প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
কারা অধিদপ্তর ধাপে ধাপে দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন নারী বন্দী রয়েছেন। এসব বন্দী মায়েদের সাথে ৩৫০ জন শিশু কারাগারে আটক রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮ জন ছেলে শিশু এবং ১৭২ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। কারাগারে মহিলা বন্দিদের সাথে থাকা শিশুদের চিকিৎসা উন্নত করার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ এবং নার্স বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারা বিধান অনুযায়ী ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকার সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারগুলোতে ডে কেয়ার বা সেল, ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও খেলাধুলার বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। এখানে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। তিন বছরের বেশি বয়সী শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয় ডে-কেয়ার সেন্টারে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য, গান ও চিত্রাঙ্কণ শেখানো হয়।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, "দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা তাদের শিশু সন্তানদের স্বাস্থসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স বৃদ্ধি এবং ফার্মাসিষ্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, "পর্যায়ক্রমে দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং সেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার বিষয়ে কার্যক্রম চলছে।" কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম যোগ করেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে কারাগারগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সংশোধন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য অচিরেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগের এবং ডে-কেয়ার সেন্টার ও নার্স বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, মায়ের সাথে আটক শিশুদের মধ্যে যেসব শিশু দুগ্ধপোষ্য, তাদের দুধের পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার প্রদান করে।
এছাড়াও কারাগারে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিয়মিত তাদের চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। প্রতিটি কারাগারেই শিশুদের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী ও যে সকল শিশু প্রাথমিক শিক্ষার গ্রহণের বয়স হয়েছে তাদেরকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।
এছাড়াও কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার ও খুলনা জেলা কারাগারসহ মোট ৮টি কারাগারে ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বাসস’কে বলেন, "কারাগারের ডে-কেয়ারে যেসব শিশু থাকে তাদের জীবন যাপনের জন্য স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনন্দিন খাবারের ব্যবস্থা করে।" তিনি আরও জানান, তাদের চিকিৎসাও কারা কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকে। নারীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে মায়ের সাথে থাকা শিশুদের পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়।
বিশেষ দিবস যেমন— মহান বিজয় দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে মায়ের সাথে থাকা শিশুদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
কারাগারে মায়ের সাথে থাকা শিশুদের খাবারের তালিকা মূলত কারা বিধি অনুযায়ী কারা হাসপাতালের চিকিৎসক নির্ধারণ করে থাকে। অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জেল সুপারকে অতিরিক্ত খাবার প্রদানের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। সে মোতাবেক মায়ের সাথে থাকা শিশুকে অতিরিক্ত খাবার প্রদান করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, "এখানে একটি বিশেষায়িত ও নারী কারাগার রয়েছে। এখানে বন্দি মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন।" বন্দি নারীদের মধ্যে মাদক মামলা ও সাধারণ মামালাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "এ কারাগারে বর্তমানে মহিলা বন্দীর সংখ্যা ৮১৩ জন ও তাদের ৬০ জন শিশু সন্তান রয়েছে।" তিনি জানান, মহিলা বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ডে-কেয়ার সেন্টার বৃদ্ধি ও নার্স বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে। কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তর জানায়, দেশে কারা ব্যবস্থার গোড়াপত্তন ঘটে ১৭৮৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে। পুরানো ঢাকার চকবাজার এলাকায় একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড বা বন্দিখানা নির্মাণের মাধ্যমে কারাগারে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
পরবর্তীতে ১৮৩৬ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা সদরে কারাগার নির্মাণ করা হয় ও ১৮৬৪ সালে সমন্বিত কারা ব্যবস্থাপনার যাত্রা শুরু হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন