০২:৫৪ পি.এম
মুন্সীগঞ্জ, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : মুন্সীগঞ্জ জেলা দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে কৃষকদের জন্য প্রধান অর্থকরী ফসল হলো আলু। এই জেলার প্রান্তিক কৃষকরা লাভ-ক্ষতির হিসাব না কষে আলু চাষে নিযুক্ত থাকেন।
আলু চাষ তাদের কাছে একটি নেশার মতো হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন আলুবীজ এবং সার সরবরাহে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা গত মৌসুমের সমান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৯৫৮১ হেক্টর, টংগিবাড়ীতে ৯০৭০ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩১০৯ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮৯৫৮ হেক্টর, গজারিয়ায় ১৯৯৮ হেক্টর এবং শ্রীনগরে ১৯৪৪ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে কৃষকের চাষ পদ্ধতি
ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা প্রধানত ডায়মন্ড আলু চাষ করেন। ডায়মন্ড আলু খাবারের জন্য ব্যবহৃত হলেও অন্য কোনো পণ্যে এর ব্যবহার নেই, ফলে বাজারে এর চাহিদা কম। প্রাকৃতিকভাবে এই আলু বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। বাড়িতে সংরক্ষণ করলে এটি পচে যায়, যার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
কৃষকরা চলতি মৌসুমে আলুর পরিবর্তে সরিষা, কালিজিরা, গাজর এবং ধনিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক বছরে কৃষকরা এসব ফসলে লাভবান হয়েছেন। সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের কৃষক আজমির হোসেন বাসসকে জানান, "আগামী ১৫/২০ দিন পর থেকে আলু আবাদের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে। প্রতি বছর আমি প্রায় ৫ একর জমিতে আলু চাষ করি। চলতি মৌসুমে উঁচু জমিতে আলুর পরিবর্তে সিম, টমেটো এবং সরিষা চাষ করবো।"
মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসসকে জানান, "মুন্সীগঞ্জের কৃষক প্রধানত ডায়মন্ড আলু চাষ করে থাকেন। এ আলুর ফলন ভালো হলেও টেকসই কম।"
ডায়মন্ড আলুর পরিবর্তে বাজারে পর্যাপ্ত সানসাইন ও শান্তানা জাতের আলুর বীজ পাওয়া যাচ্ছে। দামেও সাশ্রয়ী। মানের দিক থেকেও এসব আলুবীজ উন্নত। খাবারের পাশাপাশি চিপসসহ অন্যান্য আলুর তৈরি খাদ্যপণ্যে তা ব্যবহার করা যায়।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো ফলনের প্রত্যাশা
মুন্সীগঞ্জ জেলার আলুবীজ ও সার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী সতর্ক করে বলেন, "সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার ও আলুবীজ বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে ডিলারশিপ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" সভায় প্রতিবাক্স আলুবীজের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন