বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১১:৩১ এম
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর ও দুটি কুকরি চাপাতি উদ্ধার করেছে।
আজ বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানালেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের একটি চালান বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে যাবে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নেতৃত্বে বিওসিটিলা বিওপি’র একটি আভিযানিক দল বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মিশন নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের নির্বাচিত দল কর্তৃক কতিপয় দুষ্কৃতকারীকে চ্যালেঞ্জ করা হলে, তারা রাতের অন্ধকার ও গভীর জঙ্গলের সুযোগে পালিয়ে যায়।
পরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিশন নামক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি পাওয়ারজেল নাইনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক (২৩টি টিউব), ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির তার ও দুটি কুকরি চাপাতি।
এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো একটি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই আক্রান্ত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে মানবিক সহায়তা মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে দ্রুত একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই তাকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য একটি ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। যাদের শনাক্ত করা হবে, তাদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া কঙ্গো থেকে ফিরে আসা স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল কঙ্গো। দেশটিতে গত মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভাইরাসটি তারও আগে ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনও পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি সংক্রমণ এবং আড়াই শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংক্রমণের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ ধরন দ্বারা সৃষ্ট, যার জন্য এখনো কোনও অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
এদিকে কঙ্গোর প্রতিবেশী উগান্ডাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইবোলা নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে। তবে ফরাসি ও ইউরোপীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে ইউরোপের সাধারণ জনগণের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম এবং স্থানীয়ভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ একে চিরে সরু লম্বা ফালি তৈরি করছেন। আবার কেউ সেই ফালি নিয়ে বসেছেন নানা রকম কুটির শিল্প বুননের কাজে। পরিবারের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ থেকে শিশু-কিশোর সকলের ব্যস্ততা যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে আছে। এমনই কর্মব্যস্ত দৃশ্য চোখে পড়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে।
বংশপরম্পরায় বাঁশ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে বিভিন্ন পরিবার বেঁচে আছে এই গ্রামে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা, চাটাই, চালনি, টুকরি, চাঙ্গা, হাঁস-মুরগির খাঁচা এবং মাছ ধরা ও সংরক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জাম তারা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
রাজাপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে বাঁশের তৈরি কুটির শিল্পের কাজে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। গৃহিণীরা ঘরের মেঝে-বারান্দায় কাজ করছেন। পুরুষ কারিগররা দলবেঁধে উঠোনের কোণে খোশগল্পের পাশাপাশি কর্মযজ্ঞও চালাচ্ছেন। বৃদ্ধরাও অভিজ্ঞ হাতে ফালী তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। শিশুরাও কাজের বাইরে নয়। স্কুল থেকে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদেরও দেখা যাচ্ছে কচি হাত দিয়ে কাজ করতে।
রাত থেকে দিন, বছরের পর বছর ধরে চলে এ কুটির শিল্পের কাজ। প্রতি সপ্তাহে এই পণ্যগুলো বাড়ি থেকেই পাইকারদের হাতে চলে যায়। কিছু লোক আবার স্থানীয় হাটে নিজে বিক্রি করেন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এগুলো কিনছেন।
নারী কারিগর সাধই বিবি বলেন, "আমরা বছরব্যাপী এই কাজ করেই খাই। কিন্তু সরকার থেকে প্রশিক্ষণ অথবা সহায়তা কোনটিই পাই না।"
গ্রামের প্রবীণ কারিগর মনুফর আরী বলেছেন, "এটা আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা। আমি আমার মা-বাবার থেকে এ কাজ শিখেছি। গ্রামের সবাই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাঁশের বেত দিয়ে নিত্য ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য তৈরি-বিক্রি করেই আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। তবে এ শিল্প বর্তমানে আগের মতো লাভজনক নেই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া জানিয়েছেন, "রাজাপুর গ্রামের মূল আয়ের উৎস হচ্ছে কুটির শিল্প। ঐতিহ্যের এ শিল্পটি এখনো তারা ধরে রেখেছেন। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে আমাদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তা নিশ্চিত করে।"
এ ব্যাপারে কথা হলে বিশ্বনাথের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, "গ্রামটির বিষয়ে আমি মাত্র অবগত হলাম। আমি পরিদর্শন করে দেখব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার কারণে, তিনি টানা তিন ম্যাচে ‘ফিফা ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। এই ফরোয়ার্ডটি রিয়াল মাদ্রিদের।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে ব্রাজিল জয় না পেলেও, দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঠজুড়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও আক্রমণে ধারাবাহিক প্রভাবের কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার তার হাতেই ওঠে।
এরপর, হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন ভিনিসিয়ুস। গতি, ড্রিবলিং এবং সুযোগ সৃষ্টির দক্ষতার কারণে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার চাপের মধ্যে ফেলে দ্বিতীয় ম্যাচে আবারও ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে ব্রাজিল হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে। সেই ম্যাচেও সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার ছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে, টানা তৃতীয়বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে তিনি অনন্য এক কীর্তি গড়েন।
পুরো গ্রুপ পর্বজুড়ে ভিনিসিয়ুসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে শুধু আত্মবিশ্বাসই দেয়নি, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও দলটিকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। প্রতিটি ম্যাচেই তার গতি, সৃজনশীলতা এবং আক্রমণভাগে কার্যকারিতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম ফুটবল অঙ্গনের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। নকআউট পর্বেও যদি তিনি একই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দুই ঘণ্টা উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক প্রবাসী। তিনি তার বোন ও মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাদের বেঁচে থাকার বিষয়ে তীব্র সংশয় অনুভব করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় ওই প্রবাসীর বোন ভেরোনিকা তার ভাইয়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠাতেন। এই বার্তায় আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি জানান, বাড়িটি ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠেছে এবং এখনও কাঁপছে। এর পর আকস্মিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরবর্তী দুই ঘণ্টা ধরে ভেরোনিকা বা তার সঙ্গে থাকা মায়ের ফোনে বারবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কিছুক্ষণ পর কারাকাসের সাংবাদিকদের চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে ওই প্রবাসী জানতে পারেন যে সেখানে বড় একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরই মাঝে তার এক বন্ধু তাকে লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ক্লিপ পাঠান। ভিডিওটি দেখার পর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ ধসে পড়া ভবনটি তার মায়ের এবং বোনের অবস্থানস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল।
এলাকাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবরে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছিল। ঠিক দুই ঘণ্টা পর ভেরোনিকা পুনরায় ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পেয়ে ফোনে আসতেই আকুল হয়ে জানান, 'আপু, আমি ভেবেছিলাম আমরা আজই মারা যাব।' কথাটি বলেই সংযোগটি আবার কেটে যায়। ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে তারা কি নিজেদের বাড়িটি এখনও বসবাসের উপযোগী কি না, তা দেখতে আগামীকালই ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে ভেরোনিকার।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ