প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দোনেৎস্কের এক তরুণী এবং চীনের এক তরুণের প্রেমের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের জীবন, আহত সেনাদের অভিজ্ঞতা, যুদ্ধাঞ্চল থেকে প্রাণী উদ্ধারে মানুষের ভূমিকা এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামরিক কমান্ড্যান্টদের দায়িত্ব—এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে চলমান আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উৎসবের অংশ হিসেবে দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্প নিয়ে ‘#SVOeKINO’ পিচিং কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উদীয়মান ও অভিজ্ঞ নির্মাতারা চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, সিরিজ ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে ১০টি প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি। এসব গল্পে বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি, যুদ্ধের প্রবীণ, সামরিক চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীদের জীবন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
রুশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০২৩ সাল থেকে ‘তাভরিদা.এআরটি’ প্রকল্পের মেগানোম একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজে ‘#SVOeKINO’ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এবারের চূড়ান্ত পিচিং সেই কর্মসূচিরই অংশ।
রাশিয়া-চীনের প্রেমের গল্প
চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘লি’স লাভ’। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার ওলগা শুলগিনা-মস্কালেঙ্কোর নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রে দোনেৎস্কের এক তরুণী ও চীনের এক তরুণের প্রেমের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়ায় চলচ্চিত্র ও লেখকসত্তার সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা ও বিকাশে কাজ করা স্বায়ত্তশাসিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘আভতোর’ প্রকল্পটিকে তাদের চিত্রনাট্যকার সহায়তা কর্মসূচিতে প্রতিযোগিতাবহির্ভূত অংশগ্রহণের সনদ দিয়েছে।
গেমার থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে
চূড়ান্ত তালিকায় থাকা আরেকটি প্রকল্প ‘রিয়েল টপ. এ গেম উইথ ওয়ান লাইফ’। প্রকল্পটি তরুণ কসাক ভ্লাদিস্লাভ ত্রুশের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি। তিনি ‘#SVOeKINO’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রের প্রোটোটাইপ হিসেবে কাজ করেছেন।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধনাট্য, বায়োপিক ও ফ্যান্টাসির সমন্বয়ে নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটির কাহিনী বেলগোরদের তরুণ গেমার ভ্লাদকে ঘিরে। ফার্স্ট কসাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর সে বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় যায়। ভিডিও গেমের অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তব পরিস্থিতিতে মানচিত্র, রেডিও ইন্টারসেপ্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং সহযোদ্ধাদের উদ্ধারে সহায়তা করে—এমন গল্পই এতে তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়ার অন্যতম পুরনো ও বড় চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান গোর্কি ফিল্ম স্টুডিও প্রকল্পটিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্টুডিওটির মহাপরিচালক ইউলিয়ানা স্লাশচেভা নির্মাতা ভ্লাদিস্লাভ ত্রুশ ও আন্তন পিয়াতনিতস্কিকে প্রোডাকশন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ সহায়তার সনদ দেন।
পিচিং অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন জানান অল-রাশিয়ান কসাক সোসাইটির আতামানের উপদেষ্টা ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের আইনসভার সদস্য আলেক্সেই ইয়াসিনস্কি। তিনি বলেন, ‘রিয়েল টপ’ তরুণ দর্শকদের কাছে ভিডিও গেমের পরিচিত ভাষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরতে পারে।
রাশিয়ার ৮০ বছরের ব্যবধানে চার কমান্ড্যান্ট
চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর আরেকটি ‘কমান্ড্যান্ট’। মারিয়া আন্দ্রেয়েভার পরিচালনা ও ভিক্টোরিয়া রাশিনার প্রযোজনায় নির্মিত ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র-অ্যানিমেশন সিরিজটিতে ৮০ বছরের ব্যবধানে বসবাসকারী চার ব্যক্তির গল্প বলা হয়েছে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা সামরিক কমান্ড্যান্ট ও বেসামরিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিরিজটির গল্পের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বার্লিনের প্রথম কমান্ড্যান্ট নিকোলাই বেরজারিন, যুদ্ধ-পরবর্তী বুদাপেস্টের প্রথম কমান্ড্যান্ট ইভান জামারৎসেভ এবং জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের সমসাময়িক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাহিনি।
প্রকল্পটি খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রশাসনের সমর্থন পেয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের উপগভর্নর ও প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রধান সের্গেই গুলিয়ায়েভ বলেন, দোনবাস ও নোভোরোসিয়ার বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এসব অঞ্চলের মানুষের জীবন ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা তুলে ধরার কারণে প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধ, স্বেচ্ছাসেবা ও অ্যানিমেশন
চূড়ান্ত তালিকায় আরো ছিল দেনিস গালেঙ্কোর যুদ্ধনাট্য ‘অ্যাবাউট ক্যাটস অ্যান্ড পিপল’। যুদ্ধাঞ্চল থেকে প্রাণী উদ্ধারে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে চলচ্চিত্রটি তৈরি হচ্ছে।
মার্গারিতা কিসেলেভার প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘রাশিয়া—দ্য আর্ক অব স্যালভেশন’-এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া বিদেশিদের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত যুদ্ধনাট্যের মধ্যে রয়েছে ম্যাক্সিম কোরোলেভের ‘ভলান্টিয়ার’ ও আন্দ্রেই ক্রেতভের ‘৬৮ ডেজ’। এ ছাড়া ছিল আন্দ্রেই পশেনিচনিকভ ও আর্তেম গিলেমিয়ানোভের সামরিক-হিরোইক কমেডি ‘কলসাইন চেবুরাশকা’।
শিশু-কিশোরদের জন্য সোফিয়া স্তেপানেঙ্কো, রোমান ইলচেঙ্কো ও ভ্লাদিস্লাভ কোরোভিনের পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ‘দ্য টেল অব দ্য ফ্রি সিটি’ বা ‘হাউ দ্য রাশিয়ান হিরো বিট দ্য ইভিল ওয়ান’ও চূড়ান্ত তালিকায় ছিল।
ইগর মারিন ও এলেনা গুদকোভার নাট্যধর্মী সিরিজ ‘ব্রাদার্স ইন দ্য হার্ট’ও চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর একটি। প্রকল্পটি সেভাস্তোপোল প্রশাসনের সমর্থন পেয়েছে। সিরিজটির একটি অংশ সেভাস্তোপোলে ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রেও যুদ্ধের গল্প
ইয়েকাতেরিনবার্গের পিচিং অনুষ্ঠানে আগে থেকেই সমর্থন পাওয়া ও নির্মাণাধীন কয়েকটি প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়।
অনলাইন সিনেমা প্ল্যাটফর্ম PREMIER ও ভিডিওসেবা RUTUBE-এর প্রধান প্রযোজক দাভিদ কোচারভ, প্রযোজক ভ্লাদিমির মিকুলিচ এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া চিত্রনাট্যকার নিকোলাই সিদোরভ ‘দ্য আদার সাইড অব দ্য মেডেল’ সিরিজটি উপস্থাপন করেন। এতে বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের জীবন ও দায়িত্বের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
প্রযোজক ম্যাক্সিম কোরোলেভ তার যুদ্ধনাট্য ‘এনেমি’ উপস্থাপন করেন। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহত হয়ে ‘গ্রে জোনে’ আটকে পড়া সেনাদের গল্প দেখানো হয়েছে।
প্রযোজক আন্দ্রেই ক্রেতভ ‘সেঞ্চুরিয়া’ সিরিজের পরবর্তী পর্ব উপস্থাপন করেন। এতে বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে কিশোরদের নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পও বিভিন্ন সময়ে ‘#SVOeKINO’ পিচিংয়ে অংশ নিয়েছে।
তিন বছরে উপস্থাপিত ১৮৬ প্রকল্প
২০২৩ সাল থেকে মেগানোম একাডেমিতে রুশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ‘#SVOeKINO’ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এতে পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক, বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকারী ও প্রবীণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মসূচির আওতায় দেশাত্মবোধ, বীরত্ব, বেসামরিক জীবনে পুনর্বাসন ও অভিযোজন, শ্রম ও খেলাধুলা, শৈশব ও পারিবারিক মূল্যবোধ, শহর পুনর্গঠন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, আন্তঃসাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ—এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্পের ধারণা ও চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়।
আয়োজকদের হিসাবে, কর্মসূচি শুরুর পর থেকে মোট ২৪৫ জন এতে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭৫ জন পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক এবং ৭০ জন বিশেষ সামরিক অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী, অংশগ্রহণকারী ও তাদের পরিবারের সদস্য।
পিচিং সেশনগুলোতে এ পর্যন্ত ১৮৬টি চলচ্চিত্র ও মিডিয়া প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩৬টি, ২০২৪ সালে ৪১টি, ২০২৫ সালে ৫৯টি এবং ২০২৬ সালে ৫০টি প্রকল্প উপস্থাপিত হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের অনেকগুলো ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিউবভ মারেতস্কায়ার প্রামাণ্যচিত্র ‘ফাদার’, আন্দ্রেই সিমোনভের যুদ্ধনাট্য ‘২০/২২’ ও ‘দ্য কিড’, ভ্যাচেস্লাভ কিরিলভের সিরিজ ‘এসভিওআই’, আলেক্সেই লাগেরেভের প্রামাণ্যচিত্র ‘আই ডিডন’ রিটার্ন ফ্রম দ্য ওয়ার’, আন্দ্রেই সিমোনভের ‘সেঞ্চুরিয়া’ এবং আলেকজান্ডার কারপিলভস্কি, কনস্তান্তিন মাজুর, মিখাইল পিপিয়া ও ইলিয়া শপোতার ‘লিলিজ অব দ্য ভ্যালি’।
এ ছাড়া ২৫টির বেশি প্রকল্প ইতিমধ্যে সহায়তা পেয়েছে এবং নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
ইয়েকাতেরিনবুর্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব
‘যুব ও শিশু’ জাতীয় প্রকল্পের আওতায় ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘স্বপ্নকে অনুসরণ করো’ স্লোগানে আয়োজিত এ উৎসবের আয়োজনের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ডিক্রি জারি করেন।
এবারের উৎসবে ১৯১টি দেশের ১০ হাজার তরুণ নেতা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাশিয়ার ৫ হাজার এবং বিদেশি ৫ হাজার নাগরিক রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতি, সরকারি প্রশাসন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, ক্রীড়া, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং নাগরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন