০৪:০২ পি.এম
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারো ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফসফরাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জলপাই ও পাইন বাগানে ফসফরাস বোমা ফেলা হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের ইয়ারুন, আরনুন এবং বিন্ত জবেইল শহরের জলপাই ও পাইন গাছের ঘেরা এলাকায় ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনার কারণে বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কৃষিজমি ও বনাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে গোলাবর্ষণের সময় এসব দাহ্য গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ফসফরাস গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে একটি বিমান হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ইসরাইলি বাহিনীর। এছাড়া বুয়ুত আল-সাইয়াদ এলাকায় একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে সাউন্ড বোমা পড়ার অভিযোগও উঠেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সাদা ফসফরাসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে বেসামরিক লোকজন বা জনবসতির কাছাকাছি এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র ব্যবহারে গুরুতর ঝুঁকি জমা হতে পারে।
ফসফরাস বোমা ব্যবহারের এই সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোন মন্তব্য আসেনি।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল নিয়মিত বিমান, ড্রোন ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। একইসাথে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
কূটনৈতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইতালির রোমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনা সীমান্ত নিরাপত্তা, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং বিতর্কিত সীমান্ত এলাকাগুলোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
যুদ্ধবিরতির পর কিছু দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামে লেবাননের বাসিন্দারা ফিরতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির। এলাকায় ইসরাইলি সেনা ও নজরদারি ড্রোনের উপস্থিতি রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন