ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রী নিজের দপ্তর থেকেই ‘মাননীয়’ সম্বোধন পরিহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেন


প্রধানমন্ত্রী নিজের দপ্তর থেকেই ‘মাননীয়’ সম্বোধন পরিহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেন

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দপ্তর থেকে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দটি ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তিনি ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ার কাজও নিজেই করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে ‘মাননীয়’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজিরা দেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের চলাচল শুরু, থামবে এসব স্টেশনে

গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপিত ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ‘মাননীয়’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে তিনি পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাজিরার প্রথা প্রবর্তন করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকার প্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। যখন রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, সরকারি চিঠিপত্রের সম্বোধনের আগে রাষ্ট্রপতির নামের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে মাননীয় লেখা যাবে না মর্মে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, ইতোমধ্যেই আমরা তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা মর্মে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছোলার আমদানি বেড়েছে ১৫ হাজার টন, তবু দাম বৃদ্ধি অব্যাহত

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, সকলেই যার যার অবস্থান থেকে পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতে ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ বাসসকে বলেন, সার্কুলারটি ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দুয়েকটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি সরকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের নিন্দা

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইলের পশ্চিম তীরের ‘ই-১’ এলাকায় বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে।

আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলের এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট রেজ্যুলেশনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিকল্পিত নির্মাণ কার্যক্রম অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে এবং একটি স্বাধীন ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করবে।

বাংলাদেশ ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা অবিলম্বে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সব ধরনের বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করুক। পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ প্রতিরোধ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত, বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে এবং তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় অধিকারের বৈধ আকাক্সক্ষাকে সমর্থন করতে অঙ্গিকারবদ্ধ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারীত বাক প্রতিবন্ধীর একসঙ্গে তিন পুত্র জন্ম, সহায়তা চান পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


ভূরুঙ্গামারীত বাক প্রতিবন্ধীর একসঙ্গে তিন পুত্র জন্ম, সহায়তা চান পরিবার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কল্পনা বেগম ও জায়দুলের দম্পত্তি। তিন সন্তানের নাম হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের পর হাসানের ওজন ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে। তিন নবজাতক ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং খাবারের খরচ জোগাতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে পরিবারটি। 
 
গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ ও তিন নবজাতকের জন্য দুই প্যাকেট ফর্মুলা দুধ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া কাটা স্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
 
তিন সন্তানের জন্মে আনন্দিত হলেও নিজের অসুস্থতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কল্পনা বেগম। তিনি বলেন, “একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। আমি পাগলি-যুগলি মানুষ। স্বামী জায়দুলও বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি আন্ধারিঝাড় বাজারের একটি হোটেলে কাজ করেন। দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় কল্পনার মা-বাবার বাড়িতেই থাকছেন। সেখানে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে তার চিকিৎসা ও তিন সন্তানের খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন তো এক মানুষ সহযোগিতা করবে না। এই সন্তানদের জন্য সরকারি বা অন্য কোন সহযোগিতা পেলে আমি খুশি হবো।
 
কল্পনার মা-বাবা জানান, আমরা গরিব ও অসহায় এই সন্তানদের জীবন রক্ষায় তারা সরকারি অফিস, বিভিন্ন সংস্থা এবং বিত্তবান ও দানশীল মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ এর কাছে আবেদন করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৩ হাজার টাকা সহায়তা করেছেন বলে জানান।
 
পরিবারটি সরকারিভবে কতটুকু সহায়তা পাবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 
পরিবারটির পক্ষ থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, সামাজিক সংগঠন এবং বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি আল্লাহর ওয়াস্তে অসহায় মা ও তিন নবজাতকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সহায়তার জন্য 01730517653 (কল্পনার মা), 01795497598 (কল্পনার বাবা আবুল কালাম)
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গাবালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃআসাদ মিয়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


রাঙ্গাবালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার

রাঙ্গাবালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের খাসমহল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‎গ্রেপ্তার যুবকের নাম মোঃ ইমরান মিয়া ওরফে সোহাগ ভুইয়া (৩৬)। তিনি ওই এলাকার আঃ সালাম ভুইয়ার ছেলে।
‎রাঙ্গাবালী থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল রাত ২টা ৩৫ মিনিটে অভিযান চালায়। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আনোয়ার হোসেন গাজীসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
‎
‎পুলিশ জানায়, খাসমহল এলাকায় ইমরান মিয়ার বসতঘরের সামনের উঠানে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
‎
‎রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
‎গ্রেপ্তার আসামিকে আজ রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মামুন বিল্লাহ (কালিগঞ্জ) সাতক্ষীরা

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পন

সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর ফলে দস্যুদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সময় নানা ভাই বাহিনীর সদস্যরা জমা দেন— ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ারগান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মিমি তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি।

আত্মসমর্পণকারীরা হলোন- জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। অন্যদিকে আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল থানার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যুকে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। তবে যারা এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কোস্ট গার্ড।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%