বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৯ পি.এম
অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সাক্ষাৎটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে, অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঝিনাইগাতি সীমান্ত অঞ্চলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিভিন্ন ব্রান্ডের ভারতীয় কসমেটিক এবং একটি ট্রলি জব্দ করেছে, যার মোট মূল্য ১৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে ৩৯ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ঝিনাইগাতি উপজেলার গজনী সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা সমমূল্যের ভারতীয় কসমেটিক এবং পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলি জব্দ করা হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ বাসসকে জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরণের চোরাচালানের মালামাল পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে এ কঠোর নজরদারি ও দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, ট্রাম্প ওই ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক যুদ্ধের বিষয়ে একাধিক বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করেছেন।
এপির তথ্যানুসারে, ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য ভুল ও বিভ্রান্তিকর দাবিগুলো হলো:
যুদ্ধ বন্ধের দাবি: ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি তার প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় একাধিক যুদ্ধ বন্ধ করেছেন এবং বেশ কিছু দেশকে সংঘাত থেকে বিরত রেখেছেন। তবে এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব দাবির পেছনে কোনো সঠিক তথ্য বা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক চুক্তির অস্তিত্ব নেই।
অর্থনৈতিক ও শুল্ক পরিসংখ্যান: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরোপিত শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প যে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি বাড়িয়ে বলা হয়েছে।
জলবায়ু ও পরিবেশ: আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তি এবং বৈশ্বিক নিঃসরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের প্রদত্ত বিভিন্ন তথ্য ও ডেটা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বনেতাদের সামনে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও লংমার্চের প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধান সড়কগুলোতে শিপিং কন্টেইনার বসিয়ে পথ আটকে দেওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সেনা-সমর্থিত জোট সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রবেশপথগুলো বন্ধ করার ফলে রাজধানী প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ রোধে সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইমরান খানের তিন বোনসহ শত শত পিটিআই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনবিশৃঙ্খলা এড়ানোর যুক্তি দেওয়া হলেও, পিটিআই দাবি করছে যে, এটি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অংশ।
সামরিক বাহিনী সমর্থিত বর্তমান সরকার এবং কারাবন্দী নেতা ইমরান খানের সমর্থকদের মধ্যে এই সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থান ২৪ কোটি মানুষের দেশটিকে চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে। উল্লেখ্য, দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সমমানের একটি বড় আকারের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে রক্তাক্ত সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল।
অর্থনীতিবিদ ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় পাকিস্তান দিনে প্রায় ৪০ কোটি ডলার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কঠোর বাধা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও পিটিআই নেতৃত্ব শান্তিপূর্ণ উপায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিল্লির শালীমার বাগ এলাকায় ভারী পুলিশ মোতায়েন করে পৌর কর্তৃপক্ষ মদিনা মসজিদের অংশবিশেষ এবং সংলগ্ন কিছু আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। এ উচ্ছেদ অভিযানটি ম্যাক্স হাসপাতালের দিকে যাওয়া একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য করা হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে এসব স্থাপনায় রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালানো হয়। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, উচ্ছেদের আগে আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, মসজিদ কমিটি এই নোটিশের সময়সীমা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। মদিনা মসজিদের সভাপতি মোবিন খান বলেন, তাদের আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী মূল কাগজপত্রের স্পষ্ট কপি চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল, যাতে তারা যথাযথ জবাব প্রস্তুত করতে পারে। কিন্তু দিল্লি পৌরসংস্থা (এমসিডি) পর পর তিনটি নোটিশ জারি করে ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়।
মোবিন খান জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে আপিল ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলেন। শুনানির সময় কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, বিদ্যুৎ মিটারসহ মসজিদের কেবল একটি তলা স্বীকৃত এবং বাকি অংশ নতুন নির্মাণ। এর জবাবে ২০০১ সালে নির্মিত তিনটি তলার নকশা ও প্রমাণ আদালতে পেশ করা হলেও ট্রাইব্যুনাল তা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই ওপরের তলাগুলো ভাঙার অনুমতি দেয়।
মসজিদের ইমাম জারিফুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, "পুরো শালীমার বাগ এলাকার সব ঘরবাড়ি 'সাধারণ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি'র ভিত্তিতে তৈরি। অথচ কেবল এই মসজিদটিকেই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।"
ঘটনার খবর পেয়ে মাঝরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এআইএমআইএম-এর দিল্লি রাজ্য সভাপতি শোয়েব জামাই। তিনি এই ঘটনাকে অসংবিধানিক উল্লেখ করে উত্তর প্রদেশের উচ্ছেদ কৌশলের সাথে তুলনা করেন। তিনি জানান, পুরো এলাকা পুলিশ কর্ডন করে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। পরে তারা ভেতর থেকে পবিত্র কুরআন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করেন। আপাতত মসজিদটির নিচতলা রক্ষা করা গেছে এবং তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বুলডোজার সরিয়ে নিয়ে সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত রাখা হলেও, এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ