প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টিকিট না কেটে ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন তরুণী। রুটিন চেকিংয়ের সময় ধরা পড়ার পর টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) সঙ্গে তিনি তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু এই ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। রেলকর্মীদের বিপদে ফেলতে এবং সাজা খাওয়াতে তিনি একটি নাটক সাজান—হঠাৎ নিজের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার ধারণা ছিল, নারী নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ টিটিইর ঘাড়ে চাপিয়ে তিনি পার পেয়ে যাবেন।
কিন্তু চতুর এই তরুণী বুঝতে পারেননি যে, পাশে বসে থাকা এক সহযাত্রী তার সাজানো নাটকের পুরো চিত্রনাট্য মোবাইলে ধারণ করে রেখেছেন।
সম্প্রতি ভারতের দানাপুর-সিকান্দরাবাদ এক্সপ্রেসে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দানাপুর থেকে প্রয়াগরাজগামী ওই ট্রেনের ‘সেকেন্ড এসি’ কামরায় টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিটিইদের একটি দল। সেখানে রাধিকা তিওয়ারি নামের ওই তরুণী এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বসেছিলেন। টিটিই তার কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। টিকিট না থাকায় তাকে ট্রেন থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তবে তিনি তা না শুনে সুযোগ বুঝে সরাসরি ‘থার্ড এসি’ কামরায় গিয়ে গা-ঢাকা দেন।
এসময় মুখোমুখি আসনে বসা এক যাত্রী বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে গোপনে নিজের মোবাইলে পুরো ঘটনাটি ধারণ করতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী দাবি করছিলেন যে, তিনি জরিমানা বা টাকা দিতে রাজি আছেন। তবে টিটিই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উপযুক্ত টিকিট ছাড়া এভাবে ট্রেনে যাওয়া সম্ভব নয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তরুণী জানান, তার ভাই নাকি নিজেও একজন টিটিই! হেল্পলাইন নম্বর খোঁজার ছলে পাশের যাত্রীদের শোনান, ওই টিটিই-কে তিনি আজ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ছাড়বেন।
হুমকি দেওয়ার পর মুহূর্তেই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কথা বলতে বলতে আচমকা নিজের পোশাক নিজে ছিঁড়ে ফেলে উচ্চশব্দে গালিগালাজ ও চিৎকার করতে থাকেন তিনি—যাতে সবাই মনে করেন টিটিইরা তার ওপর চড়াও হয়েছেন।
ঠিক তখনই টিটিইদের রক্ষাকর্তা হয়ে এগিয়ে আসেন সেই ভিডিও ধারণকারী সহযাত্রী। পুলিশ ও রেল কর্মকর্তাদের সামনে তিনি নিজের মোবাইলের ভিডিওটি দেখান। ভিডিওটি দেখার পর কর্মকর্তাদের চোখ কপালে ওঠে! সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, কীভাবে টিকিট না থাকার অপরাধ ঢাকতে নিজের পোশাক নিজেই ছিঁড়ে ফাঁদ পেতেছিলেন ওই তরুণী।
রেল কর্মকর্তা এসকে ভার্মা জানান, এই সহযাত্রীর ধারণ করা ভিডিওটি না থাকলে নির্দোষ টিটিইদের হয়তো চরম হেনস্তা ও মিথ্যা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো।
ঘটনাস্থলেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়, রেলের নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত জরিমানা আদায় ও নতুন টিকিট ইস্যু করার পরই রাধিকা তিওয়ারি নামের ওই তরুণীকে মুক্ত দেয় আরপিএফ কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন