০৫:৫৯ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর, এবার ইরানের অর্থনীতি ‘ধসিয়ে দেওয়ার’ ঘোষণা দিয়েছেন তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াসে মিত্র দেশগুলোকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এবার ইরানের অর্থনীতিতে ধস নামবে, এমনকি সরকারেরও পতন হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি। আর আমি আপনাদের বলছি, এটা কাজ করবে। ভেনেজুয়েলার ওপর অবরোধ আরোপের পর এটা কাজ করেছিল। কিউবায় এখনো এটা কাজ করছে। ইরানের ক্ষেত্রেও এটা কাজ করবে।’
ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটির সরকার তর পতন হবে বলে তার দাবি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে যাচ্ছি। এখন আমাদের মিত্র এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
ইরান যুদ্ধ ছয় মাস ধরে চলছে। যুদ্ধের অবসানের উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশের অভ্যন্তরে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কারণ যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে মার্কিন ভোক্তারা চাপে পড়েছেন। আরও, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে এক নতুন বড় নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে অবস্থা।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেবেন, তাদের ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এর আগে গত সপ্তাহেও মার্কিন অর্থমন্ত্রী একই ধরনের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শিগগিরই জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র—এটি হবে দ্বিমুখী কৌশলের অংশ। রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে এ ব্যাপারে বেসেন্ট বলেন, ‘এটি এমন এক অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সমন্বিত উদ্যোগ হবে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।’
তবে ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বেসেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের অর্থনীতির ওপর পরিকল্পিত চাপ এমনভাবে প্রয়োগ করা হবে, যাতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে যাওয়ার প্রয়োজন কমে আসে।
ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোর যুক্তিতে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটির ওপর হামলা শুরু করে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ নাকচ করে আসছে। জবাবে ইরান ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এরপর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অনেকটাই বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার পথ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে একটি এবং জুনে আরেকটি যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু উভয় যুদ্ধবিরতিই বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং আলোচনা কার্যত থমকে গেছে।
যুদ্ধ পুনরায় শুরুর বদলে, ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা হবে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা।’
বেসেন্ট মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যদি তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান, অর্থ স্থানান্তর করতে চান কিংবা তাদের তেল কিনতে চান, তাহলে মার্কিন ট্রেজারি ও সরকার তাদের পূর্ণ শক্তি দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ পরিকল্পিত নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বিস্তারিত আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন