ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়


সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়

বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণখেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংক গ্রুপটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারবে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডকে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে। সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিত ব্যাংকগুলোর সিন্ডিকেটের জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক (৩) ধারায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ সুবিধা পাচ্ছিল না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার নির্দিষ্ট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ওই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

আরও পড়ুন: এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফেক্ট গ্লোবাল হেলথ-এর মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবায় চুক্তি স্বাক্ষর

নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু শর্ত আরোপ করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় তৈরি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণের জন্য সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

এছাড়া, ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে সিটি গ্রুপকে এমন সম্পত্তি বন্ধক দিতে হবে, যা অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে আগে থেকে বন্ধক রাখা হয়নি। ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই অর্থ থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা আনুপাতিক হারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের টাকায় আমদানি করা কাঁচামাল ব্যাংকগুলোর সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধির মাধ্যমে কিনতে হবে এবং জামানত হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।

প্রথম পর্যায়ে সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেবে আটটি ব্যাংক। সিটি ব্যাংক লিড অ্যারেঞ্জার এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কো-অ্যারেঞ্জার। বাকি ব্যাংকগুলো হলো— প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সিটি ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকা দেবে, আর বাকি ব্যাংকগুলো ২০০ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেটের বাইরের আরও কয়েকটি ব্যাংকও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকও সিটি গ্রুপকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

আরও পড়ুন: আকুর বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দিকনির্দেশনা এবং সহযোগিতায় ব্যাংক খাতের এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখা এবং বৃহত্তর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে দায়িত্বশীল উপায়। গ্রাহকদের পাশে থাকতে হবে শুধু তাঁদের ভালো সময়েই নয়, নানা কারণে যখন তাঁরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন, তখনো। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা এ ব্যবসায়ী গ্রুপকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।’

গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে সিটি গ্রুপ ঋণ শ্রেণিকরণ স্থগিত রাখাসহ সাত ধরনের নীতি সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয়। পরে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণের বিদ্যমান শ্রেণিমান ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে ওই সময়ের মধ্যে গ্রুপটির প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করতে হয়নি। তবে সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বাড়ানো হয়নি। এতে গ্রুপটির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে

কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত বাংলাদেশি এক প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে, যার কারণ হলো স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে এ রায় দেয়।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে বুধবার (৪ নভেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি অভিযুক্ত বাংলাদেশির স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। একাধিকবার অনুরোধ করার পরও তিনি ছবিগুলো সরাতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনার ফলে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত। নিহত ব্যক্তি কর্মস্থলে রয়েছেন নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ছুরি নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে নিহত ব্যক্তি বেরিয়ে এলে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু ঘটে।

আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত জানান, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার পূর্বে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একবার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বন্ধু অনুমতি ছাড়া তার স্ত্রীর ছবি তুলেছিলেন। পরে সেসব ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়।

অভিযুক্তের দাবি, ছবিগুলো প্রকাশের পর সেগুলোতে আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করে। এজন্য তিনি বন্ধুকে ছবিগুলো মুছে ফেলতে অনুরোধ করেন। কিন্তু বন্ধু তা না করে আরও ছবি প্রকাশ করেন। এতে তার ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়।

আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান, এ ঘটনার জেরেই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার সব পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্তকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালথায় শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলে ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


সালথায় শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরা সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলে ব্যবস্থা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তাঘাট বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদি তারা ক্লাস চলাকালীন সময়ে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে থাকে। ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এমন কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সালথা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা প্রশাসনে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে উপযুক্ত মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থেই মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়েস্ট হ্যাম নতুন কোচ হিসেবে স্কট পার্কারকে নিয়োগ দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


ওয়েস্ট হ্যাম নতুন কোচ হিসেবে স্কট পার্কারকে নিয়োগ দিল

ঢাকা, ৪ নভেম্বর ২০২৬ : ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড বুধবার নিশ্চিত করেছে যে, নুনো এসপিরিতো সান্তোকে বরখাস্ত করার পর স্কট পার্কারকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন মিডফিল্ডার পার্কার ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে চার মৌসুম খেলেছেন। ৪৬ বছর বয়সী এই কোচের কোচিং ক্যারিয়ারে বোর্নমাউথ ও বার্নলিকে প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত করার সাফল্য রয়েছে।

এছাড়া, তিনি ফুলহ্যাম এবং ক্লাব ব্রুগের দায়িত্বও পালন করেছেন।

আড়াই বছরের চুক্তিতে সই করার পর পার্কার মন্তব্য করেন, “এই দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার ও আমার পরিবারের কাছে বিশেষ অর্থবহ। একটি ক্লাবে ফিরে আসা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। এখানে কাটানো সময়ের অনেক মধুর স্মৃতি রয়েছে। চার বছর সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সেরা ফুটবল খেলেছি এই ক্লাবেই।

এখানে এমন উষ্ণতা, ভালোবাসা ও আবেগ ছিল, যা অন্য কোথাও অনুভব করিনি।”

“সবকিছুর ঊর্ধ্বে, এটি এমন একটি সুযোগ, যা নিয়ে আমি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।”

মঙ্গলবার, ৫২ বছর বয়সী নুনোকে বরখাস্ত করে ওয়েস্ট হ্যাম। তাঁর অধীনে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন ঘটে দলটির। এরপরও ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে দলকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ব লন্ডনের ক্লাবটির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

অনেকেই ওয়েস্ট হ্যামকে সরাসরি প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হওয়ার অন্যতম ফেবারিট মনে করেছিলেন। তবে ১৩ ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে দলটি। শীর্ষে থাকা মিডলসব্রোর চেয়ে তারা ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে।

তবে পার্কার বিশ্বাস করেন, ওয়েস্ট হ্যামের প্রিমিয়ার লিগে ফেরার স্বপ্ন আবারও জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, “প্রিমিয়ার লিগে আবারও দলকে ফিরিয়ে নেবার লক্ষ্যে আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, এটি আমার জন্য গর্বের ও সম্মানের।”

“এই লিগে আমি তিনবার দায়িত্ব পালন করেছি এবং তিনবারই দলকে এই জায়গা থেকে ওপরে তুলেছি। এটি যে কঠিন লিগ, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। নিজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের প্রতিটি অংশ কাজে লাগাব।”

২০২৪ সালের মে মাসে ডেভিড ময়েস বিদায় নেওয়ার পর ওয়েস্ট হ্যামের চতুর্থ স্থায়ী কোচ হলেন পার্কার।

এর আগে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর বরখাস্ত হন জুলেন লোপেতেগুই। এরপর আট মাসের মাথায় বিদায় নিতে হয় গ্রাহাম পটারকে।

পার্কারের সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হওয়ার কৃতিত্ব বার্নলির হয়ে। তবে দলটির প্রিমিয়ার লিগ থেকে রেলিগেশন নিশ্চিত হওয়ার পর গত এপ্রিলে ক্লাব ছাড়েন তিনি।

ওয়েস্ট হ্যামের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী করিম ভিরানি পার্কার সম্পর্কে বলেন, “ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডে এবং পুরো ফুটবল অঙ্গনে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি। নতুন প্রধান কোচ হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বোর্ডের সবাই একমত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির সড়ক যোগাযোগ বিপ্লব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির সড়ক যোগাযোগ বিপ্লব

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও পাহাড়ি জনপদকে দেশের মূল ধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া, পাহাড় ধ্বস এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছে এই প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন।

সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এই মহাকর্মযজ্ঞের সূচনা হয় এবং পরবর্তীকালে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি সাইচল-বড়থলি-থেগামুখ) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই বিশাল প্রকল্পের ১৩০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী হতে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রাস্তার কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে। তাছাড়া তৃতীয় পর্যায়ে করল্লাছড়ি হতে থেগামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এবং উদয়াবাদ হতে থলিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে।

সুরক্ষিত সীমান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সেনাবাহিনীর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ অত্যন্ত সহজ হয়েছে। এর ফলে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্য দূর করে ওইসব অঞ্চলে সরকারের পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে। সীমান্ত সড়কগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট, আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান বহুগুণ সহজ হয়েছে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়ন সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয় জুমচাষী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবন বদলে গেছে। থুমপাড়ার স্থানীয় কার্বারী জানান, "আগে সড়ক না থাকায় আমরা রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা কিংবা চট্টগ্রামে সহজে যাতায়াত করতে পারতাম না। এখন সড়ক হওয়ার ফলে আমাদের উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য খুব সহজেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারছি।"

যোগাযোগের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে ২৬ ইসিবি ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩টি যাত্রী ছাউনি, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সীমান্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৯টি নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করেছে। তাছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওই অঞ্চলে ৭০ হাজার ৬৮০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্প সংলগ্ন গাছবাগান পাড়ার বৌদ্ধ বিহারটির সংস্কার কাজের জন্য ২৬ ইসিবির পক্ষ থেকে আট বান টিন অনুদান প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আল মাসুদ। এছাড়াও সাইচল ক্যাম্পের কমান্ডারসহ ২৬ ইসিবির সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার যাবতীয় দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছে ২৬ ইসিবি। কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য থুমপাড়ায় একটি সুপরিসর খেলার মাঠও তৈরি করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। একই চিত্র দেখা গেছে জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে শিক্ষার্থীদের আরামদায়ক পাঠদানের জন্য সোলার প্যানেল ও ৪টি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে, পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে খেলার মাঠ এবং বিতরণ করা হয়েছে জার্সি ও খেলাধুলার সামগ্রী।

শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "এই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আগে কোনো স্কুলের খেলার মাঠ বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছিল না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার, সুপেয় পানি এবং সোলার সিস্টেম ফ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়ে যে সহযোগিতা করেছেন এজন্য আমরা সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।"

দুর্গম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে এক ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে। থুমপাড়ার বাসিন্দা অমরধন চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি ২৬ ইসিবির অধিনায়ককে জানানোর পর তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেন এবং তার চিকিৎসা ঢাকার সিএমএইচ এ করানোর ব্যবস্থা করেন। একইসাথে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে ২৬ ইসিবি। বর্তমানে ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে ২৬ ইসিবি শুধু একটি প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন হিসেবেই নয় বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসায় আলো ছড়াতে এবং সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%