১০:১৮ পি.এম
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি আজ ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবরের ‘প্যারিস গণহত্যা’ স্মরণ করেন। তিনি এই সময় আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ সংগ্রাম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদার প্রতি দুই দেশের অবিচল প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।
আজ ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে আয়োজিত এক স্মরণসভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উভয় জাতিই ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে তীব্র ঔপনিবেশিক ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘এই অচ্ছেদ্য ইতিহাস দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি স্থাপন করেছে।’
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার সংগ্রামে ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবরের প্যারিস গণহত্যা একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। এই ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলজেরিয়া দূতাবাস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাইদানি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে উভয় জাতিকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি জানান, আলজেরিয়ায় ১৭ অক্টোবরকে ‘জাতীয় অভিবাসন দিবস’ (ন্যাশনাল ইমিগ্রেসন ডে) হিসেবে পালন করা হয়। এই দিবসটি প্রবাসে থাকা আলজেরীয়দের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এবং শহীদদের সম্মানে উদযাপিত হয়।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল মাজিদ তেববুন ২০২১ সালে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর এক মিনিট নীরবতা পালনের নিয়ম চালু করেন, যা পুরো আলজেরিয়াসহ বিদেশে অবস্থিত তাদের সব কূটনৈতিক মিশনে পালন করা হয়।
চলতি বছরের মূল প্রতিপাদ্য- ‘স্মৃতির গভীরতা থেকে আগামী দিনের সম্ভাবনার পথে’ (ফ্রম ডিপ মেমোরি টু ফিউচার হরাইজোনস্)-এর কথা উল্লেখ করে সাইদানি ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও মানবাধিকার বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার
১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবর, প্যারিসে বসবাসরত আলজেরীয়দের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইনের (কারফিউ) বিরুদ্ধে আলজেরীয়রা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে ফরাসি পুলিশ তাদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালায়। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্মম দমন-পীড়নে অসংখ্য আন্দোলনকারী নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। অনেককে অত্যাচার করা হয় অথবা সেন নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।
সাইদানি বলেন, ঐতিহাসিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গণহত্যাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে এবং ফ্রান্সকে এই ট্র্যাজেডির গুরুত্ব স্বীকার করতে বাধ্য করেছে।
তিনি এই গণহত্যাকে আলজেরিয়ার প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের এক চিরন্তন প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। রাষ্ট্রদূত আলজেরিয়ার জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগাতে ‘হাই কাউন্সিল অব দ্য ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কমিউনিটি অ্যাব্রোড’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শহীদদের এই ত্যাগ ও অবদান আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন