শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৯ পি.এম
সৌদি আরবে কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। এই মজুরি দুই ধাপে বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল করা হবে। পরবর্তী বছর একই তারিখ থেকে এটি বেড়ে ৬ হাজার রিয়াল হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে আরব নিউজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের (এইচআরডিএফ) এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো দেশটির নাগরিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে সৌদি নারী ও পুরুষের নিয়োগ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
এ পরিবর্তন মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ‘নিতাকাত’ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিতাকাত কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিবিন্যাস সৌদি নাগরিকদের নিয়োগের হার বিবেচনায় করা হয়।
মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল জানায়, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম সহায়তাপ্রাপ্ত মজুরি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ২০২৭ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। বিদ্যমান আবেদনকারীদের জন্য এই পরিবর্তন ২০২৮ সালের মে মাসের সহায়তার অর্থ থেকে কার্যকর হবে।
কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সৌদি কর্মীদের মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদান করবে মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল। তবে, এই সহায়তার পরিমাণ মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত বিধি ও শর্ত অনুযায়ী এই অর্থ প্রদান করা হবে।
তহবিলের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি নাগরিকদের নিয়োগে আরও উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও কার্যকর হবে।
কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য ও যোগ্যতার শর্ত জানার জন্য সুবিধাভোগীদের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের সরকারি ওয়েবসাইট পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক যুবক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। বেআইনিভাবে শুরু হওয়া মদের ব্যবসার ফলে ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনা ভারতের মধ্যপ্রদেশে ঘটেছে। যুবকের বাড়ি রাজ্যের দেওয়াস জেলায় অবস্থিত। মদপানে ১৩ জনের মৃত্যুর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, অভিযুক্তদের তৈরি মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য তদন্তকারীরা অপেক্ষা করছেন।
পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ইন্দোরের বাসিন্দা। তিনি সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে একাধিকবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের সন্ধান শুরু করেন।
তদন্তকারীদের মতে, অজয় ইন্দোরের রাইজিং ব্রাদার্স নামে একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেখান থেকে একটি রাসায়নিক সংগ্রহ করেন। পুলিশ অভিযোগ করছে যে, ওই রাসায়নিক ব্যবহার করে বেআইনিভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন অজয় ও তার সহযোগীরা।
পুলিশের দাবি, ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর পুরনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তরল ভরে বিক্রি শুরু হয়। এমনকি আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
ক্রেতাদের জন্য আসল ও নকল মদের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। রাসায়নিক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমন কাসলিওয়াল নামে ইন্দোরের আরেক বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
সেখানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন মদের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হওয়ার ২৯ দিনের মধ্যে ১১ হাজার ৫৬৬ জন যাত্রী পারাপার করেছে সি-ট্রাক এস.টি. নিঝুম দ্বীপ। এরপরও নৌযানটি সন্দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রী পারাপারের এই পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে নৌযানটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন সন্দ্বীপের সচেতন মহল।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথে যুক্ত হয় এস.টি. নিঝুম দ্বীপ। ২৯ দিনের হিসাবে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে ৮ হাজার ২৩৪ জন এবং বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে ৩ হাজার ৩২২ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। দুই ঘাট মিলিয়ে মোট যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৫৬৬ জন।
তথ্য অনুযায়ী, নাব্যতা সংকটের কারণে তিন দিন এবং সিগন্যালের কারণে দুই দিনসহ বিভিন্ন কারণে মোট ছয় দিন সার্ভিস বন্ধ ছিল। ফলে ২৯ দিনের মধ্যে নৌযানটি চলাচল করেছে ২৩ দিন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যাত্রী পরিবহনের এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে এস.টি. নিঝুম দ্বীপকে সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌপথে বহাল রাখা সম্ভব কি না। নৌযানটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
সন্দ্বীপ একটি দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে নিয়মিত ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ এখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন বহু মানুষকে এই নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে নৌযানটির চলাচল অব্যাহত রাখা এবং নৌপথের সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সন্দ্বীপবাসীর দাবি, এস.টি. নিঝুম দ্বীপ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলে তার যৌক্তিক কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের প্রয়োজন, নিরাপদ যাতায়াত এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নৌযানটি এই নৌপথে বহাল রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইন্দোনেশিয়ায় চলমান দাবানলের ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণের ফলে সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে, দেশটির ৫ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর থেকে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণের মধ্যে শ্বাস নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে আরব নিউজের প্রতিবেদনে।
হেলসিংকিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন ও ভূমিতে আগুন লাগার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুমানের অবনতি ঘটেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৬০ জনে পৌঁছেছে। আগস্ট মাসের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পিএম ২.৫ নামক অতিক্ষুদ্র বায়ুদূষণকারী কণার সংস্পর্শে আসার কারণে মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছে। এই দূষিত কণার সংস্পর্শে আসার পর কয়েক দিনের মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের অংশে। এছাড়া, জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপ এবং দেশের পূর্বাঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষকেরা দাবানলের ধোঁয়ার পাশাপাশি শহর ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং অন্যান্য দূষণের প্রভাবও বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে এসব উৎসের বায়ুদূষণে আরও ১ হাজার ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ওই মাসে ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুদূষণজনিত আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১০ জনে পৌঁছেছে।
প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাসকারী ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল ও শিল্পকারখানার দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করছে, যা গবেষণায় প্রতিফলিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১৭তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।
এ উপলক্ষে খেদারমারা ভাবনা কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি ও আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জনাব বিল্টু চাকমা। পরিদর্শনকালে তিনি উৎসবের সার্বিক অগ্রগতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়া তিনি উপস্থিত দায়ক-দায়িকাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধর্মীয় এ উৎসবের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় বিল্টু চাকমা ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ