০৯:৪৯ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন বিষয়ক একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকাল ৫ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী পিপিএম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ) মোঃ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোবারক হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল
সমাবেশের সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাঈনুল ইসলাম চপল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি বলেন, সমাজে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাদের আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোষ্ঠীগত দ্বন্ধ ও সংঘর্ষের কারণে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। যারা এসব সংঘর্ষে জড়িত হয়ে মানুষ হত্যা করছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুঃখজনক বিষয় হলো, সংঘর্ষের পাঁচ-ছয় মাস পর সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনি বলেন, "আমি এ ধরনের আপস-মীমাংসার পক্ষে নই। যারা মানুষ হত্যা করে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমবে। সবকিছুর আগে আমাদের সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, "যারা স্বামীর ঘরে নির্যাতন হবে সে আমার বোন, কন্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোষ্ঠীগত দ্বন্ধ ও সংঘর্ষের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এ ধরনের সংঘাতের পেছনের কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ২ ঈদে কতদিন ছুটি, জানা গেল
তিনি আরো বলেন, চুরি, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন