প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর রামপুরা থানার মালিবাগে অবস্থিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। অমিত ঘোষ (১৭) নামের এই শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে শঙ্কটাপন্ন। তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অমিতের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, "ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা একটি বহুতল ভবনের ছাদ কিভাবে খোলা রেখেছে?" কিশোর শিক্ষার্থীদের ছাদে ভ্রমণের বাসনা থাকতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পুলিশ ও অমিতের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, অমিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ইংলিশ ভার্সনের ছাত্র। তার বাবা একজন স্বর্ণকার এবং মা গৃহিনী। রবিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১ তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় অমিত। উপুড় হয়ে পড়ার কারণে তার নাক, মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। নিচে খোলা মাঠ থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা পরে তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। জানা গেছে, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে অমিত পড়ে যায়। অমিতের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামপুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রামপুরা থানার এসআই হোসেন ইনকিলাব জানান, তিনি জানতে পেরেছেন, অমিতের ক্লাস ছিলো ৬ তলায়।
তবে তিনি ছাদে গিয়ে নিজেই লাফ দেন। হয়তো তার উদ্দেশ্য ছিলো আত্মহত্যা। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অমিতের ব্যাগে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যদিও সুইসাইড নোট তার হাতে নেই। তিনি বিষয়টি কেবল শুনেছেন। সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সে সম্পর্কে তার কোনো তথ্য নেই।
এদিকে, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ধহরসব নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ তবে সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। কিছু লোক বলছেন, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
অপরদিকে, স্কুলের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ১১ তলা ভবনের ছাদ খোলা রয়েছে। সেখানে এখনো কাজ চলছে। ক্লাস চলাকালীন কেন নির্মাণ কাজ চলছে এবং কর্তৃপক্ষ কেন ছাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এ বিষয়ে তারা জোরালোভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম ও উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন