রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকায় মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধরের কারণে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেওকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে (২২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
নিহত গেন্দু মিয়া (২০) এবং অভিযুক্ত হৃদয় চরদেওকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ওরফে কালাচাঁনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত গেন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তার মা ও ভাইকে মারধর করতেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে গেন্দু মিয়া মাদক ও একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য টাকা দিতে তার মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি মাকে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে হৃদয় ছুটে গিয়ে বাধা দিলে গেন্দু মিয়া ছুরি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন। এসময় দুই ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে হৃদয়ের ছুরিকাঘাতে গেন্দু মিয়া গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত গেন্দু মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রæত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত হৃদয়কে আটক করেছে। নিহত গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সংঘটিত ভয়াবহ নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ একশ পাতারও বেশি গোপন নথি প্রকাশ করেছে, যা ওসামা বিন লাদেনের সাথে সম্পর্কিত।
এই নথিগুলোতে সত্তরটিরও বেশি প্রেসিডেন্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা থেকে জানা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতের মতো অন্যান্য দেশগুলোতেও হামলার পরিকল্পনা ছিল আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের।
১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে তৈরি একটি নথিতে দেখা যায় যে, লাদেন বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই তালিকায় ভারতের নামের পাশাপাশি পাকিস্তান, মিসর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং নাইজেরিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে অন্তত ষাটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা তার অনুসারীদের মাধ্যমে হামলা চালানোর সক্ষমতা ছিল।
মার্কিন প্রশাসনের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশকে একাধিকবার বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন গোয়েন্দারা।
সিআইএ এই ফাইলগুলো প্রকাশ করেছে ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়ের আগের স্পর্শকাতর তথ্যগুলো জনসাধারণের সামনে আনতে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর রামপুরা থানার মালিবাগে অবস্থিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। অমিত ঘোষ (১৭) নামের এই শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে শঙ্কটাপন্ন। তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অমিতের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, "ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা একটি বহুতল ভবনের ছাদ কিভাবে খোলা রেখেছে?" কিশোর শিক্ষার্থীদের ছাদে ভ্রমণের বাসনা থাকতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পুলিশ ও অমিতের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, অমিত সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ইংলিশ ভার্সনের ছাত্র। তার বাবা একজন স্বর্ণকার এবং মা গৃহিনী। রবিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১ তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় অমিত। উপুড় হয়ে পড়ার কারণে তার নাক, মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। নিচে খোলা মাঠ থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা পরে তাকে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। জানা গেছে, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে অমিত পড়ে যায়। অমিতের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামপুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রামপুরা থানার এসআই হোসেন ইনকিলাব জানান, তিনি জানতে পেরেছেন, অমিতের ক্লাস ছিলো ৬ তলায়।
তবে তিনি ছাদে গিয়ে নিজেই লাফ দেন। হয়তো তার উদ্দেশ্য ছিলো আত্মহত্যা। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অমিতের ব্যাগে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যদিও সুইসাইড নোট তার হাতে নেই। তিনি বিষয়টি কেবল শুনেছেন। সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সে সম্পর্কে তার কোনো তথ্য নেই।
এদিকে, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ধহরসব নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ তবে সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। কিছু লোক বলছেন, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
অপরদিকে, স্কুলের একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ১১ তলা ভবনের ছাদ খোলা রয়েছে। সেখানে এখনো কাজ চলছে। ক্লাস চলাকালীন কেন নির্মাণ কাজ চলছে এবং কর্তৃপক্ষ কেন ছাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এ বিষয়ে তারা জোরালোভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম ও উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে এবং এর সংশোধনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি একই সাথে এই বিলটি পাসের আগে ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় হেফাজতের নেতারা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত নতুন আইনে মুসলিমদের হেবা (দান) নিয়ে আইনগত জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামী শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস করায় তারা উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।
হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের যথাযথ পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
সভায় আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়। হেফাজত নেতারা বলেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের আইন পড়েছেন কি না, এমন প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তাদের আপত্তির শরিয়াগত ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করা উচিত।
নেতারা আরও বলেন, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টনব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধান পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান তারা।
হেফাজত নেতারা জানান, তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে বিলটির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন। একই সাথে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, কোনো ধরনের বিরোধে না গিয়ে আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হোক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া সহ হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুরোপুরি দেশীয় দক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় অর্ধশতকের পুরোনো এই শিল্পে এখনও অনেক কারখানা ও বায়িং হাউজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সেই মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে, যা কাজে লাগালে পুরো শিল্প দেশীয় জনবল দিয়েই পরিচালনা করা সম্ভব। একইসঙ্গে, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে একদিন বাংলাদেশের মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের উচ্চ পদে নিয়োগ দিতে অন্যান্য দেশ প্রতিযোগিতা করে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারের একটি হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার একদিকে টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধি ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, অন্যদিকে তরুণদের জন্য বিপুল ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে দেশে যেমন ভালো জীবিকা পাবেন, তেমনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও যেন তাদের চাহিদা তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা এমন হতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পেশাগত ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াবে। শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রমেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আবেগ ও অনুভূতির জায়গা বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর সময়ের বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি ও নগদ প্রণোদনার মতো নীতিগুলো এ শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
পোশাক খাতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ নারীরাও এ শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গ্রামের একজন তরুণীর তৈরি পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছে। এ কারণে পোশাক খাত শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তি নয়, লাখো শ্রমিকের শ্রম ও ত্যাগেরও প্রতীক।
বর্তমান সরকারের সময়ে পোশাক খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সাত মাসে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা, উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পকে আধুনিকায়নে কাজ চলছে। বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা নিয়মিত সংলাপ ও মতবিনিময় করছেন।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিতে গবেষণা, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। শ্রমশক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পোশাকের নকশায় নতুনত্ব আনতে প্রতিটি কারখানায় গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করবে, তবে সেই প্রযুক্তি হতে হবে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক। প্রযুক্তির অজুহাতে কোনোভাবেই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও ত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই দেশের পোশাক শিল্প আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে মানবসম্পদের দক্ষতার সমন্বয় করাই সরকারের লক্ষ্য।
পোশাক শিল্পের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সময়োপযোগী ও বিশেষায়িত কোর্স চালুর আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন। এতে তরুণরা প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিল্পের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে কারখানার বাস্তব অভিজ্ঞতার সেতুবন্ধন তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং শিল্পের সফল ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ার মেলা ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তরুণ উদ্ভাবকদের সহায়তায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, নতুন স্টার্টআপ প্রকল্পে প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। দীর্ঘদিনের সংকট ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক কাজ থমকে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে সব সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সরকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতায় কোনো ঘাটতি নেই।
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইনোভেশন’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বিপুল তরুণ শক্তি ও উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। সরকার সহায়ক নীতি প্রণয়ন করবে এবং বেসরকারি খাত তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, কোনো একটি শিল্প এককভাবে সফল হতে পারে না। টেকসই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম, যেখানে সব অংশীজন একসঙ্গে কাজ করবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনায় বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানার মালিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের একত্রিত করাকে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘৩৬০ ডিগ্রি’ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, এক্সপোর্ট বন্ড ও আইটি বিভাগের সদস্য ফারজানা আফরোজ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার ড. আইয়ুব নবী খান, এইচ অ্যান্ড এমের রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিংয়ের কান্ট্রি হেড শাদাব হোসেন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল অ্যাপারেল সাপ্লাই চেইন আশফাকুর রহমান অংশ নেন।
এর আগে শনিবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে তিন দিনব্যাপী এ মেলার দ্বিতীয় দিনে পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প নিয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা শেষে মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন মাহ্দী আমিন। মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ