মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫০ এম
নিজের ছাত্রজীবনে আর্থিক সংকটের কারণে যিনি শিক্ষার্জনের পথে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, কর্মজীবনে তিনিই শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের সহযাত্রী হয়ে উঠেছেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই তার কাছে শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, বরং মানুষ গড়ার এক অনন্য দায়িত্ব। প্রায় চার দশক ধরে শিক্ষকতা জীবনে নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের খান।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গুণী শিক্ষক সম্মাননা পদকও তিনি অর্জন করেছেন। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীল শিক্ষকতারও স্বীকৃতি।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথে
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার একটি অসচ্ছল কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের। শৈশব থেকেই মেধাবী এই শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় গ্রেডে এবং অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে কলমাকান্দা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর ভর্তি হন নেত্রকোনা সরকারি কলেজে।
তবে উচ্চশিক্ষার পথ তার জন্য সহজ ছিল না। আর্থিক সংকটের কারণে নেত্রকোনা শহরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। কলমাকান্দায় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পারিবারিক সমস্যার কারণে মাত্র সাত দিন ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করেন। পরে সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে সপ্তম স্থান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
নিজের জীবনের এই সংগ্রাম তাকে শিক্ষার মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যে সুযোগগুলো তিনি পাননি, কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের জন্য সেগুলো তৈরি করার তাগিদ তিনি সব সময় অনুভব করেছেন।
ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায়
জীবিকার প্রয়োজনে ছাত্রজীবনেই কাজ করেছেন তিনি। মাস্টার্স শেষ করে নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে অগ্রণী ব্যাংকের অফিসার পদে যোগ দেন। তবে তার আকর্ষণ ছিল শিক্ষকতায়। ১৯৯৬ সালে ১৬তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, গৌরীপুর সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজ ও ফুলবাড়ী সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। গণিতের শিক্ষক হিসেবে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা।
তার কর্মদর্শনের অন্যতম দিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাদের আত্মবিশ্বাস, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনের পরিবেশও তৈরি করতে হয়।
নিজের এলাকায় শিক্ষার সুযোগ তৈরি
দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষাজীবনে বাধার অভিজ্ঞতা থেকে নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগেও যুক্ত হন অধ্যাপক আবু তাহের। একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো নির্মাণে ব্যক্তিগতভাবে ১৭ লাখ টাকা অনুদান দেন।
তার প্রচেষ্টায় নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি পায়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এবং চলতি বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও উপাধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে অধ্যক্ষের দায়িত্বে থেকে কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ করছেন।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু এবং মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা তার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। পাশাপাশি ছাত্রাবাস, ১০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন ও অডিটোরিয়াম নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বিকাশেও রয়েছে তার বিশেষ উদ্যোগ। কলেজের ১৪টি অনার্স বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়। চার বছরে ৫৬টি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৬০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ফলাফলের ভিত্তিতে পুরস্কার বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
স্বীকৃতির চেয়েও বড় মানুষ গড়ার দায়িত্ব
জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ অর্জনকে দেখছেন। একসময় আর্থিক সংকটের কারণে নিজের পড়াশোনার পথ সহজ করতে পারেননি, অথচ এখন শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিতে পারছেন—এটিই তার কাছে বড় প্রাপ্তি।
তার ভাষায়, শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব। প্রতিকূলতা মানুষের পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু অধ্যবসায়, সততা ও মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সাফল্যের পথ খুলে দেয়।
তিনি বলেন, শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয়; এটি প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিই আজ আমাকে এনে দিয়েছে জাতীয় সম্মান।
নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক তানভীর জাহান চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক আবু তাহের নেত্রকোনার উচ্চশিক্ষার দিগন্ত প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও প্রজ্ঞা একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। তার মতো গুণী ও সৎ শিক্ষকের সুযোগ্য নেতৃত্বেই নেত্রকোনা সরকারি কলেজ আগামী দিনে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এটাই জেলাবাসীর প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারে থাকা কামাল উদ্দিন নামে অপর এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন, হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৩৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ দিন আগে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি লালবোট কিনতে চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান ওই জেলেরা। বোটটি কেনার পর রোববার রাতে তারা সেটি নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে পৌঁছালে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নদীর স্রোতে বোটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বোটটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর কামাল উদ্দিন জাহাজের শিকল ধরে ঝুলে থাকেন। পরে জাহাজের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তবে ট্রলারে থাকা অপর দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় বিশেষ কাওয়ালির আসর বসছে কিংবদন্তি সুফি সংগীতশিল্পী ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের সংগীত ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ‘ইশক-এ-নুসরাত’ শিরোনামের এই আয়োজনের মধ্যে কাওয়ালি পরিবেশনার পাশাপাশি সুফি নৃত্য, ফটো গ্যালারি ও বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে।
আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকার কেআইবি অডিটরিয়ামে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনস।
আয়োজকদের মতে, অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সুফিতান’ এবং দেশের প্রথম কাওয়ালি ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাফস’ কাওয়ালি পরিবেশন করবে। এছাড়া ‘এইচইউ সুফি ট্রুপ’ সুফি নৃত্য পরিবেশন করবে। নুসরাত ফতেহ আলী খানের জীবন ও সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ ফটো গ্যালারি ও ট্রিবিউট এক্সিবিশন থাকবে। পুরো আয়োজনস্থল সুফি ভাবনায় সাজানো হবে।
ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাকিব হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ইশক-এ-নুসরাত শুধুমাত্র একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়; এটি কিংবদন্তি ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং তাঁর সংগীতের চিরন্তন আবেদন উদ্যাপনের একটি বিশেষ উদ্যোগ।’
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় দর্শনার্থীদের জন্য অডিটরিয়ামের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। মূল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে এবং রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
সীমিত আসনের এই অনুষ্ঠানে প্রবেশের টিকিটের দাম ৯৯৯ টাকা থেকে শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। যমুনা সেতুর ভবিষ্যৎ টোল আয়কে নগদায়ন বা ‘অ্যাসেট মনিটাইজেশন’ করার উদ্দেশ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘যমুনা সেতু সুকুক আল-ইজারা’ (ইসলামিক বন্ড) পুঁজিবাজারে ছাড়ার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিনিয়োগ সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিবির প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের তৈরি এই কৌশলগত প্রস্তাবনাটি যদি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি ব্যাংক এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ কমিয়ে নতুন মহাসড়ক ও বন্দর অর্থায়নে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি টেকসই দেশি বিকল্প মডেলের উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে দেশের অবকাঠামো অর্থায়নে দেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ আমার দেশকে জানিয়েছেন, "সরকার এর মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক টাকা পাবে এবং এই অর্থ দিয়ে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। উন্নত দেশগুলো মূলত এভাবেই তাদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। যমুনা সেতুতে প্রতিদিন নিয়মিত ব্যাপক অঙ্কের টোল আদায় হচ্ছে, তাই এ খাতটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে কেবল ঋণ নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বেশিদূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনা করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পরে মেট্রোরেল বা পদ্মা সেতুকেও যুক্ত করা যেতে পারে। তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
বিকল্প অর্থায়নের বৈশ্বিক নজির
জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ আয়কে কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহের নজির রয়েছে। আইসিবির প্রস্তাবনায় ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এনএইচএআই) সম্পদ নগদায়ন কর্মসূচির উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই সংস্থাটি টোল অপারেট ট্রান্সফার (টিওটি), ইনভিট এবং সিকিউরিটাইজেশনের মতো পদ্ধতিতে চালু সড়ক প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে আয় হওয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে।
মালয়েশিয়ার উত্তর-দক্ষিণ এক্সপ্রেসওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্লাস এক্সপ্রেসওয়ের অর্থায়ন কাঠামোও উল্লেখযোগ্য। সেখানে সড়ক অবকাঠামোর আয়কে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তুরস্কেও সড়ক ও সেতু অবকাঠামোর পরিচালনা এবং টোল আদায়ের অধিকারভিত্তিক বিভিন্ন অর্থায়ন মডেল ব্যবহৃত হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ আয়কে অর্থায়নের উৎস হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে আইসিবি মনে করছে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও সুকুকের সম্ভাবনা
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের বাজার এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। বাজারটি মূলত শেয়ারনির্ভর হওয়ায় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহে বিকল্প আর্থিক পণ্যের প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুকুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগপণ্য হওয়ায় এটি ইসলামি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে নতুন সুকুকের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, মুনাফার হার, মেয়াদ, তারল্য এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। যমুনা সেতুর মতো চালু অবকাঠামোর নিয়মিত টোল আয় এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পণ্যের আর্থিক ভিত্তি হতে পারে।
যমুনা সেতুর আর্থিক সক্ষমতা ও প্রস্তাবিত রূপরেখা
আইসিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে চালুর পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টোল বাবদ মোট ৯ হাজার ৩০৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সবশেষ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৭৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সেতুর টোল আয়কে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করা গেলে সরকারের চলমান অবকাঠামো সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত সুকুকের মেয়াদ হবে ২০ বছর। এর মুনাফার হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ০.৫ শতাংশ যোগ করে। এ ছাড়া ১০ বছর পর সুকুক প্রত্যাহারের সুযোগ বা কল অপশন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) পূরণের জন্য সুকুকটিকে অনুমোদিত সিকিউরিটি হিসেবে বিবেচনার বিষয়টিও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শর্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) মূল সম্পদসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। আইসিবি ট্রাস্টি এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সুকুকের আইনি কাঠামো, টোল আয়ের ওপর বিনিয়োগকারীদের অধিকার এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
ঝুঁকি মোকাবিলায় সিংকিং ফান্ড ও সরকারি গ্যারান্টি
জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি এ অর্থায়ন কাঠামোয় কয়েকটি ঝুঁকিও রয়েছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়া, টোল আদায়ে বিঘ্ন, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা নীতিগত কারণে টোলহার বাড়ানো সম্ভব না হলে প্রত্যাশিত আয় কমে যেতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় টোল আয় থেকে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য দায় পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত অর্থের একটি অংশ দিয়ে সিংকিং ফান্ড বা সংরক্ষিত তহবিল গঠনের প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। এ তহবিল থেকে নির্ধারিত শর্তে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধে সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।
একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকারি গ্যারান্টি বা অন্য কোনো ক্রেডিট-সহায়তা রাখা হবে কি না—তা স্পষ্ট করা জরুরি। সরকারি গ্যারান্টি দেওয়া হলে তার পরিধি, শর্ত ও সম্ভাব্য আর্থিক দায় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছ হিসাব, নিয়মিত টোল আয়ের তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং ট্রাস্টির কার্যকর তদারকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সংগৃহীত অর্থ নতুন মহাসড়ক, বন্দর এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি সম্পদের অর্থনৈতিক ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দেশি অর্থায়নের নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু, এর আর্থিক শর্ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, যারা লিবিয়া থেকে ফিরে এসেছেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই দুই যুবক।
তাদের মধ্যে একজন হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে সবুজ আলী (২২) এবং অন্যজন আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।
স্থানীয় ও পরিবারের সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। তাদের সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাদের আটক করে এবং তাদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, তাদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম এবং এলেঙ্গা এলাকার আমিন জড়িত। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালিত অটোচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে এক পর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাননি স্বজনেরা।
এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর বড় ভাই মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ জানান, আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসনের আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। একই সঙ্গে সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ