প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ একে চিরে সরু লম্বা ফালি তৈরি করছেন। আবার কেউ সেই ফালি নিয়ে বসেছেন নানা রকম কুটির শিল্প বুননের কাজে। পরিবারের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ থেকে শিশু-কিশোর সকলের ব্যস্ততা যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে আছে। এমনই কর্মব্যস্ত দৃশ্য চোখে পড়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে।
বংশপরম্পরায় বাঁশ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে বিভিন্ন পরিবার বেঁচে আছে এই গ্রামে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা, চাটাই, চালনি, টুকরি, চাঙ্গা, হাঁস-মুরগির খাঁচা এবং মাছ ধরা ও সংরক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জাম তারা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
রাজাপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে বাঁশের তৈরি কুটির শিল্পের কাজে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। গৃহিণীরা ঘরের মেঝে-বারান্দায় কাজ করছেন। পুরুষ কারিগররা দলবেঁধে উঠোনের কোণে খোশগল্পের পাশাপাশি কর্মযজ্ঞও চালাচ্ছেন। বৃদ্ধরাও অভিজ্ঞ হাতে ফালী তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। শিশুরাও কাজের বাইরে নয়। স্কুল থেকে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদেরও দেখা যাচ্ছে কচি হাত দিয়ে কাজ করতে।
রাত থেকে দিন, বছরের পর বছর ধরে চলে এ কুটির শিল্পের কাজ। প্রতি সপ্তাহে এই পণ্যগুলো বাড়ি থেকেই পাইকারদের হাতে চলে যায়। কিছু লোক আবার স্থানীয় হাটে নিজে বিক্রি করেন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এগুলো কিনছেন।
নারী কারিগর সাধই বিবি বলেন, "আমরা বছরব্যাপী এই কাজ করেই খাই। কিন্তু সরকার থেকে প্রশিক্ষণ অথবা সহায়তা কোনটিই পাই না।"
গ্রামের প্রবীণ কারিগর মনুফর আরী বলেছেন, "এটা আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা। আমি আমার মা-বাবার থেকে এ কাজ শিখেছি। গ্রামের সবাই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাঁশের বেত দিয়ে নিত্য ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য তৈরি-বিক্রি করেই আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। তবে এ শিল্প বর্তমানে আগের মতো লাভজনক নেই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া জানিয়েছেন, "রাজাপুর গ্রামের মূল আয়ের উৎস হচ্ছে কুটির শিল্প। ঐতিহ্যের এ শিল্পটি এখনো তারা ধরে রেখেছেন। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে আমাদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তা নিশ্চিত করে।"
এ ব্যাপারে কথা হলে বিশ্বনাথের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, "গ্রামটির বিষয়ে আমি মাত্র অবগত হলাম। আমি পরিদর্শন করে দেখব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন