১১:১৩ এম
সন্ধ্যার পর সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে যায় মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারেন রাজ্যের রাজধানী ‘পা-আনে’। দিনের আলো ফুরানোর পূর্বেই এখানকার তরুণ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিরা ঘরে ফিরে যান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি স্থানীয়দের জন্য একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের মতে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সমর্থক এবং সাদা পোশাক পরিহিত সদস্যরা পা-আনের রাস্তায় বিচরণ করছে। তারা কিশোর থেকে শুরু করে ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা তরুণদের নির্বিচারে আটক করে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করছে।
বিবিসি বার্জিমের ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকায় সেনাবাহিনীতে নিয়োগের নির্ধারিত কোটা কঠোরভাবে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য জান্তা সরকার তাদের বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
২৬ বছর বয়সী ‘টুক-টুক’ চালক জাও মিন জানান, ‘ভয়ভীতির মধ্যেই কাজে বের হতে হয় আমাকে। পরিবারের সদস্যরা সব সময় ফোন করে সতর্ক করে দেন যেন যাত্রী নিয়ে খুব দূরে না যাই এবং যাত্রী তোলার সময় সতর্ক থাকি। সব সময়ই খুব সতর্ক থাকতে হয় আমাকে।’
জাও মিন আরও জানান, তার ভাইবোনদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সেনাবাহিনীতে নিয়োগের উপযুক্ত বয়সের মধ্যে পড়েন। তার বয়সি অনেক তরুণ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, এমনকি কেউ দূরদূরান্তে থাকা আত্মীয়দের বাড়িতে গেছেন। যারা এখনো এলাকায় আছেন, তাদের বাবা-মায়ের কড়া নির্দেশ থাকে যাতে তারা সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে আসেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে। তিন বছর পর একের পর এক অপমানজনক পরাজয়, মনোবল ভেঙে পড়া এবং দলে দলে সেনা সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে জান্তা সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন কার্যকর করে। এই আইনের অধীনে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সি নারীদের সেনাবাহিনীর অধীনে অন্তত দুবছর সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা এতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
মিয়ানমার ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এমডিএসআই) সামরিকবিষয়ক কর্মকর্তা এবং জান্তা ছেড়ে আসা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নাউং ইয়ে বলেন, বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন কার্যকর করা সামরিক অভ্যুত্থানের পর বেসামরিক জনগণের ওপর নেওয়া সবচেয়ে কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলোর একটি।
আরও পড়ুন: নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ, আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী
এই ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের সর্বশেষ শিকার ‘পা-আন’ শহর। এ অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখ তরুণকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের জন্য আটক করা হয়েছে। গত আড়াই বছরে জোরজবরদস্তি ও অপহরণের মাধ্যমে এদের আটক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন