বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৯ পি.এম
শেখ হাসিনা পলাতক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। তাই, তার দেশে ফেরার জন্য পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত নিতে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংকে বিদায় জানিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাস্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি একজন পলাতক সন্ত্রাসী। শেখ হাসিনা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনার হস্তান্তরই চায় বাংলাদেশ। তার দেশে ফেরার জন্য পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এদিকে, বাংলাদেশে ফিরে আসা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। তবে এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি নয়াদিল্লি। যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আট দিন পর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দপ্তর ত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত রাকসুর কোষাধ্যক্ষের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার বিদায়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে আম্মার উল্লেখ করেন, "প্রিয় রাবিয়ানরা! আপনারা আমার মতো নগণ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এই সম্মান দিয়েছিলেন। আমি আপনাদের জন্য নিজের সামর্থ্য, সময়, শ্রম দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক ভুল করেছি, সেগুলোর জন্য আপনাদের নিকট আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে আপনারা একটা নতুন জীবন দিয়েছেন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত না করলে হয়তো বা নীরবে নিভৃতে হারিয়ে যেতাম কচুরিপানার মতো।"
তিনি আরও লেখেন, "প্রশাসনের চিঠি অনুযায়ী আজ ৪ নভেম্বর রাকসুর চাবি এবং আসবাবপত্র হস্তান্তরের কথা। আলহামদুলিল্লাহ, বড় একটা দায়িত্ব থেকে মুক্ত আমি। শেষ সময়টা ভাগ করে নিলাম আমার এক বছরের সঙ্গী রাকসুর কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাইদের সঙ্গে। সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন। এখন থেকেই পরবর্তী রাকসুর লড়াই এবং বিগত ৯ দফা আন্দোলনের লড়াই চলবে রাবি সংস্কার আন্দোলন প্লাটফর্মে।"
সালাহউদ্দিন আম্মার রাকসুর ১৭তম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিদায়ের ফলে রাকসু ভবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তার এই বিদায় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরশহরের পুন্ডুরা সেওড়াতলা এলাকার একটি মাদ্রাসার হেফজখানায় ঘুমন্ত অবস্থায় ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাতের কব্জি কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। কীভাবে তার হাত কাটল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
আহত শিক্ষার্থীর নাম সিফাত। সে ওই এলাকার রুবেল মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে পড়াশোনা শেষে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে সিফাত। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাশের বিছানায় থাকা এক শিক্ষার্থী তাকে ডেকে বলে, তার বিছানা ভেজা কেন। তবে সিফাত কোনো সাড়া দেয়নি।
পরে ফজরের নামাজের সময় শিক্ষার্থীরা ঘুম থেকে উঠে বাতি জ্বালালে সিফাতের বিছানায় রক্ত দেখতে পায়। তাকে ডেকে তোলার পর দেখা যায়, তার হাতের কব্জিতে কাটা ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছে।
বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জানানো হলে বড় হুজুর মাওলানা নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা সিফাতের হাতের কব্জিতে কাটা দেখতে পেয়ে কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান বেঁধে দেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরে ফজরের নামাজ শেষে সিফাতের বাবাকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে রুবেল মিয়া দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার হাতের কব্জির ক্ষতস্থানে সেলাই করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন।ঘটনায় শিশুটির বাবা রুবেল মিয়া মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নুরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
১১ বছরের শিশুটির হাত কীভাবে কাটল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছে পরিবার। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় বইছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এলাকাবাসী এঘটনার সুষ্ঠতদন্তের মাধ্যমে আসল রহস্য উদঘাটন করার জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে তারেক রহমানকে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য প্রেরিত হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান এনসিপির আহ্বায়ক বরাবর এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘চাঁদাবাজি ও লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন, দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’। এই বক্তব্য ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশে নাহিদ ইসলামকে জানানো হয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর চ্যানেল ওয়ান ও চ্যানেল আই-এ সন্ধ্যার পর প্রকাশিত তার বক্তব্য ‘চাঁদাবাজি, লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন। দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এই বক্তব্যের কারণে তিনি বিব্রত, ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই বক্তব্যকে অমার্জনীয় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঈর্ষান্বিত করে অবাস্তব, কাল্পনিক মন্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের মতো পদধারী ব্যক্তির কাছ থেকে এমন অগ্রহণযোগ্য, কাল্পনিক, অজ্ঞ, জ্ঞানহীন এবং রাজনৈতিক অপ্রজ্ঞার বক্তব্য জাতি কখনো আশা করেনি। এই ধরনের বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সহায়তা করার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থ বিভাগ বুধবার (৪ নভেম্বর) এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় এবং সতর্ক করে যে, ইরান সরকারকে সহায়তা প্রদানকারী যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে তারা ‘ব্যবস্থা’ অব্যাহত রাখবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা ইরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা বন্ধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা মার্কিন অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে আসে, যখন ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করে এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। ভোটারদের ক্ষোভের মধ্যে, যা ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে, এই ফলাফল এসেছে।
পূর্বে, গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ বিভাগ জানিয়েছিল যে, তাদের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বুধবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ভারত-ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং ওই দম্পতির দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আরও দুই ভারতীয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, সুনীল শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৯টি প্রতিষ্ঠানও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ