রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ পি.এম
ভারতের মুম্বাইয়ে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দ্রুতগতিতে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতু থেকে নিচে পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে শহরের কোস্টাল রোডে।
গাড়িটি মেরিন ড্রাইভ থেকে হাজি আলীর দিকে যাচ্ছিল। লালা কলেজ ও লোটাস জেটির কাছে পৌঁছানোর পর চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর গাড়িটি সড়কের সীমানাপ্রাচীরে ধাক্কা দিয়ে সেতুর নিচে নির্মাণকাজ চলমান একটি এলাকায় পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চার আরোহীকে উদ্ধার করে নায়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ২৩ বছর বয়সী আদিত্য কালপেশ্বর ওসওয়ালকে হাসপাতালে আঘাতজনিত চিকিৎসা বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী শানায় গাজ্জাল, ১৭ বছর বয়সী ধৈর্য দর্শন শেঠ এবং ১৯ বছর বয়সী আদিত্য জাকাসনিয়া রয়েছেন।
মুম্বাই কোস্টাল রোডের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ছাদ ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে, সামনের কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। গাড়িটি সেতুর সঙ্গে থাকা একটি সাইনবোর্ডকেও আঘাত করেছে।
পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে যে গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না এবং ঠিক কীভাবে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, চলতি মাসের শুরুতে মুম্বাইয়ের কোস্টাল রোডের টানেলে কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ির বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে চলাচল ও প্রতিযোগিতা করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ল্যাম্বরগিনি ও দুটি বিএমডব্লিউসহ ছয় থেকে সাতটি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টিকিট না কেটে ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন তরুণী। রুটিন চেকিংয়ের সময় ধরা পড়ার পর টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) সঙ্গে তিনি তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু এই ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। রেলকর্মীদের বিপদে ফেলতে এবং সাজা খাওয়াতে তিনি একটি নাটক সাজান—হঠাৎ নিজের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার ধারণা ছিল, নারী নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ টিটিইর ঘাড়ে চাপিয়ে তিনি পার পেয়ে যাবেন।
কিন্তু চতুর এই তরুণী বুঝতে পারেননি যে, পাশে বসে থাকা এক সহযাত্রী তার সাজানো নাটকের পুরো চিত্রনাট্য মোবাইলে ধারণ করে রেখেছেন।
সম্প্রতি ভারতের দানাপুর-সিকান্দরাবাদ এক্সপ্রেসে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দানাপুর থেকে প্রয়াগরাজগামী ওই ট্রেনের ‘সেকেন্ড এসি’ কামরায় টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিটিইদের একটি দল। সেখানে রাধিকা তিওয়ারি নামের ওই তরুণী এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বসেছিলেন। টিটিই তার কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। টিকিট না থাকায় তাকে ট্রেন থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তবে তিনি তা না শুনে সুযোগ বুঝে সরাসরি ‘থার্ড এসি’ কামরায় গিয়ে গা-ঢাকা দেন।
এসময় মুখোমুখি আসনে বসা এক যাত্রী বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে গোপনে নিজের মোবাইলে পুরো ঘটনাটি ধারণ করতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী দাবি করছিলেন যে, তিনি জরিমানা বা টাকা দিতে রাজি আছেন। তবে টিটিই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উপযুক্ত টিকিট ছাড়া এভাবে ট্রেনে যাওয়া সম্ভব নয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তরুণী জানান, তার ভাই নাকি নিজেও একজন টিটিই! হেল্পলাইন নম্বর খোঁজার ছলে পাশের যাত্রীদের শোনান, ওই টিটিই-কে তিনি আজ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ছাড়বেন।
হুমকি দেওয়ার পর মুহূর্তেই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কথা বলতে বলতে আচমকা নিজের পোশাক নিজে ছিঁড়ে ফেলে উচ্চশব্দে গালিগালাজ ও চিৎকার করতে থাকেন তিনি—যাতে সবাই মনে করেন টিটিইরা তার ওপর চড়াও হয়েছেন।
ঠিক তখনই টিটিইদের রক্ষাকর্তা হয়ে এগিয়ে আসেন সেই ভিডিও ধারণকারী সহযাত্রী। পুলিশ ও রেল কর্মকর্তাদের সামনে তিনি নিজের মোবাইলের ভিডিওটি দেখান। ভিডিওটি দেখার পর কর্মকর্তাদের চোখ কপালে ওঠে! সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, কীভাবে টিকিট না থাকার অপরাধ ঢাকতে নিজের পোশাক নিজেই ছিঁড়ে ফাঁদ পেতেছিলেন ওই তরুণী।
রেল কর্মকর্তা এসকে ভার্মা জানান, এই সহযাত্রীর ধারণ করা ভিডিওটি না থাকলে নির্দোষ টিটিইদের হয়তো চরম হেনস্তা ও মিথ্যা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো।
ঘটনাস্থলেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়, রেলের নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত জরিমানা আদায় ও নতুন টিকিট ইস্যু করার পরই রাধিকা তিওয়ারি নামের ওই তরুণীকে মুক্ত দেয় আরপিএফ কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের দুই ঘণ্টা পর তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই অবরোধের ফলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তি এবং ফাঁসির রায় কার্যকর করা। এছাড়া, পুলিশের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং প্রয়োজনে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থানান্তর করার কথাও বলা হয়েছে।
চতুর্থ দাবিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া, কুবি এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ইউনিট গঠনের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলে "উই ওয়ান্ট জাস্টিস, অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে", "আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে" এবং "কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে" সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা জানান, অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ও ২৪ ঘন্টায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা।
দুপুর ১টার দিকে চার দফা দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র স্কুল পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুর আড়াইটায় কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সাইফুল ইসলাম তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল। তুহিন জানায়, এ পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুল নামে আরও দুই যুবক জড়িত ছিল। এরপর পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকেও হেফাজতে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে সে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পরে অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে তুহিনসহ অন্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তথ্য-প্রমাণ যাচাই করছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তার বাবার নাম নূর আলম। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকায় তাদের বাড়ি। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়লেও পরবর্তীতে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে। গ্রেপ্তার মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। সে একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা এবং ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর গ্রেপ্তার মো. কামরুল হাসানের বয়স ১৮ বছর। তার বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে। আর আটক সিয়াম (১৯) একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কারও বিরুদ্ধে আগে কোনো পিসিআর বা পূর্ব অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি মামলার অন্যান্য বিষয়েও তদন্ত চলছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হঠাৎ করে বিশাল একটি দলের সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে গেছেন, যা ইহুদিদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ‘ইয়ম কিপ্পুর’কে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি কয়েকজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইসরায়েলিকে সঙ্গে নিয়ে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পশ্চিম দেয়াল প্রাঙ্গণে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন। খবরটি আনাদোলু এজেন্সির মাধ্যমে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেট নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নেতানিয়াহু সেখানে গিয়েছিলেন। গভর্নরেটের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুরোনো শহরের ওয়াদি স্ট্রিট দিয়ে বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি নিয়ে নেতানিয়াহু পশ্চিম দেয়াল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। যদিও তিনি মূল মসজিদে প্রবেশ করেননি, তবে আল-আকসার প্রবেশপথ ‘বাব আল-রহমা’ সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলিরা অবস্থান নেয়। একই সময়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিরাও আল-আকসায় নামাজ আদায় ও বাজারের কাজে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ইয়ম কিপ্পুর এবং পরবর্তীতে সুক্কোটসহ একাধিক ইহুদি উৎসবের প্রেক্ষাপটে দখলদারদের যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা মসজিদে অবস্থান নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামিক ওয়াকফ প্রশাসন জানিয়েছে, বিতর্কিত এই পশ্চিম দেয়াল মূলত মুসলিমদের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় নতুন করে অন্তত ১০০ জন ইসরায়েলি একতরফাভাবে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছে। ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশি পাহারায় ফিলিস্তিনিদের বাধা এড়িয়ে এইভাবে প্রাঙ্গণে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেরুজালেম অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ