০৯:০৭ পি.এম
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ফেলা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ধসের মুখে পড়েছে। এর ফলে বাঁধ সংলগ্ন নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বেড়িবাঁধের সংলগ্ন নদীর তীর থেকে মাটি খনন করে বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার ফলে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে এটি পুনরায় নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। এছাড়া, জিও ব্যাগগুলোতে নিয়মানুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ বালু ভর্তি করার কথা থাকলেও, নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে তা ডাম্পিং করা হয়েছে। কাজ শুরুর সময়েই নিম্নমানের কাজ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কাজের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এবং এটি বাস্তবায়ন করে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মনি ট্রেডার্স। প্রকল্পের কাজ গত ২১ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বরগুনায় যুব সম্প্রীতি মেলার উদ্বোধন, অতিথিরা পরিদর্শন করেন
গত ০১ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেড় মাস আগে নির্মিত বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে ধসে যেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। বাঁধটি ভেঙে গেলে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান এবং মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া, ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর বলেন, "প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্র বেড়িবাঁধ সংস্কার করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে। কাজ শুরুর সময়ই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। এখন জিও ব্যাগগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে।"
বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ধসের ঘটনায় মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মনি ট্রেডার্স-এর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপর দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন জানান, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই। যে জায়গাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি আসলে একটি নদীর মোহনা। মোহনার এই জটিল প্রকৃতির কারণে সেখানে বারবার ভাঙন ধরছে। তাই নদীর এই পয়েন্টে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা ছাড়া ভাঙন রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।"
তবে দায় স্বীকার করে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল জানান, "বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।"
আরও পড়ুন: আমতলীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, "নদীভাঙন রোধে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিওব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন