মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৭ পি.এম
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে গৃহীত হয়নি।
তদন্ত কমিটি দাবি করেছে, আসিফ নজরুলই এককভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি। এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেছে কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর নাম জানতে চাইলে বলেন, যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, তিনি তৎকালীন স্পোর্টসের দায়িত্বে ছিলেন, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।
তদন্ত প্রতিবেদনে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ভিন্নতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।
তিনি সেদিন বলেছিলেন, "কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"
তবে এর আগে, ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার বক্তব্যের এই পরিবর্তন সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে আয়োজনের সূচি ছিল।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরে বিসিবিও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তদন্ত কমিটি মনে করে, এ ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা যেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকলেও, দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এমন একটি প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি, যেখানে কোনো সিদ্ধান্তের কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট পিটিআই কর্তৃক আয়োজিত পরিমার্জিত ডিপিএড (প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ-বিটিপিটি) জানুয়ারি-অক্টোবর-২০২৬ সেশনের উপকরণ প্রদর্শনী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মহানগরের টিপিআই মোড়ের প্রতিষ্ঠান চত্বরে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট মুজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত উপকরণ প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেজোয়ান হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এসময় বলেন, "আপনারা জাতির মেধা ও মনন গড়ার কারিগর। আপনাদের নিষ্ঠার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। শ্রেণিকক্ষে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দান নয়। শিক্ষার্থীদের সৎ, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।"
বর্তমান আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহজাদপুরের সিরাজগঞ্জে ১০ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামী জুলহাস ইসলাম (৫২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত জুলহাস ইসলাম পৌর শহরের পুকুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় শাহজাদপুর পৌর শহরের পুকুরপাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে জুলহাস ইসলাম শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরদিন শিশুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে পরিবারের কাছে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আসামীকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে ছয় দিন ধরে অনশনের পরেও প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পুরাভিটা গ্রামের জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে জীবন মিয়ার সঙ্গে উত্তর সাপমারী গ্রামের খুশরু মিয়ার মেয়ে মিষ্টি আক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জীবন মিয়া পেশায় একজন সেনাবাহিনীর সদস্য। গত ৯ সেপ্টেম্বর ২ মাসের ছুটিতে বাড়িতে আসেন জীবন মিয়া। এরপর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি মিষ্টি আক্তারকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু পারিবারিক চাপের কারণে মিষ্টিকে বাড়িতে রেখে জীবন মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে প্রেমিক জীবন মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন কলেজপড়ুয়া ওই তরুণী।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ছয় দিন অতিবাহিত হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মিষ্টি এখনও জীবন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে ওই বাড়িতে অবস্থান এবং মানসিক চাপের কারণে মিষ্টির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। মিষ্টির পক্ষ থেকে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তারা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রেমিক জীবন মিয়ার সঙ্গে প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারের বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জীবন মিয়া ও তার পরিবারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়ে। এই সতর্কবার্তায় অনলাইনে সন্দেহভাজন বা প্রতারণামূলক যোগাযোগ থেকে সকলকে সাবধান থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস, বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সতর্কতা প্রকাশ করে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী কখনোই অনলাইনে কারো কাছে অর্থ, গিফট কার্ড অথবা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য, যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড নম্বর চাইবে না।
প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দূতাবাস দুটি মূল নির্দেশনা প্রদান করেছে—
সাড়া দেবেন না
যদি কেউ মার্কিন কূটনীতিকের পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করে এবং টাকা বা তথ্যের জন্য অনুরোধ করে, তাহলে তাতে সাড়া না দেওয়া উচিত।
টাকা পাঠাবেন না
যেকোনো প্রলোভন বা অনুরোধের সম্মুখীন হলে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।
মার্কিন দূতাবাস সাধারণ জনগণকে এ ধরনের ভুয়া আইডি সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং প্রতারকদের ফাঁদে না পড়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ