মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৮ এম
দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের চাপ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ থেকে বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সেতুর টোল প্লাজাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা যাত্রী হয়রানির কারণে ব্যাহত না হয়, সেই জন্য সড়ক, রেল ও নৌপথের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে।
এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করেছে সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি। আজ থেকে শনিবার পর্যন্ত এই বিশেষ বাসসেবা চালানো হবে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, পূজায় সড়কপথে যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনায় বিশেষ বাস চালু করা হচ্ছে। এই সেবার নামকরণ করা হয়েছে ‘দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস’। বিআরটিসির ২২টি বাস ডিপো থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, বিআরটিসি এই সেবার জন্য ২০০ বাস নির্ধারণ করেছে। এসব বাসের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি), নন-এসি, দ্বিতল ও একতলা—সব ধরনের বাস থাকবে। যাত্রীদের চাহিদার ভিত্তিতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ সেবার বাসের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাস ডিপো ও গাজীপুর থেকে ছেড়ে যাবে। পূজার বিশেষ বাসের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পাবনা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ভূরুঙ্গামারী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বরিশাল, খুলনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম। এর পাশাপাশি এক জেলা থেকে অন্য জেলায়ও কিছু বিশেষ সেবার বাস চলবে।
দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিসের সুবিধা গ্রহণ এবং এই সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে বিআরটিসি প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (টেলিফোন : ০২৪১০৫৩০৪২, মোবাইল : ০১৩২৪২৯৩৯৭৪, ০১৭১৮১৮৩৫৮৯) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপীয় ফুটবলের রাত মানেই উন্মাদনা এবং উন্মাতালের পারদের ওঠানামা। যখন দুই লিগের দুই শীর্ষ দলের লড়াই হয়, তখন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চ হয়ে ওঠে মহারণের ময়দান। চ্যাম্পিয়নস লিগের তৃতীয় রাউন্ডে এমন একটি রাতের অপেক্ষা করা হচ্ছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সাবাহ-বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং ফেনেরবাচে-স্লাভিয়া প্রাগের ম্যাচ দিয়ে লড়াই শুরু হবে, তবে সবার চোখ দিবাগত রাত ১টার দিকে। সাত জোড়া ম্যাচের বাকি ছয়টি ম্যাচকে ম্লান করে সবটা আলো টেনে নিচ্ছে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেস; সেখানে মুখোমুখি হবে পিএসজি ও বার্সেলোনা।
ম্যাচটি কেবল দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই নয়, বরং দুই আক্রমণাত্মক ফুটবল-দর্শনেরও পরীক্ষা। বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের সামনে পিএসজির ডাগআউটে থাকা লুইস এনরিকে, যিনি একসময় কাতালান ক্লাবটির কোচ ছিলেন। বার্সা তাদের আগের ম্যাচে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে। পিএসজিও পিছিয়ে নেই; তারা ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নিজেদের আক্রমণশক্তির জানান দিয়েছে। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, প্যারিসে রক্ষণ সামলে বসে থাকার চেয়ে আক্রমণেই সমাধান খুঁজতে পারে উভয় পক্ষ।
বার্সেলোনার লক্ষ্য ইউরোপীয় মঞ্চে জয়ের ধারাকে ধরে রাখা, অন্যদিকে পিএসজির চাওয়া নিজেদের মাঠে আরেকটি বড় দলের বিপক্ষে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। এনরিকে বার্সেলোনার ফুটবল-দর্শন জানেন, তাই তার দলের জন্য ম্যাচটি বাড়তি সুবিধা হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্লিক চাইবেন দ্রুত পাস, আক্রমণের গতি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে প্যারিসের দর্শকদের শান্ত করে দিতে। ম্যাচের ফল নির্ধারণে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
মহারণের আগে দুই কোচের কথায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা দেখা যায়, কিন্তু মাঠে ছাড় দিতে নারাজ দুজনই। এনরিকে বলেন, “আমি হান্সি ফ্লিকের দলকে ভালোবাসি। দলটি যেভাবে ফুটবল খেলে, তা বার্সেলোনার ফুটবল আদর্শের সঙ্গে মেলে। তারা ধীরগতির ফুটবল খেলে না; বরং আক্রমণ করে, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে এবং রক্ষণে অনেক উঁচু লাইন (হাইলাইন ডিফেন্স) ব্যবহার করে। আমি বার্সেলোনার খেলা সব সময় দেখি, কারণ আমি এই ক্লাবের সদস্য। আমি চিরকালই বার্সেলোনার সমর্থক থাকব।”
অন্যদিকে, এনরিকের অধীনে বার্সেলোনার সাফল্যের কথাও মনে রেখেছেন ফ্লিক। স্প্যানিশ কোচের সেই দলের প্রশংসা করে জার্মান কোচ বলেছেন, “তার বার্সেলোনা ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমি সেই দলকে অনেক দেখতাম। তবে আমি নিজের দলকেও শতভাগ শক্তিশালী মনে করি।”
এই মহারণের পাশাপাশি অ্যানফিল্ডেও উত্তাপ থাকবে। রাত ১টায় লিভারপুলের প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল। আগের ম্যাচে লাস্ককে ৬-৩ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল, আর ভিয়ারিয়াল নাপোলিকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। দুই দলেরই আক্রমণভাগ গোল করতে সক্ষম; তাই লিভারপুলের ঘরের মাঠেও সহজ লড়াইয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি খেলবে এইকে এথেন্সের বিপক্ষে। পিএসজির কাছে হারের পর জয়ে ফেরার তাগিদ থাকবে সিটির। নিজেদের মাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলাই হবে তাদের লক্ষ্য।
পর্তুগালে পোর্তোর সামনে পিএসভি আইন্দহোভেন। আগের ম্যাচে রিয়াল বেতিসের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে পোর্তো। রোমা চাইবে ঘুরে দাঁড়াতে; আগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৪-৩ গোলে হেরেছিল ইতালিয়ান ক্লাবটি। এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্লোভান ব্রাতিস্লাভা। নাপোলির সামনে নরওয়ের বোদো/গ্লিমট। ভিয়ারিয়ালের কাছে হারের পর ঘরের মাঠে জয়ের খোঁজে নামবে নাপোলি, কিন্তু বোদো/গ্লিমট আগের ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
রাতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই স্টুটগার্ট-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। স্টুটগার্ট আগের ম্যাচে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে। অ্যাটলেটিকোও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে। দুই দলেরই লক্ষ্য লিগ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। এর আগে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সাবাহর মুখোমুখি হবে ডর্টমুন্ড। আগের ম্যাচে বোদো/গ্লিমটের কাছে হেরে যাওয়া জার্মান দলটির সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সময়ে ফেনেরবাচে খেলবে স্লাভিয়া প্রাগের বিপক্ষে। সাবাহ আগের ম্যাচে স্লাভিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল, তাই ডর্টমুন্ডের জন্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এক রাতে ৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু প্রতিটি মাঠে আলাদা গল্প রয়েছে। কোথাও সাবেক কোচের বিপক্ষে পুরোনো ক্লাব, কোথাও হারের ক্ষত মুছে ফেরার চেষ্টা, কোথাও আবার ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লড়াই। সব গল্পের কেন্দ্রে থাকবে প্যারিস; বার্সেলোনা ও পিএসজির মহারণে। চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনো কখনো একটি রাতই বদলে দেয় পুরো অভিযানের সুর; আর সেই রাতের শেষে কার মুখে হাসি ফুটবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হামলার ঘটনা ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আল-আলম প্রশিক্ষণ শিবিরে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে আহত মানুষ ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে হুথিরা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। গভর্নর জানিয়েছেন, হামলার পর ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশগুলোর একটি। এখানে দেশটির বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা রয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি প্রশিক্ষণ শিবিরটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানান। তিনি দাবি করেন, শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় হুথিদের অগ্রসর হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও তাদের সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেড়েছে। চলতি মাসে সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির কাছাকাছি কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অন্যদিকে, হুথিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শহরটি হুথিবিরোধী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইয়েমেনের সংঘাত এখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর যুদ্ধের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে দেশটিতে আবারও সংঘর্ষ বেড়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে। দেশটির বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি, অবকাঠামোগত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন খসড়ায় অবকাঠামো ও মূলধননিবিড় কোম্পানির জন্য কাঠামোগত শর্ত এবং মুনাফায় থাকার বাধ্যবাধকতায় শর্ত শিথিল করা হয়েছে, পাশাপাশি কম শেয়ার ছেড়ে বড় মূলধন উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধনীর খসড়া বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সর্বসাধারণ ও অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। খসড়ার উপর লিখিত মতামত আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রদান করা যাবে।
বড় ও অবকাঠামো খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহসহ বড় প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি’ নামে নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির আইপিও আসার ক্ষেত্রে মুনাফার শর্তে শিথিলতা প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিওতে আবেদনের সময় সর্বশেষ আর্থিক বছরে মুনাফায় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা মোট সম্পদ থাকা ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি, রেগুলেটেড কোম্পানি ও নতুন (গ্রিনফিল্ড) কোম্পানিকে বিএসইসি এই শর্ত থেকে ছাড় দিতে পারবে। তবে তালিকাভুক্তির দুবছরের মধ্যে মুনাফায় আসার কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
কম শেয়ার ছেড়ে আইপিওর সুযোগ
প্রাক-আইপিও নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে, ঐ কোম্পানিকে প্রচলিত ১০% শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে ন্যূনতম ৫% শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে।
‘হাইব্রিড মোড’ ও অফার ফর সেল
যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি, বিটিআরসি নিবন্ধিত (ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ) অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন, তারা বাজারে নতুন শেয়ার ছাড়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মোড’-এ আসতে পারবে।
আইপিও আবেদনের আগের দুবছরের মধ্যে মূলধন উত্তোলনের সাধারণ আইনি বিধিনিষেধ পিপিই (পিপিপি) প্রকল্প, সরকারি ও বিদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০২৫ সালের বিধিমালার উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারী শ্রেণির জন্য বিশেষ পাঁচ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা খসড়া বিধিমালায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সাধারণ ও প্রবাসী কোটা বৃদ্ধি
ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৬০% থেকে বাড়িয়ে ৬৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০% থেকে কমিয়ে ৩৫% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩৫% থেকে বাড়িয়ে ৪০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোটা ৭% থেকে বাড়িয়ে ১০% এবং কর্মচারীদের কোটা ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শ্রেণির
লক-ইন শিথিল
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের ৫০% শেয়ার প্রথম দিনেই লেনদেনযোগ্য থাকবে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৫% শেয়ারে ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫% শেয়ারে ৯০ দিনের লক-ইন থাকবে।
প্রি-আইপিও নিরপেক্ষ অডিট
আর্থিক বিবরণী ও প্রসপেক্টাসের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরপেক্ষ অডিটর দিয়ে ‘প্রি-আইপিও ভেরিফিকেশন’ অডিট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম আনা হয়েছে।
বুয়েট দ্বারা লটারি নিরীক্ষা
সাধারণ ও এনআরবি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের লটারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি এর অ্যালগরিদম বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার ওয়াঙ্গারাত্তা শহরে একটি স্থানীয় নারী সংসদ সদস্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করে প্রশংসিত হচ্ছেন রিকি জেফরিজ, যিনি একজন নাপিত। সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে তিনি হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ রিকি জেফরিজের এই সাহসিকতার জন্য তাকে ‘বীর’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রিকি জেফরিজ তার সেলুনে এক গ্রাহকের চুল কাটা শেষ করার পর বাইরে বিকট শব্দ শুনতে পান। বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি নিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক চালক স্থানীয় জনপ্রিয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে (৬৫) সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। হেইনস তখন তার গাড়ির পেছনের অংশ থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন।
ঘটনার সময় জেফরিজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি লক্ষ্য করেন হামলাকারীর পকেটে একটি ছুরি রয়েছে। ঝুঁকি না নিয়ে, তিনি কৌশলে লোকটির পকেট থেকে ছুরিটি বের করে দূরে ফেলে দেন এবং তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে মাটিতে চেপে ধরেন। পুলিশ আসা পর্যন্ত তিনি একাই অভিযুক্তকে আটকে রাখেন। হামলায় গুরুতর আহত হেলেন হেইনসকে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চালকটি ইচ্ছা করেই ইউ-টার্ন নিয়ে এসে হেইনসকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটির তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাও যুক্ত হয়েছে। যদিও কোনো সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী তাকে প্রশংসায় ভাসালেও রিকি জেফরিজ বেশ বিনীত। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে নায়ক মনে করি না। একজন মানুষ বিপদে পড়েছিলেন এবং আমার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল, তাই আমি সাহায্য করেছি।’
উল্লেখ্য, জেফরিজের সেলুনটি আহত সাংসদ হেইনসের নির্বাচনী কার্যালয়ের একেবারেই পাশেই অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ