ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাগুরার ফটকি নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়


মাগুরার ফটকি নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

মাগুরার শালিখা উপজেলার বড়শলই গ্রামে ফটকি নদীর ব্রিজ এলাকায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এই নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।

নৌকা বাইচে শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর এলাকার নৌকা প্রথম স্থান অর্জন করে, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে মাগুরা সদর উপজেলার বাগেরহাট গ্রামের নৌকা এবং তৃতীয় স্থান দখল করে শালিখা উপজেলার মনকালি গ্রামের নৌকা। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থের পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত

এ সময় নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেন, নতুন প্রজন্মকে মাদকের থাবা ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে নৌকাবাইচসহ হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে এনে সব ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে বের করে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদকের থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে, কারণ তারাই দেশের ভবিষ্যৎ।

নৌকাবাইচকে ঘিরে ফটকি নদীর দুই পাড়ে দেশীয় ঐতিহ্যের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, নৌকাবাইচ দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শনার্থীরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের মাধ্যমে নির্মল বিনোদনের সুযোগ পাওয়ায় আয়োজকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ৮ বছর ধরে বিদ্যুৎ খুঁটি-মিটার থাকলেও সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে নেই বিদ্যুৎ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোরিয়ার সঙ্গে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপনের আশা প্রকাশ হুমায়ুনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


কোরিয়ার সঙ্গে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপনের আশা প্রকাশ হুমায়ুনের

বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দ্রুত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সই, বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং বর্ধিত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।

পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকের সময়, প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-কে বাংলাদেশ সফরের জন্য একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

তিনি কোরীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান এবং বাংলাদেশ-কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সইয়ের অগ্রগতির প্রশংসা করে এটি দ্রুত সই হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজার প্রবেশাধিকার এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হাই-এন্ড তৈরি পোশাক, আইসিটি ও অন্যান্য প্রযুক্তি-নির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবামূলক খাতেও বিভিন্ন সুযোগের কথা তুলে ধরেন।

হুমায়ুন কবির কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন যাতে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো প্রসারিত হয়।

কোরিয়ার উন্নয়ন অংশীদারির প্রশংসা করে তিনি জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

কোরিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে রূপান্তরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।"

প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক (এফওসি) এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে দুই পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার ওপর আলোচনা কেন্দ্রীভূত ছিল।

হুমায়ুন কবির কোরিয়ার সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরো বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

তিনি কোরিয়ার সামরিক কর্মীদের বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রদত্ত বিশেষায়িত কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানোর আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী কোরীয় পক্ষকে জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা এগিয়ে নিতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আমন্ত্রণ জানান।

কোরীয় পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় এবং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমসহ পারস্পরিক সম্মত ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা অন্বেষণের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকার কথাও উল্লেখ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ে বিএসআরএম প্লান্ট পরিদর্শন করলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


মিরসরাইয়ে বিএসআরএম প্লান্ট পরিদর্শন করলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় ইস্পাত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের শিল্প প্লান্ট পরিদর্শন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্লান্ট পরিদর্শনের পর আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "দেশে ও বিদেশে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।" জনগণের দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যৌথভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, "সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।" তিনি জানান, ছোট পরিসরে হলেও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সফল ও দৃষ্টান্তমূলক মডেল তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, "কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম সূচক।" তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিএসআরএমের কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের অধিকার এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হবে।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ এবং বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রীয় কারখানা চালুসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


রাষ্ট্রীয় কারখানা চালুসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

দেশের ৪৫টি রাষ্ট্রীয় কারখানার বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেগুলো চালু করার, ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করার এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টিইউসির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম। বক্তৃতা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মোবারক হোসেন, হকার্স নেতা সেকান্দার হায়াৎ, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং মহান মে দিবসে বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে, পাট, চিনি, বস্ত্র, কাগজ, সার, ইস্পাত, রাসায়নিক ও প্রকৌশলসহ ৪৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এসব কারখানার বেসরকারিকরণের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় শিল্প-সম্পদ লুটপাটের সুযোগ তৈরি করবে।

নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রকৃত মালিকানা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এবং সংসদে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরো বলেন, অতীতে যেসব রাষ্ট্রীয় কারখানা বেসরকারিকরণ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই কার্যকরভাবে চালু থাকেনি। তাই, বেসরকারিকরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সমাবেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও উৎপাদন ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে বৈষম্য বাড়ছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ন্যূনতম জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং গার্মেন্টস ও নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৪৫টি রাষ্ট্রীয় কারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়নের মাধ্যমে চালু করা, সব বন্ধ কারখানা চালু ও শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ, স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন ও ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, সব সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করা।

এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রেশন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ এবং চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়।

শ্রমিক হত্যার বিচার, ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত, বকেয়া বেতন ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধ, সমকাজে সমমজুরি ও পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে ছয় মাস স্ব-বেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি আইন করে চালুর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা লাল পতাকা নিয়ে মিছিল করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজিতপুর সমিতি-ঢাকার সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা জাতীয় প্রেস ক্লাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


বাজিতপুর সমিতি-ঢাকার সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা জাতীয় প্রেস ক্লাবে

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ঢাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সংগঠন বাজিতপুর সমিতি-ঢাকার সম্মেলন ২০২৬ উপলক্ষে একটি বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাজিতপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এতে ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, চাকরিজীবী, শিক্ষক, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং সমিতির সদস্যরা সম্মেলন সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা সভায় উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসরত বাজিতপুরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে সমিতিকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক সহায়তা এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সমিতির সদস্যদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।

তারা বলেন, বাজিতপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ করা সমিতির অন্যতম লক্ষ্য। নিজেদের পেশাগত অবস্থান ও ব্যস্ততার বাইরে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, ‘বাজিতপুরের মানুষ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ঢাকায় থাকা এই মানুষগুলোকে একটি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধনে যুক্ত করতে পারলে এলাকার জন্যও অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব।’

আয়োজকরা জানান, ‘চলতি মাসেই একটি দিনক্ষণ ঠিক করে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি হবে। বাজিতপুরের মানুষের কল্যাণে সমিতিকে আরো সক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হবে।’

সভায় সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি, সদস্যদের অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাজিতপুরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসময় নেতারা সম্মেলন সফল করতে ঢাকায় বসবাসরত বাজিতপুরের সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর সমিতি ঢাকার সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রফিকুর রহমান দিলীপ, সদস্য সচিব সাবেক সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. ফজলে এলাহী ভূইয়া। এ ছাড়া সমিতির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- সাবেক বাসস’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মনোজ কান্তি রায়, সমিতির সিনিয়র সদস্য বাচ্চু মিয়া, ব্যবসায়ী ঝন্টু কুমার সাহা, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ, মো. সেলিম আহমেদ, বিএফইউজে সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত লরেল, শামীম ইমাম, শাহরিয়ার শামীম, সুশান্ত কুমার ঘোষ, শহীদুল ইসলাম দুলাল ও মো. ফারুকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শতাধিক সদস্য এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%