০২:১৬ এম
সরকার দেশের ৬৪ জেলায় পর্যায়ক্রমে ৬৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, জানিয়েছেন নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে কেয়ারারস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক কেয়ারারস দিবস ২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে সরকার আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ। ছেলে, মেয়ে, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ (এনডিডি) অথবা নন-এনডিডি নির্বিশেষে সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করার জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় নিয়োজিত অভিভাবকদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের পরিচর্যা করতে গিয়ে যেসব বাবা-মা কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেন না, তাদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও কাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চায় না, বরং তাদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে চায়।
মন্ত্রী দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষাদানের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষকের সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য একটি সরকারি কলেজ রয়েছে। সরকার এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার্য বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ তৈরির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ও ক্রীড়াবিদরা যেন সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সেজন্য সাভারে আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় তিন শতাধিক কেয়ারার তাদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এসময় তারা একটি সমন্বিত ‘জাতীয় কেয়ারার কাঠামো’ গড়ে তোলার দাবি জানান।
কেয়ারারস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব কামরুজ্জামান দুলাল। এছাড়া, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন