বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৭ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার উদ্দেশ্য উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। এই উদ্যোগের নাম ‘উদ্যোগ উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’। প্রাথমিকভাবে, দেশের আট জেলার ৬৪ উপজেলায় ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। ধারাবাহিকভাবে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও এই কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ‘উদ্যোগ’ একটি প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি নয়। এর আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে এবং চিহ্নিত করবে। পরে তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থায়নের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার প্যাকেজ
নির্বাচিত প্রতিটি উদ্যোক্তা তার প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত বা সম্পত্তি বন্ধক রাখার প্রয়োজন হবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। একই সঙ্গে ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হবে। সে ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।
বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর
বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখে যাদের বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা, তারাই এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আগে থেকেই ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর- সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
১৬ সেপ্টেম্বর জারি হবে বিস্তারিত নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনাসংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন জমা দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রথম ধাপে ৮ জেলার ৬৪ উপজেলা
প্রাথমিকভাবে আটটি জেলার ৬৪ উপজেলায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি শুরু হবে। জেলাগুলো হলো- মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রথম ধাপে নির্বাচিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাগুলোতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিং
শুধু অর্থায়নেই কর্মসূচির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। ফলে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার সিটির পরিকল্পনায় জ্যাক গ্রিলিশের জন্য আবারও জায়গা হয়নি। ফলে, টানা দ্বিতীয় মৌসুমের জন্য ইংল্যান্ডের এই তারকা ফুটবলার ধারে এভারটনে যোগ দিয়েছেন।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ দিনে, গত মঙ্গলবার, গ্রিলিশের পুরো মৌসুমের জন্য এভারটনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুই ক্লাব। পাঁচ বছর আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলেন গ্রিলিশ। ক্লাবটির সাফল্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
তবে, চোট এবং ফর্মহীনতার কারণে গত কয়েক মৌসুমে গ্রিলিশকে আর দেখা যায়নি। বর্তমানে সিটির মূল স্কোয়াডে জায়গা ধরে রাখার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে ৩০ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে। গত মৌসুমের শুরুতে সিটির স্কোয়াডে জায়গা হারিয়ে তিনি ধারে এভারটনে যোগ দিয়েছিলেন। নতুন ক্লাবে তার শুরুটা ছিল দারুণ, গত বছরের আগস্টে প্রিমিয়ার লিগের মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।
তবে বছরের শুরুতে পায়ের চোটে তার ছন্দপতন ঘটে। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর তিনি আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারেননি। গত মৌসুমে এভারটনের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গ্রিলিশ ২ গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করেন।
নতুন মৌসুমে সিটির স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ায় তাকে আবারও ধারের পথ বেছে নিতে হলো। এবারও তার ঠিকানা এভারটন। সেখানে নতুন করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ তার সামনে রয়েছে।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৩তম হয়ে শেষ করা এভারটন এবার শুরু করেছে বেশ ভালোভাবে। প্রথম ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ২-০ গোলে হারানোর পর বোর্নমাউথের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। এমন শুরুর পর গ্রিলিশকে দলে পেয়ে আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করার আশা করছে দলটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ২৫০ বছর বর্ষপূর্তি উদযাপনের প্রেক্ষাপটে, দেশটির টাকশাল একটি বিশেষ স্মারক মুদ্রা আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু করেছে, যা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখাবয়ব সংবলিত ১ ডলারের। এটি এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো পদে বহাল থাকা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ছবি মার্কিন ধাতব মুদ্রায় স্থান পেল।
গত জুলাই মাসে, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই স্বর্ণালি রঙের মুদ্রাটির নকশা উন্মোচন করেছিলেন। মুদ্রাটির এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি খোদাই করা হয়েছে, যার সাথে যুক্ত রয়েছে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৪’ লেখাগুলো। অন্য পাশে প্রেসিডেন্সিয়াল সিল মোহরের সচিত্র উপস্থাপনার পাশাপাশি 'ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা' এবং 'ওয়ান ডলার' খোদাই করা হয়েছে। এর আগে, ১৯২৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি মার্কিন মুদ্রায় ছাপা হয়েছিল, এবং ঠিক ১০০ বছর পর ট্রাম্প প্রশাসন আবারও একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি করেছে।
আইনগত দিক থেকে, এই বিশেষ স্মারক মুদ্রাটি মার্কিন আইনে সম্পূর্ণ আইনি দরপত্র হিসেবে স্বীকৃত এবং এর অভিহিত মূল্য ১ ডলার। তবে, ইউএস মিন্ট (টাকশাল) এটিকে প্রধানত সংগ্রাহকদের জন্য একটি পণ্য হিসেবে প্রচার করছে এবং বেশ চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। উদাহরণস্বরূপ, সংগ্রাহকরা ২৫টি মুদ্রার একটি রোল ৬১ ডলারে এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগ ১৫৪.৫০ ডলারে কিনতে পারছেন। প্রতি পরিবার থেকে সর্বাধিক দুটি রোল বা ব্যাগ কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও মুদ্রাটি খাঁটি সোনার মতো দেখতে, ট্রেজারি বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে ০.২৮৬ আউন্সের এই ধাতব মুদ্রায় কোনো মূল্যবান ধাতু নেই; মূলত এটি ম্যাঙ্গানিজ ব্রাসের সংমিশ্রণে তৈরি। ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণে বাধ্য নয়, কারণ মার্কিন আইনে ব্যবসায়ীদের নিজেদের অর্থ পরিশোধের নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতা রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহারের এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র আইনগত বিতর্ক ও রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করেছেন, বলছেন যে, বর্তমান মার্কিন আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে কেবল মৃত ব্যক্তির প্রতিকৃতিই আমেরিকার অর্থ ও সিকিউরিটিজে ব্যবহার করা যেতে পারে। অরেগন ও নেভাদার ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের ছবি মুদ্রায় বন্ধের জন্য ইতিবাচক বিল আনার পাশাপাশি অনুদান বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেন, যিনি রাজতন্ত্রের প্রতীক মনে করে মুদ্রায় নিজের ছবি বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের মতে, জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় বসানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
আইনগত জটিলতা ও সমালোচনার জবাবে, ট্রাম্প প্রশাসন ও ট্রেজারি বিভাগ তাদের অবস্থানের সপক্ষে কৌশলগত যুক্তি প্রদান করেছে। তারা দাবি করেছে যে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টেবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট ২০২০’-এর ফাঁকফোকর ব্যবহার করে, আইনটি মুদ্রার উল্টো পিঠে জীবিত ব্যক্তির ছবি নিষেধ করলেও সামনের অংশে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মিন্টের এই যুক্তিকে আইনি প্যাঁচ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, পদ্ধতিগত পর্যালোচনা সংস্থাগুলোর যথাযথ অনুমোদন না পাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক চাপের কারণে মুদ্রাটি বাজারে আনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইন লঙ্ঘিত হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন, কারণ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে আদালতে মামলা করার মতো উপযুক্ত কোনো পক্ষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
সূত্র: টাইটম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। গণমাধ্যমে তার সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থেকে ইন্টারপোলের কাছে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়। ই-মেইলে বেনজীর আহমেদ বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সেই বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আজকেই (বুধবার) একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে ইন্টারপোলের কাছে। তাতে আমরা সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবস্থানের তথ্য জানতে চেয়েছি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতাও জানা দরকার।”
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুবাই থেকে কারামুক্ত হওয়ার পর গত ১৭ আগস্ট বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় পাড়ি জমান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেন্ট লুসিয়ার পাসপোর্ট তার কাছে রয়েছে এবং সেখানে তার যৌথ বিনিয়োগও রয়েছে। এছাড়া, সেন্ট লুসিয়ার গ্রোস আইসলেট এলাকায় বেনজীরের একটি ফ্ল্যাট থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে জামিন পান বেনজীর আহমেদ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত নথি এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেন।
বেনজীরের জামিন নিশ্চিত করতে ইউরোপে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দুবাইয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি করা হয়েছে। দুবাইয়ের আদালত থেকে বেনজীরের জামিন এবং পরে তার কারামুক্তির খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তৎপরতা শুরু হয়।
সূত্রের দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। সূত্র আরও জানায়, জামিন পাওয়ার পরই বেনজীর দুবাই থেকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্পেনসহ কয়েকটি দেশে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন তিনি। তবে সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সেন্ট লুসিয়াকে বেছে নেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি বেনজীর আহমেদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের কাছে তথ্য চেয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেনজীরের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিজিবি চুয়াডাঙ্গায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৬৭ লক্ষ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে। আজ দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য বাসস’কে জানায়। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে নেশা জাতীয় সিরাপ, মদ, হেরোইন, ওষুধ, কসমেটিকস এবং কম্বল।
বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাষ্টার মোহাম্মদ রাজ মামুদ বাসস’কে জানান, সীমান্ত অঞ্চলে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দর্শনা, বাজিতপুর, মুন্সিপুর এবং আইসিপি’র বিজিবি টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মালামাল আটক করে।আটককৃত মালামালের মধ্যে ৫০ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ৩ বোতল মদ, ৩০ গ্রাম হেরোইন, ১০ হাজার ৪৪০ পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, ১০ হাজার ৮শ’ পিস ডেক্সাম্যাথাসন ট্যাবলেট, ৩৪ পিস বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় কসমেটিক্স, ২৫ পিস চকলেট, ১ পিস কম্বল এবং ১টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্য ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বাসস’কে বলেন, "দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ