রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৬ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। এ উদ্যোগের নাম ‘উদ্যোগ': উপজেলা-ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’। নির্বাচিত একজন তরুণ উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে; প্রত্যেক উদ্যোক্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ সীমার অর্থ পাওয়ার অধিকারী হবেন না।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে আয় উৎসারী, উৎপাদনমুখী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, ব্যবসা কার্যকর করার জন্য পরামর্শ এবং বাজারসংযোগের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক মূলধনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ কর্মসূচিতে প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিক আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে। নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকলেও আবেদন করা যাবে। ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রস্তাবনাও যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
তবে আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ নেওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবেন না। একইভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি ব্যক্তি এ কর্মসূচিতে আবেদন করার যোগ্য হবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর যাচাইয়ে ঋণখেলাপি প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। যদি কেউ অসত্য তথ্য দেন কিংবা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদন বাতিল হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
কৃষি থেকে প্রযুক্তি—সব বৈধ উদ্যোগে সুযোগ
কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ সব ধরনের ব্যবসা ও উদ্যোগকে বিবেচনা করা হবে। প্রচলিত ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক ধারণাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে। তবে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম কর্মসূচির আওতায় আসবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ফিনটেক, এডটেক, এগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো নতুন খাত তরুণদের জন্য বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, পর্যটন এবং স্থানীয় সম্পদভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আনা সম্ভব।
২০ লাখ টাকার অর্থায়ন, অর্ধেক ঋণ অর্ধেক অনুদান
কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে সমন্বিত অর্থায়ন বা ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং। নির্বাচিত একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন নির্ধারণ করা যাবে। এই অর্থায়নের ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সীমায় একজন উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকঋণ এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পেতে পারেন। তবে প্রয়োজন কম হলে অর্থায়নের পরিমাণও কম হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা, প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা এবং চূড়ান্ত মূল্যায়ন বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎসের অর্থ থাকলে সেটিও অর্থায়ন পরিকল্পনায় যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অনুদান মিলবে ঋণের সঙ্গে
নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা অনুদান তহবিল হিসেবে দেওয়া হবে। তবে কোনো উদ্যোক্তা ঋণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেই কেবল অনুদান পাওয়ার যোগ্য হবেন। ব্যাংকঋণ ও অনুদান একই সময়ে এককালীন এবং অনুমোদিত পূর্ণ পরিমাণে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে বিতরণ করতে হবে। নগদে কোনো অর্থ দেওয়া যাবে না।
তবে অনুদানের সঙ্গে শর্তও রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা কোনো পর্যায়ে ঋণের সঠিক ব্যবহার হয়নি বলে প্রতীয়মান হলে বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তা পৃথকভাবে হিসাবভুক্ত করবে এবং ওই অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া আর্থিক সহায়তার সমপরিমাণ পোস্ট-ডেটেড চেক উদ্যোক্তার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান বিতরণের সময় গ্রহণ করতে হবে।
জামানত ছাড়াই ঋণের সুযোগ
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে জামানত। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়াই ঋণ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ প্রচলিত অর্থায়ন ব্যবস্থায় অনেক নতুন উদ্যোক্তার জন্য যে জামানতসংক্রান্ত বাধা থাকে, এ কর্মসূচিতে সেই বাধা কিছুটা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন। যে ব্যাংকে আবেদন করবেন, সেখানে আগে থেকেই হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ব্যাংকের শাখা থেকেও আবেদনপত্রের কপি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ—যদি থাকে—পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং যথাযথভাবে পূরণ করা আবেদন ফরম জমা দিতে হবে। আবেদন ফরমে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ব্যবসা বা চাকরির অভিজ্ঞতা, ব্যাংক হিসাব, বিদ্যমান ঋণ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হবে।
নতুন ব্যবসা করতে আগ্রহীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশে ব্যবসায়িক ধারণার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, সম্ভাব্য ক্রেতা, কত সময়ের মধ্যে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্য অবস্থান, পণ্যের ধরন, কাঁচামালের উৎস, বাজার, সম্ভাব্য বিক্রয় এবং সম্ভাব্য লাভের তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনায় সম্ভাব্য সমস্যা ও ঝুঁকি এবং সেগুলো মোকাবিলার পরিকল্পনা, প্রথম বছরে সম্ভাব্য কর্মসংস্থান এবং বাজারে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তথ্যও দিতে হবে।
যারা ইতোমধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের জন্য আবেদনপত্রে ব্যবসার নাম, ব্যবসার ধরন, ব্যবসা শুরুর তারিখ, ট্রেড লাইসেন্স, পণ্য বা সেবার গড় বিক্রয়মূল্য, বিক্রয়ের পরিমাণ এবং লাভের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচামাল ও ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন খাতে মাসিক সম্ভাব্য ব্যয়, উদ্যোক্তা কীভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, ব্যবসায় মোট বিনিয়োগের পরিমাণ, কাঁচামালের উৎস, বিপণন এলাকা, বাজারে পণ্য বা সেবার অবস্থান, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক ঝুঁকি এবং কর্মীর সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে সেটিও আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে বাছাই
কর্মসূচির বাস্তবায়নে তফসিলি ব্যাংকগুলোর শাখাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের শাখাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালাবে, উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করবে এবং প্রকৃত উদ্যোক্তা শনাক্ত ও যাচাইয়ে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে একটি ব্যাংককে লিড ব্যাংক হিসেবে মনোনীত করবে। ওই লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।
উপজেলার সব আবেদন জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। আবেদন গ্রহণকারী ব্যাংকের শাখাগুলো আবেদন পাওয়ার পরবর্তী কার্যদিবসে তা উপজেলা লিড ব্যাংকের কাছে পাঠাবে। উপজেলা লিড ব্যাংক পরবর্তী কার্যদিবসে সব আবেদন জেলা লিড ব্যাংকের কাছে পাঠাবে। এরপর জেলা লিড ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অফিসের কাছে আবেদনগুলো পাঠাবে।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উদ্যোক্তা নির্বাচন
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উদ্যোক্তা বাছাই ও চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছাড়াও সফল ও স্বনামধন্য উদ্যোক্তা, তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট খাতের শিল্পনেতা, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন।
আবেদনকারীর ব্যবসায়িক ধারণার যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা, বাজারের সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনা করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের তালিকা ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট লিড ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
নির্বাচিত হলেই ঋণ নিশ্চিত নয়
তবে নির্বাচিত হওয়া মানেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিজস্ব ঋণনীতি এবং দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করে ঋণ অনুমোদন করতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তার তালিকার ক্রমানুসারে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। কোনো উদ্যোক্তার ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যাংককে প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
অর্থ বিতরণের পরও ব্যাংকের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। অনুমোদিত ব্যয় পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ব্যবসার অগ্রগতি, বিক্রয় ও নগদ প্রবাহ, ঋণ পরিশোধের অবস্থা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগে সহায়তা
শুধু অর্থায়ন নয়, উদ্যোক্তা তৈরির জন্য অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ পরামর্শকের ধারাবাহিক পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ ব্যবসা নিবন্ধনের বিষয়ে সহায়তা এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থের ব্যবহার হবে নির্দিষ্ট খাতে
আবেদনপত্রে অর্থায়নের পরিকল্পনা ও ব্যয় বিভাজনের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় মোট মূলধন, নিজস্ব বিনিয়োগ এবং আবেদনকৃত অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। ব্যয়ের খাত হিসেবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, কাঁচামাল ও উপকরণ, পরিচালন ব্যয়, প্রোটোটাইপ বা নমুনা উন্নয়ন, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্স, বিপণন ও প্রচার, কর্মীর মজুরি, পরিবহন ও সরবরাহ, প্রযুক্তি-সফটওয়্যার-ইন্টারনেট এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো খাত রাখা হয়েছে। এ অর্থ ব্যক্তিগত ভোগ, জমি বা যানবাহন কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ব্যয়ের ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংককে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।
তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারিতে জোর
প্রতিটি ব্যাংককে নির্বাচিত উদ্যোক্তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নাম, বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা, উপজেলা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ব্যবসার ধরন, নিজস্ব বিনিয়োগ, অনুমোদিত ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ, ঋণের মেয়াদ, বিতরণের তারিখ, পুনঃঅর্থায়ন, ঋণ পরিশোধের তথ্য এবং শ্রেণিকৃত বা পুনঃতফসিলকৃত ঋণের অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, আবেদন গ্রহণ, ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ, অনুদান বিতরণ, পুনঃঅর্থায়ন এবং ঋণ আদায়ের তথ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়মিত জানাতে হবে। কেন্দ্রীয় পোর্টাল, এমআইএস ড্যাশবোর্ড ও জাতীয় উদ্যোক্তা ডেটাবেস চালু হলে এসব তথ্য সেখানে আপলোড করতে হবে।
আবেদন জমার শেষ সময় ১৫ অক্টোবর
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন ফরম অনুযায়ী, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ আগামী ১৫ অক্টোবর। অর্থাৎ আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ—যদি থাকে—দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ—যদি থাকে—এবং ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ জমা দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকায় মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধরের কারণে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেওকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে (২২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
নিহত গেন্দু মিয়া (২০) এবং অভিযুক্ত হৃদয় চরদেওকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ওরফে কালাচাঁনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত গেন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তার মা ও ভাইকে মারধর করতেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে গেন্দু মিয়া মাদক ও একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য টাকা দিতে তার মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি মাকে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে হৃদয় ছুটে গিয়ে বাধা দিলে গেন্দু মিয়া ছুরি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন। এসময় দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে হৃদয়ের ছুরিকাঘাতে গেন্দু মিয়া গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত গেন্দু মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রæত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত হৃদয়কে আটক করেছে। নিহত গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সংঘটিত ভয়াবহ নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ একশ পাতারও বেশি গোপন নথি প্রকাশ করেছে, যা ওসামা বিন লাদেনের সাথে সম্পর্কিত।
এই নথিগুলোতে সত্তরটিরও বেশি প্রেসিডেন্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা থেকে জানা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতের মতো অন্যান্য দেশগুলোতেও হামলার পরিকল্পনা ছিল আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের।
১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে তৈরি একটি নথিতে দেখা যায় যে, লাদেন বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই তালিকায় ভারতের নামের পাশাপাশি পাকিস্তান, মিসর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং নাইজেরিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে অন্তত ষাটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা তার অনুসারীদের মাধ্যমে হামলা চালানোর সক্ষমতা ছিল।
মার্কিন প্রশাসনের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশকে একাধিকবার বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন গোয়েন্দারা।
সিআইএ এই ফাইলগুলো প্রকাশ করেছে ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়ের আগের স্পর্শকাতর তথ্যগুলো জনসাধারণের সামনে আনতে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর রামপুরা থানার মালিবাগে অবস্থিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। অমিত ঘোষ (১৭) নামের এই শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে শঙ্কটাপন্ন। তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অমিতের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, "ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা একটি বহুতল ভবনের ছাদ কিভাবে খোলা রেখেছে?" কিশোর শিক্ষার্থীদের ছাদে ভ্রমণের বাসনা থাকতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পুলিশ ও অমিতের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, অমিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ইংলিশ ভার্সনের ছাত্র। তার বাবা একজন স্বর্ণকার এবং মা গৃহিনী। রবিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১ তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় অমিত। উপুড় হয়ে পড়ার কারণে তার নাক, মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। নিচে খোলা মাঠ থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা পরে তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। জানা গেছে, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে অমিত পড়ে যায়। অমিতের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামপুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রামপুরা থানার এসআই হোসেন ইনকিলাব জানান, তিনি জানতে পেরেছেন, অমিতের ক্লাস ছিলো ৬ তলায়।
তবে তিনি ছাদে গিয়ে নিজেই লাফ দেন। হয়তো তার উদ্দেশ্য ছিলো আত্মহত্যা। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অমিতের ব্যাগে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যদিও সুইসাইড নোট তার হাতে নেই। তিনি বিষয়টি কেবল শুনেছেন। সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সে সম্পর্কে তার কোনো তথ্য নেই।
এদিকে, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ধহরসব নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ তবে সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। কিছু লোক বলছেন, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
অপরদিকে, স্কুলের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ১১ তলা ভবনের ছাদ খোলা রয়েছে। সেখানে এখনো কাজ চলছে। ক্লাস চলাকালীন কেন নির্মাণ কাজ চলছে এবং কর্তৃপক্ষ কেন ছাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এ বিষয়ে তারা জোরালোভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম ও উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে এবং এর সংশোধনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি একই সাথে এই বিলটি পাসের আগে ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় হেফাজতের নেতারা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত নতুন আইনে মুসলিমদের হেবা (দান) নিয়ে আইনগত জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস করায় তারা উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।
হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের যথাযথ পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
সভায় আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়। হেফাজত নেতারা বলেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের আইন পড়েছেন কি না, এমন প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তাদের আপত্তির শরিয়াগত ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করা উচিত।
নেতারা আরও বলেন, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টনব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধান পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান তারা।
হেফাজত নেতারা জানান, তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে বিলটির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন। একই সাথে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, কোনো ধরনের বিরোধে না গিয়ে আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হোক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া সহ হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ