ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজায় যুদ্ধবিরতি কেবল নামমাত্র, বাস্তবে নেই: মানবিক সংগঠনগুলোর দাবি


গাজায় যুদ্ধবিরতি কেবল নামমাত্র, বাস্তবে নেই: মানবিক সংগঠনগুলোর দাবি

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছর অতিক্রম করলেও ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি, খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতি থেমে থাকেনি। ইসরাইলি হামলার ফলে গত এক বছরে গাজায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এই অবস্থায় ১০০টির বেশি মানবিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখন শুধুমাত্র নামেই বিদ্যমান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব সংগঠন উল্লেখ করে, গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত ও আহত হচ্ছেন। তাছাড়া, ত্রাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পুনর্গঠনসামগ্রীর ওপর বিধিনিষেধের কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম ও গ্রিনপিসসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিবৃতিতে অংশগ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: কৃষ্ণসাগরে জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে বুলগেরিয়া

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু চুক্তির এক বছর পরও সেখানে সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ১৮৯ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২৭টি শিশু রয়েছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জান এগেলান্ড মন্তব্য করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছর পরও ফিলিস্তিনিদের জীবনে সামান্যই পরিবর্তন এসেছে। গাজায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইনগার অ্যাশিং বলেন, যখন শিশুরা নিহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে না, তখন যুদ্ধবিরতির অর্থই হারিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ঋণ কমাবেন, সামাজিক ব্যয় কমাবেন না: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি হিসাব অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ২৪ শতাংশ এমন ধরনের আঘাত পেয়েছেন, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন। এদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ শিশু।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে জবাবদিহির বিষয়টি চাপা পড়ে থাকতে পারে না। ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চান আবু নাসের রহমতুল্লাহ, সমর্থকদের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চান আবু নাসের রহমতুল্লাহ, সমর্থকদের দাবি

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর পক্ষে দাবি জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা। গ্রুপিংমুক্ত রাজনীতি, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব এবং নগর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাকে সামনে রেখে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সমর্থকদের বক্তব্য, বরিশাল নগরীতে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা, নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের মতে, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা রাখেন। তবে তাঁর জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তার বিষয়ে স্বাধীন জরিপ বা নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় এ দাবিগুলোকে সমর্থকদের মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

সমর্থকদের দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা রয়েছে আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর। তাঁদের মতে, বরিশাল নগরীতে দলীয় ঐক্য জোরদার করতে পারস্পরিক সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের বক্তব্য, দলের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তাঁকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।

আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর সমর্থকেরা তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি, সততা, নিষ্ঠা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, কর্মীদের পাশে থাকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা একজন জনপ্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

তবে এসব মূল্যায়নের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততা সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

 

সমর্থকেরা মনে করেন, বরিশালকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সড়ক উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি এবং জনদুর্ভোগ কমানোর মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা তাঁদের।

একই সঙ্গে মাদক প্রতিরোধ, তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষামুখী করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তাঁরা।


বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের সাংগঠনিক অবস্থান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত এবং নগরবাসীর প্রত্যাশা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা মনোনয়নসংক্রান্ত ঘোষণা পাওয়া না পর্যন্ত তাঁকে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা এবং দলের মনোনয়ন নির্ধারিত হবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুযায়ী।

সংবাদসূত্র: আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহর সমর্থকদের মনোনয়নসংক্রান্ত দাবি ও বক্তব্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের আয়োজনে সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় হোটেল সাহিদ প্যালেসের মিলনায়তনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহবায়ক ডা. মোঃ আবু হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শাফিউজ্জামান সুমনের উপস্থাপনায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সায়ীদ মেহেবুব উল কাদির।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডা. এহসানুল হক তন্ময়। এরপর চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নোট উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সার্জন অধ্যাপক ডা. ওয়ালিউর রহমান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন এবং ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন। বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় উপস্থাপন করেন ডা. এম.বি. আজম। প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে ছিলেন ডা. ফকির মোহাম্মদসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকবৃন্দ।

সায়েন্টিফিক সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত শতাধিক চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কায়রোতে সম্মাননা ক্রেস্ট পেলেন কক্সবাজারের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


কায়রোতে সম্মাননা ক্রেস্ট পেলেন কক্সবাজারের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক

মিশরের রাজধানী কায়রোতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট লাভ করেছেন কক্সবাজারের মা’হাদ আন-নিবরাসের পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক। এই সম্মাননা ‘আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।

সম্প্রতি কায়রোতে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে, আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুর রহমান, মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হকের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মাননা গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক বলেন, “আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও প্রবাসী ভাইদের পক্ষ থেকে পাওয়া এ সম্মাননা আমার একার অর্জন নয়; এটি সবার ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রতীক। এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে প্রবাসীদের কল্যাণে এবং দেশ ও মানুষের সেবায় আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হককে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষা, দাওয়াহ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা আরও উজ্জ্বল করতে তাঁর অব্যাহত ভূমিকা থাকবে।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক কক্সবাজারের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান মা’হাদ আন-নিবরাসের পরিচালক। বর্তমানে তিনি মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততার পাশাপাশি এ সম্মাননা তাঁর ভবিষ্যৎ সমাজসেবামূলক উদ্যোগে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী বন্দীদের শিশু সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


নারী বন্দীদের শিশু সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স বৃদ্ধি

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

কারা অধিদপ্তর ধাপে ধাপে দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন নারী বন্দী রয়েছেন। এসব বন্দী মায়েদের সাথে ৩৫০ জন শিশু কারাগারে আটক রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮ জন ছেলে শিশু এবং ১৭২ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। কারাগারে মহিলা বন্দিদের সাথে থাকা শিশুদের চিকিৎসা উন্নত করার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ এবং নার্স বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারা বিধান অনুযায়ী ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকার সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারগুলোতে ডে কেয়ার বা সেল, ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও খেলাধুলার বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। এখানে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। তিন বছরের বেশি বয়সী শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয় ডে-কেয়ার সেন্টারে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য, গান ও চিত্রাঙ্কণ শেখানো হয়।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, "দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা তাদের শিশু সন্তানদের স্বাস্থসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স বৃদ্ধি এবং ফার্মাসিষ্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, "পর্যায়ক্রমে দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং সেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার বিষয়ে কার্যক্রম চলছে।" কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম যোগ করেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে কারাগারগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সংশোধন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য অচিরেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগের এবং ডে-কেয়ার সেন্টার ও নার্স বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, মায়ের সাথে আটক শিশুদের মধ্যে যেসব শিশু দুগ্ধপোষ্য, তাদের দুধের পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার প্রদান করে।

এছাড়াও কারাগারে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিয়মিত তাদের চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। প্রতিটি কারাগারেই শিশুদের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী ও যে সকল শিশু প্রাথমিক শিক্ষার গ্রহণের বয়স হয়েছে তাদেরকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার ও খুলনা জেলা কারাগারসহ মোট ৮টি কারাগারে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বাসস’কে বলেন, "কারাগারের ডে-কেয়ারে যেসব শিশু থাকে তাদের জীবন যাপনের জন্য স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনন্দিন খাবারের ব্যবস্থা করে।" তিনি আরও জানান, তাদের চিকিৎসাও কারা কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকে। নারীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে মায়ের সাথে থাকা শিশুদের পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়।

বিশেষ দিবস যেমন— মহান বিজয় দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে মায়ের সাথে থাকা শিশুদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

কারাগারে মায়ের সাথে থাকা শিশুদের খাবারের তালিকা মূলত কারা বিধি অনুযায়ী কারা হাসপাতালের চিকিৎসক নির্ধারণ করে থাকে। অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জেল সুপারকে অতিরিক্ত খাবার প্রদানের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। সে মোতাবেক মায়ের সাথে থাকা শিশুকে অতিরিক্ত খাবার প্রদান করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, "এখানে একটি বিশেষায়িত ও নারী কারাগার রয়েছে। এখানে বন্দি মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন।" বন্দি নারীদের মধ্যে মাদক মামলা ও সাধারণ মামালাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, "এ কারাগারে বর্তমানে মহিলা বন্দীর সংখ্যা ৮১৩ জন ও তাদের ৬০ জন শিশু সন্তান রয়েছে।" তিনি জানান, মহিলা বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ডে-কেয়ার সেন্টার বৃদ্ধি ও নার্স বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে। কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, দেশে কারা ব্যবস্থার গোড়াপত্তন ঘটে ১৭৮৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে। পুরানো ঢাকার চকবাজার এলাকায় একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড বা বন্দিখানা নির্মাণের মাধ্যমে কারাগারে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পরবর্তীতে ১৮৩৬ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা সদরে কারাগার নির্মাণ করা হয় ও ১৮৬৪ সালে সমন্বিত কারা ব্যবস্থাপনার যাত্রা শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%