বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৮ পি.এম
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির তথ্যের ভুলের কারণে ১১ মাস ধরে বেতন না পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন সুযোগ প্রদান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগস্ট-২০২৫ থেকে জুন-২০২৬ পর্যন্ত বেতন-বোনাস জমা দেওয়ার অপশন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বিল সাবমিটের নির্দেশনা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনআইডির তথ্যের ভুলের কারণে আগস্ট-২০২৫ থেকে জুন-২০২৬-এর মধ্যে এক বা একাধিক মাসের বেতন বা বোনাস পাননি এমন শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন বা বোনাস সাবমিট করার অপশন প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে যুক্ত করা হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, যদি যথাসময়ে বিল সাবমিট করার পর ব্যাংকের তথ্যের ভুলের কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর অর্থ ব্যাংকে জমা না হয়ে ফেরত আসে, অর্থাৎ বাউন্স ব্যাক হলে, তখন সেটি বকেয়া হিসেবে বিল সাবমিট করার প্রয়োজন বা সুযোগ নেই। EFT salary Bounce অপশনে নাম যুক্ত হওয়ার পর সঠিক তথ্য প্রদান করা হলে বাউন্স ব্যাক হওয়া অর্থ আবার পাঠানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের এমপিও বিল এবং প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে যুক্ত আগস্ট-২০২৫ থেকে জুন-২০২৬ মাসের বকেয়া মাসওয়ারি সাবমিট করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি খাতুন নিহত হয়েছেন। তার কোলে থাকা দুই বছরের কন্যাশিশু অক্ষত রয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বেড়া-কাশীনাথপুর সড়কের বেড়া উপজেলার সানিলা লিনজা পাম্পের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত বৃষ্টি খাতুন (২৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের মল্লিকপাড়ার হাসান মল্লিকের কন্যা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি খাতুন তার শিশুসন্তানকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বেড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কাজিরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বেড়া-কাশীনাথপুর সড়কের সানিলা লিনজা পাম্পের সামনে পৌঁছালে তিনি অসাবধানতাবশত সিএনজি থেকে মাথা বের করে থুতু ফেলতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তার মাথায় সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় নিহতের কোলে থাকা তার দুই বছরের কন্যাশিশু কোনো আঘাত পায়নি।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই তরুণীর মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ায় সেটির পরিচয় বা চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতক ট্রাকটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মাধপুর হাইওয়ে থানার এস আই শহীদুল ইসলাম বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জুবায়ের হোসেনের বোন জেসমিন আকতারের চিকিৎসা-পরবর্তী অবস্থার খোঁজ নেন।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে যান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন। তিনি জেসমিনের অপারেশন-পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। চিকিৎসকরা জেসমিনের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন এবং তার অবস্থার উন্নতির বিষয়েও জানিয়ে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিউরো অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম সাইফুদ্দিন বাবু, ড্যাবের আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, জুলাই শহীদ সোসাইটির চেয়ারম্যান শহীদ নাফিজের পিতা গোলাম রহমান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শাকিল, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান এবং শেকৃবি ছাত্রদল নেতা মোরসালিন অনিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শহীদ জুবায়ের ৫ আগস্ট চব্বিশের ঘটনায় লালমনিরহাটে শহীদ হন। তার একমাত্র বোন জেসমিন আকতার ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দোনেৎস্কের এক তরুণী এবং চীনের এক তরুণের প্রেমের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের জীবন, আহত সেনাদের অভিজ্ঞতা, যুদ্ধাঞ্চল থেকে প্রাণী উদ্ধারে মানুষের ভূমিকা এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামরিক কমান্ড্যান্টদের দায়িত্ব—এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে চলমান আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উৎসবের অংশ হিসেবে দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্প নিয়ে ‘#SVOeKINO’ পিচিং কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উদীয়মান ও অভিজ্ঞ নির্মাতারা চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, সিরিজ ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে ১০টি প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি। এসব গল্পে বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি, যুদ্ধের প্রবীণ, সামরিক চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীদের জীবন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
রুশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০২৩ সাল থেকে ‘তাভরিদা.এআরটি’ প্রকল্পের মেগানোম একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজে ‘#SVOeKINO’ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এবারের চূড়ান্ত পিচিং সেই কর্মসূচিরই অংশ।
রাশিয়া-চীনের প্রেমের গল্প
চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘লি’স লাভ’। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার ওলগা শুলগিনা-মস্কালেঙ্কোর নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রে দোনেৎস্কের এক তরুণী ও চীনের এক তরুণের প্রেমের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়ায় চলচ্চিত্র ও লেখকসত্তার সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা ও বিকাশে কাজ করা স্বায়ত্তশাসিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘আভতোর’ প্রকল্পটিকে তাদের চিত্রনাট্যকার সহায়তা কর্মসূচিতে প্রতিযোগিতাবহির্ভূত অংশগ্রহণের সনদ দিয়েছে।
গেমার থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে
চূড়ান্ত তালিকায় থাকা আরেকটি প্রকল্প ‘রিয়েল টপ. এ গেম উইথ ওয়ান লাইফ’। প্রকল্পটি তরুণ কসাক ভ্লাদিস্লাভ ত্রুশের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি। তিনি ‘#SVOeKINO’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রের প্রোটোটাইপ হিসেবে কাজ করেছেন।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধনাট্য, বায়োপিক ও ফ্যান্টাসির সমন্বয়ে নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটির কাহিনী বেলগোরদের তরুণ গেমার ভ্লাদকে ঘিরে। ফার্স্ট কসাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর সে বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় যায়। ভিডিও গেমের অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তব পরিস্থিতিতে মানচিত্র, রেডিও ইন্টারসেপ্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং সহযোদ্ধাদের উদ্ধারে সহায়তা করে—এমন গল্পই এতে তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়ার অন্যতম পুরনো ও বড় চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান গোর্কি ফিল্ম স্টুডিও প্রকল্পটিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্টুডিওটির মহাপরিচালক ইউলিয়ানা স্লাশচেভা নির্মাতা ভ্লাদিস্লাভ ত্রুশ ও আন্তন পিয়াতনিতস্কিকে প্রোডাকশন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ সহায়তার সনদ দেন।
পিচিং অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন জানান অল-রাশিয়ান কসাক সোসাইটির আতামানের উপদেষ্টা ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের আইনসভার সদস্য আলেক্সেই ইয়াসিনস্কি। তিনি বলেন, ‘রিয়েল টপ’ তরুণ দর্শকদের কাছে ভিডিও গেমের পরিচিত ভাষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরতে পারে।
রাশিয়ার ৮০ বছরের ব্যবধানে চার কমান্ড্যান্ট
চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর আরেকটি ‘কমান্ড্যান্ট’। মারিয়া আন্দ্রেয়েভার পরিচালনা ও ভিক্টোরিয়া রাশিনার প্রযোজনায় নির্মিত ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র-অ্যানিমেশন সিরিজটিতে ৮০ বছরের ব্যবধানে বসবাসকারী চার ব্যক্তির গল্প বলা হয়েছে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা সামরিক কমান্ড্যান্ট ও বেসামরিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিরিজটির গল্পের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বার্লিনের প্রথম কমান্ড্যান্ট নিকোলাই বেরজারিন, যুদ্ধ-পরবর্তী বুদাপেস্টের প্রথম কমান্ড্যান্ট ইভান জামারৎসেভ এবং জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের সমসাময়িক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাহিনি।
প্রকল্পটি খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রশাসনের সমর্থন পেয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের উপগভর্নর ও প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রধান সের্গেই গুলিয়ায়েভ বলেন, দোনবাস ও নোভোরোসিয়ার বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এসব অঞ্চলের মানুষের জীবন ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা তুলে ধরার কারণে প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধ, স্বেচ্ছাসেবা ও অ্যানিমেশন
চূড়ান্ত তালিকায় আরো ছিল দেনিস গালেঙ্কোর যুদ্ধনাট্য ‘অ্যাবাউট ক্যাটস অ্যান্ড পিপল’। যুদ্ধাঞ্চল থেকে প্রাণী উদ্ধারে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে চলচ্চিত্রটি তৈরি হচ্ছে।
মার্গারিতা কিসেলেভার প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘রাশিয়া—দ্য আর্ক অব স্যালভেশন’-এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া বিদেশিদের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত যুদ্ধনাট্যের মধ্যে রয়েছে ম্যাক্সিম কোরোলেভের ‘ভলান্টিয়ার’ ও আন্দ্রেই ক্রেতভের ‘৬৮ ডেজ’। এ ছাড়া ছিল আন্দ্রেই পশেনিচনিকভ ও আর্তেম গিলেমিয়ানোভের সামরিক-হিরোইক কমেডি ‘কলসাইন চেবুরাশকা’।
শিশু-কিশোরদের জন্য সোফিয়া স্তেপানেঙ্কো, রোমান ইলচেঙ্কো ও ভ্লাদিস্লাভ কোরোভিনের পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ‘দ্য টেল অব দ্য ফ্রি সিটি’ বা ‘হাউ দ্য রাশিয়ান হিরো বিট দ্য ইভিল ওয়ান’ও চূড়ান্ত তালিকায় ছিল।
ইগর মারিন ও এলেনা গুদকোভার নাট্যধর্মী সিরিজ ‘ব্রাদার্স ইন দ্য হার্ট’ও চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর একটি। প্রকল্পটি সেভাস্তোপোল প্রশাসনের সমর্থন পেয়েছে। সিরিজটির একটি অংশ সেভাস্তোপোলে ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রেও যুদ্ধের গল্প
ইয়েকাতেরিনবার্গের পিচিং অনুষ্ঠানে আগে থেকেই সমর্থন পাওয়া ও নির্মাণাধীন কয়েকটি প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়।
অনলাইন সিনেমা প্ল্যাটফর্ম PREMIER ও ভিডিওসেবা RUTUBE-এর প্রধান প্রযোজক দাভিদ কোচারভ, প্রযোজক ভ্লাদিমির মিকুলিচ এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া চিত্রনাট্যকার নিকোলাই সিদোরভ ‘দ্য আদার সাইড অব দ্য মেডেল’ সিরিজটি উপস্থাপন করেন। এতে বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের জীবন ও দায়িত্বের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
প্রযোজক ম্যাক্সিম কোরোলেভ তার যুদ্ধনাট্য ‘এনেমি’ উপস্থাপন করেন। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহত হয়ে ‘গ্রে জোনে’ আটকে পড়া সেনাদের গল্প দেখানো হয়েছে।
প্রযোজক আন্দ্রেই ক্রেতভ ‘সেঞ্চুরিয়া’ সিরিজের পরবর্তী পর্ব উপস্থাপন করেন। এতে বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে কিশোরদের নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পও বিভিন্ন সময়ে ‘#SVOeKINO’ পিচিংয়ে অংশ নিয়েছে।
তিন বছরে উপস্থাপিত ১৮৬ প্রকল্প
২০২৩ সাল থেকে মেগানোম একাডেমিতে রুশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ‘#SVOeKINO’ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এতে পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক, বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকারী ও প্রবীণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মসূচির আওতায় দেশাত্মবোধ, বীরত্ব, বেসামরিক জীবনে পুনর্বাসন ও অভিযোজন, শ্রম ও খেলাধুলা, শৈশব ও পারিবারিক মূল্যবোধ, শহর পুনর্গঠন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, আন্তঃসাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ—এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্পের ধারণা ও চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়।
আয়োজকদের হিসাবে, কর্মসূচি শুরুর পর থেকে মোট ২৪৫ জন এতে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭৫ জন পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক এবং ৭০ জন বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী, অংশগ্রহণকারী ও তাদের পরিবারের সদস্য।
পিচিং সেশনগুলোতে এ পর্যন্ত ১৮৬টি চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩৬টি, ২০২৪ সালে ৪১টি, ২০২৫ সালে ৫৯টি এবং ২০২৬ সালে ৫০টি প্রকল্প উপস্থাপিত হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের অনেকগুলো ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিউবভ মারেতস্কায়ার প্রামাণ্যচিত্র ‘ফাদার’, আন্দ্রেই সিমোনভের যুদ্ধনাট্য ‘২০/২২’ ও ‘দ্য কিড’, ভ্যাচেস্লাভ কিরিলভের সিরিজ ‘এসভিওআই’, আলেক্সেই লাগেরেভের প্রামাণ্যচিত্র ‘আই ডিডন’ রিটার্ন ফ্রম দ্য ওয়ার’, আন্দ্রেই সিমোনভের ‘সেঞ্চুরিয়া’ এবং আলেকজান্ডার কারপিলভস্কি, কনস্তান্তিন মাজুর, মিখাইল পিপিয়া ও ইলিয়া শপোতার ‘লিলিজ অব দ্য ভ্যালি’।
এ ছাড়া ২৫টির বেশি প্রকল্প ইতিমধ্যে সহায়তা পেয়েছে এবং নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
ইয়েকাতেরিনবুর্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব
‘যুব ও শিশু’ জাতীয় প্রকল্পের আওতায় ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘স্বপ্নকে অনুসরণ করো’ স্লোগানে আয়োজিত এ উৎসবের আয়োজনের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ডিক্রি জারি করেন।
এবারের উৎসবে ১৯১টি দেশের ১০ হাজার তরুণ নেতা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাশিয়ার ৫ হাজার এবং বিদেশি ৫ হাজার নাগরিক রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতি, সরকারি প্রশাসন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, ক্রীড়া, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং নাগরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নাম ‘প্রতিবেদনের পথে ১.০’ এবং এটি আয়োজন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ভার্চুয়াল রুমে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাবিউর রহমান প্রধান, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় সহযোগী অধ্যাপক ড. হারুন আল রশিদ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উমর ফারুক, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মো ইউসুফ, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, এবং জনসংযোগ তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. এহতেরামুল হক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে তা বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করেন এবং তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব সাংবাদিকতায় প্রয়োগের আহ্বান জানান।
বেরোবিসাসের সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিকতা সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হয়। এসব দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রশিক্ষক সাইফুল ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
আয়োজকেরা জানান, তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকতার বিভিন্ন মৌলিক ও ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহ, সংবাদ লেখা, তথ্য যাচাই, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকতার নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি পেশাগত সাংবাদিকতার জন্যও প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ