নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়।
মিছিলটি শুরু হয় শহরের পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মহিলা দলের নেত্রীরা মুফতি আমীর হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা জানান, একজন নারী জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে কটূক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঝাড়ু মিছিলে কুষ্টিয়া শহর মহিলা দলের সভানেত্রী শিল্পীসহ মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের জেদ্দা, মক্কা এবং তায়েফে সম্ভাব্য বিপদের কারণে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সতর্কতা প্রকাশ করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে, কোন ধরনের বিপদের কারণে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে অবিলম্বে বাড়ির ভেতরে অথবা জানালার কাছ থেকে দূরে নিরাপদ কোনো ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। খোলা জায়গা, জানালা, ব্যালকনি ও ছাদ থেকে দূরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। বাইরে অবস্থানরত লোকজনকে দ্রুত কোনো দালানে ঢুকে পড়তে অথবা শক্ত কোনো আড়ার আড়ালে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
যারা গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তাদের সেতু এবং উঁচু ভবন থেকে দূরে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সকলকে ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং কেবল সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে গৃহীত হয়নি।
তদন্ত কমিটি দাবি করেছে, আসিফ নজরুলই এককভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি। এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেছে কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর নাম জানতে চাইলে বলেন, যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, তিনি তৎকালীন স্পোর্টসের দায়িত্বে ছিলেন, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।
তদন্ত প্রতিবেদনে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ভিন্নতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।
তিনি সেদিন বলেছিলেন, "কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"
তবে এর আগে, ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার বক্তব্যের এই পরিবর্তন সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে আয়োজনের সূচি ছিল।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরে বিসিবিও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তদন্ত কমিটি মনে করে, এ ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা যেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকলেও, দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এমন একটি প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি, যেখানে কোনো সিদ্ধান্তের কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ