেপ তার সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ক্ষমতার ভারসাম্যও ক্ষুণ্ন করে।

অন্যদিকে, অভিযানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। তিনি দাবি করেন, এটি কেবল দেশের আইন প্রয়োগের অংশ এবং এ পদক্ষেপের পেছনে জোরালো তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

নাগরিকত্বসংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি, ইলহান ওমরের আর্থিক বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে, আর্থিক বিবরণীতে তার স্বামীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্য সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু

তবে নাগরিকত্ব ও আর্থিক অনিয়মের সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইলহান ওমর। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

সূত্র: ফক্স নিউজ

এআরবি

আরও পড়ুন: ৩ নারীকে ধর্ষণে দণ্ডিত, ২০ বছর পর মুক্তি—ক্ষুব্ধ ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়র

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে ব্যানার টানানোর ঘটনায় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ককে প্রশাসনের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


ইবিতে ব্যানার টানানোর ঘটনায় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ককে প্রশাসনের সতর্কতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্যাম্পাসে ব্যানার টানানোর অভিযোগে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ককে প্রশাসন শোকজের পর লিখিতভাবে সতর্ক করেছে। প্রশাসন জানায়, ভবিষ্যতে নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রক্টর অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রক্টর অফিসের সূত্রে জানা যায়, ৫ অক্টোবর (২০২৬) ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বরে গাছের সাথে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ নাম সংবলিত ব্যানার টানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে লিখিত জবাব ও প্রতিবাদলিপি জমা দেওয়া হয়। জবাবে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্দিষ্ট বিধি সম্পর্কে জানতে চান।

লিখিত জবাবের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এই নোটিশের মূল বিষয় নয়; বরং এটি ক্যাম্পাসে প্রচার ও সমাবেশ সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির সাথে সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীদের আচরণবিধির ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থী মুদ্রিত বা প্রচারসামগ্রী বিতরণ বা প্রদর্শন করতে পারেন না।

প্রশাসন জানায়, অভিযুক্তের জবাব সন্তোষজনক না হলেও তার প্রথম অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে এবং ভবিষ্যতে বিধি মেনে চলার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কেবল লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট, সভা বা যেকোনো কর্মসূচির জন্য প্রক্টরের কার্যালয় থেকে লিখিত পূর্বানুমতি নিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জরিমানা ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়।

নোটিশ পাওয়ার পর শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, "প্রক্টর অফিসে ডেকে নিয়ে আমাদের বলা হয়েছিল, সরকারের সমালোচনামূলক কোনো ব্যানার ঝুলানো যাবে না। আমাদের প্রশ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো বিধি কি আছে, যেখানে বলা আছে সরকারের সমালোচনামূলক ব্যানার ঝুলানো যাবে না, কিন্তু প্রশংসামূলক ব্যানার ঝুলানো যাবে? আমাদের মূল প্রশ্ন এড়িয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত করে একটি বিধি দেখানো হলো।"

তিনি আরও লেখেন, "আচ্ছা Code of Conduct for Students—এর ৯ নম্বর ধারাটি নিয়ে যুক্তি তর্কে আসি। এই বিধিটি কি কেবল 'ছাত্রশক্তি'-র জন্যই প্রযোজ্য? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ঝালচত্বর পর্যন্ত ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক ব্যানার ঝুলছে। সেই ব্যানারগুলোর প্রত্যেকটির জন্য লিখিত অনুমতিপত্র প্রক্টর অফিস দেখাতে পারবে? যদি লিখিত অনুমতিপত্র দেখাতে না পারে, তবে ব্যানারগুলো ছিড়ে ফেলার সক্ষমতা কি প্রক্টরিয়াল বডির আছে? পূজার ছুটির পর বিএনপি সরকারের ২০০ দিনের ব্যর্থতার ব্যানারটি পুনরায় ঝুলানোর জন্য যদি লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়, তবে কি আমাদের তা দেওয়া হবে?"

তিনি সমালোচনা করে লেখেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা, অনিয়ম নিয়ে যদি আমরা ব্যানার প্রদর্শন করি বা লিফলেট বিতরণ করি, তাহলেও তো প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু আপনারা যদি নিজেদের ব্যর্থতার প্রচার সহ্য করতে না পেরে অনুমতি না দেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? যেই আইন আপনার পক্ষে গেলে এক রকম আর বিপক্ষে গেলে ভিন্ন রকম। সেই আইন তো আমরা মানতে পারি না।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈমান-আকিদা সুরক্ষায় খতমে নবুওয়ত নেতাদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


ঈমান-আকিদা সুরক্ষায় খতমে নবুওয়ত নেতাদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরী শাখার প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনটি শনিবার মাগরিবের নামাজের পর জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজির সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষা করা মুসলমানদের ঈমানের অন্যতম ভিত্তি।" তিনি আরও বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বশেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। তার অভিযোগ, কাদিয়ানিরা শেষ নবীর স্বীকৃতি না দিয়ে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষা এবং কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি বলেন, "ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় খতমে নবুওয়তের বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।" তিনি ঈমান ও আকিদা সুরক্ষার এ আন্দোলন জোরদার করতে সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা সুলতান মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা সালাহউদ্দীন, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা ইলিয়াছ মাদারীপুরী, মাওলানা খন্দকার মুশতাক আহমাদ, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা আল আমীন ফয়জী, মাওলানা জুবায়ের আহমাদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়া সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম, মাওলানা আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা শামসুদ্দীন বড়াইলী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, মাওলানা এহতেশামসুল হক সাখী, মাওলানা সানাউল্লাহ খাঁন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মাওলানা জাকির হুসাইন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আহসান হাবীব, মাওলানা ফখরুল আমীন, মাওলানা রায়হান ফারহাত, মাওলানা মুয়াজ্জম হুসাইন, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ, মাওলানা রশীদ আহমাদ, মাওলানা মুতাসিম বিল্লাহ, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাওলানা সাইফুল ইসলাম কালামী, মাওলানা মাসউদুর রহমান, মাস্টার শরিফুল ইসলাম, হাফেজ আবু বকর, মাওলানা ইয়ামিন আজমী, মাওলানা মোবারক হুসাইন শামীম, মাওলানা আ.শ.ম. আল আমীন, মাওলানা আ. কুদ্দুস, খাতীব আ. সালাম, মাওলানা ইরফান বিন রফীক ও মাওলানা ওমর ফারুকসহ অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদীতে আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলে ছাত্রদলের পুলিশের হস্তক্ষেপের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


ঈশ্বরদীতে আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলে ছাত্রদলের পুলিশের হস্তক্ষেপের দাবি

পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় মুফতি আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক এবং কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করার জন্য থানা পুলিশের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এই দাবিতে ঈশ্বরদী থানায় স্মারকলিপি প্রদান করেন সাহাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন। তিনি পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপিটি জমা দেন।

স্থানীয় সূত্র ও স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, আগামী ২১ অক্টোবর সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এই মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন ইতিবাচক হলেও, ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ ঘটলে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্য এবং উসকানিমূলক মন্তব্য বন্ধের জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন জানান, তারা ওয়াজ মাহফিল বন্ধের পক্ষে নন। তাদের মূল দাবি হলো ধর্মীয় মঞ্চে যেন রাজনৈতিক বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মঞ্চে রাজনৈতিক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঈশ্বরদীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় মাহফিলকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরে রাখতে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে মাহফিলের বক্তব্য কোরআন-হাদিসের আলোচনা ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মানহানিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করার এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। স্মারকলিপির বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসে গণহত্যা স্মরণে আলজেরিয়ার, তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


প্যারিসে গণহত্যা স্মরণে আলজেরিয়ার, তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি আজ ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবরের ‘প্যারিস গণহত্যা’ স্মরণ করেন। তিনি এই সময় আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ সংগ্রাম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদার প্রতি দুই দেশের অবিচল প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।

আজ ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে আয়োজিত এক স্মরণসভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উভয় জাতিই ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে তীব্র ঔপনিবেশিক ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘এই অচ্ছেদ্য ইতিহাস দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি স্থাপন করেছে।’

ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার সংগ্রামে ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবরের প্যারিস গণহত্যা একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। এই ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলজেরিয়া দূতাবাস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাইদানি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে উভয় জাতিকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি জানান, আলজেরিয়ায় ১৭ অক্টোবরকে ‘জাতীয় অভিবাসন দিবস’ (ন্যাশনাল ইমিগ্রেসন ডে) হিসেবে পালন করা হয়। এই দিবসটি প্রবাসে থাকা আলজেরীয়দের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এবং শহীদদের সম্মানে উদযাপিত হয়।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল মাজিদ তেববুন ২০২১ সালে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর এক মিনিট নীরবতা পালনের নিয়ম চালু করেন, যা পুরো আলজেরিয়াসহ বিদেশে অবস্থিত তাদের সব কূটনৈতিক মিশনে পালন করা হয়।

চলতি বছরের মূল প্রতিপাদ্য- ‘স্মৃতির গভীরতা থেকে আগামী দিনের সম্ভাবনার পথে’ (ফ্রম ডিপ মেমোরি টু ফিউচার হরাইজোনস্)-এর কথা উল্লেখ করে সাইদানি ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও মানবাধিকার বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবর, প্যারিসে বসবাসরত আলজেরীয়দের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইনের (কারফিউ) বিরুদ্ধে আলজেরীয়রা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে ফরাসি পুলিশ তাদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালায়। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্মম দমন-পীড়নে অসংখ্য আন্দোলনকারী নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। অনেককে অত্যাচার করা হয় অথবা সেন নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।

সাইদানি বলেন, ঐতিহাসিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গণহত্যাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে এবং ফ্রান্সকে এই ট্র্যাজেডির গুরুত্ব স্বীকার করতে বাধ্য করেছে।

তিনি এই গণহত্যাকে আলজেরিয়ার প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের এক চিরন্তন প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগাতে ‘হাই কাউন্সিল অব দ্য ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কমিউনিটি অ্যাব্রোড’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শহীদদের এই ত্যাগ ও অবদান আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%