নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ;আবু তালেব
০৮:৩৮ পি.এম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অপতথ্য ছড়িয়ে নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা এবং উস্কানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য, সাংবাদিক ফোরামের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) শিক্ষার্থীদের ২ দফা দাবিতে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত করা আন্দোলনের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান সাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়।
জানা যায়, গত ১১ জুলাই বহিরাগত কয়েকজন যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর গোপনে ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করলে যুবকেরা নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং পরবর্তীতে তদন্ত কেন্দ্র থেকে মুক্তি পায়। তবে উক্ত ক্ষমা চাওয়ার ঘটনার ভিডিওটি ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও কালবেলার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ আল গালিব। পরবর্তীতে ভিডিওটি ক্লিকবেইট সম্পাদনা করে ভুক্তভোগীর বক্তব্য ছাড়া এবং ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের ফেসবুক পেইজ থেকে প্রকাশ করে।
পরে, ভিডিওটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এক ছাত্রীর ছবি নিয়ে বিভিন্ন ভুঁইফোড় পেইজ থেকে তাকে হেনস্তা ও সাইবার বুলিং করা হয়। সেসময় ওইসব পোস্টে উস্কানিমূলক কমেন্ট করে সাংবাদিক ফোরামের সেই সদস্য।
এসবের ফলে সেই নারী শিক্ষার্থী চরমভাবে সাইবার বুলিং ও সামাজিক হেয়প্রতিপন্নতার শিকার হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে পোস্টটি অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও, সাংবাদিক ফোরামের অসতর্কতা ও অহেতুক বিলম্বের কারণে বিষয়টি আরও গুরুতর আকার ধারণ করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (১৯ জুলাই) ২ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নারী শিক্ষার্থী হেনস্থার ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। টানা আন্দোলনের মুখে সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফেল আফ্রাদ বলেন, আমাদের বিভাগে ক্যাম্পাসে বাইরে থেকে আসা কিছু ছেলে শিক্ষার্থী গোপনে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনার সৃষ্টি হয়। আমরা চেয়েছিলাম তারা যেনো তাদের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ভিডিও ধারণ শুরু করে, তখন ছেলেগুলো সেই সাংবাদিকের পায়ে ধরে এবং আমরা এই ভিডিওগুলো প্রচারে নিষেধ করি। কিন্তু এর পরেও তারা এই ভিডিও কাটপিস করে ভিউ ব্যবসার জন্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাদের পেজ থেকে প্রচার করে। যার ফলে এলাকাবাসীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই কারণে আমরা এই হলুদ সাংবাদিকের কার্যক্রম নিষিদ্ধ চাই।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের পেইজ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সাংবাদিক ফোরাম। যেখানে তারা সেই ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীর নামসহ পরিচয় প্রকাশ করে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শাকিল বাবুকে একাধিকবার কল করা হলেও, তিনি রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রমখাতে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে শোভন কর্মপরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হুংবোর সঙ্গে বৈঠককালে এই কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে দুই দিনের সফরের অংশ হিসেবে আইএলও মহাপরিচালক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ শ্রমখাতে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে শোভন কর্মপরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী শ্রম সুশাসন জোরদার করা, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও দক্ষ শ্রম অভিবাসন সহজতর করতে আইএলও’র অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক অংশীদারিত্ব কামনা করেন।
শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেন যে, শ্রমখাতের সংস্কারে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আইএলও গভর্নিং বডির আসন্ন অধিবেশনে যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাবে। একই সঙ্গে আইএলও’র সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে।
কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন আইএলও মহাপরিচালক। তিনি শ্রমখাতের সংস্কার, শোভন কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও প্রচেষ্টায় আইএলও’র অব্যাহত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
হুংবো বলেন, দেশের শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশের সাফল্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে আইএলও’র কাজের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হতে পারে।
বাংলাদেশ এবং আইএলও'র মধ্যে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষই তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে আয়োজিত কল্যাণ সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস।
এছাড়া কল্যাণ সভায় জেলার কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যবৃন্দ এবং সিভিল স্টাফরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সভার সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং কল্যাণ বিষয়ক বিষয়াদি পুলিশ সুপারের কাছে তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার মহোদয় উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভাব্য সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মোঃ একরামুল হক (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোঃ ইয়াসির আরাফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবেশনারি) এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কল্যাণ সভা শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জুন/২০২৬ মাসের অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয়ের সভাপতিত্বে এই সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে বিশেষ সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংকলনে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক প্রবন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের জুলাইকেন্দ্রিক কর্মসূচি স্থান পাবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লেখা আহ্বান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার (১৯ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংকলনের জন্য লেখা ও জুলাইসংক্রান্ত কর্মসূচির বিবরণ আগামী ২৭ জুলাই জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে। [email protected] এই ই-মেইল ঠিকানায় বাংলা ১২ পয়েন্ট (SutonnyMJ ফন্ট) ব্যবহার করে লেখা জমা দেওয়া যাবে।
ঢাবি প্রশাসন জানিয়েছে, সংকলনটিতে জুলাই যোদ্ধাদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ও গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের জুলাইকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচির বিবরণ সংকলিত হবে।
এ সংকলন প্রকাশের লক্ষ্যে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক।
অন্যদিকে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় স্যার এ এফ রহমান হল মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ মুক্তির মাস জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। এ সময় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ, প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন এবং ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই স্যার এ এফ রহমান হল সন্ত্রাসমুক্ত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়।
দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলেও পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
এছাড়াও, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে। পাশাপাশি, শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই, অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে প্রকাশিতব্য এ সংকলন ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ১৩ দিনব্যাপী ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৬’। রবিবার (১৯ জুলাই) সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডে এর উদ্বোধন করা হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উক্তি করেন, এই যৌথ প্রশিক্ষণ সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিকে আরো শক্তিশালী করবে। রাষ্ট্রদূতের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতীক।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘টাইগার লাইটনিং’ হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিকে আরো সুদৃঢ় করা হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ফরমেশন প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মহড়া আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ড থেকে ৯১ জন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড ও বিভিন্ন ফরমেশন থেকে ৯৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যৌথ আভিযানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি আরো জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ