০২:১৫ এম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মামলার সাক্ষী এস এম সায়েমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার এ সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং জুলাই আন্দোলনে মিরপুর অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সায়েম ১৩তম সাক্ষী হিসেবে সালমান রহমান এবং আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ৩ নভেম্বর জবানবন্দি প্রদান করেন। গতকাল তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
জেরা শেষে সায়েম ট্রাইব্যুনালের কাছে নিরাপত্তা চান। সায়েম জানান, তিনি মিরপুর ২ নম্বরে বসবাস করেন। নিজ বাসার সামনে এক ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করেছেন। বাসার সামনে অচেনা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরবর্তীতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে তাকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। একটি ককটেল তার সামনে পড়ে এবং অন্যটি তার থেকে প্রায় ১০ ফুট দূরে পড়ে। ককটেল ফাটিয়ে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এছাড়া বাসার সামনে গিয়ে লোকজন তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং বিদেশ থেকেও ফোন করে গালাগালি করা হচ্ছে।
এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন, তার মক্কেলরা তো কারাগারেই আছেন। এই সাক্ষী এত দিন সাক্ষ্য দিলেন, তখন কোনো অভিযোগ করেননি; কিন্তু আজ তার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। পরে সায়েমের নিরাপত্তা চেয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়। এরপর আদালত আদেশ দেন।
এদিন মামলার আসামি সালমান এফ রহমান কথা বলার অনুমতি নিয়ে আদালতকে জানান, ‘সাক্ষীরা বলেন তাঁরা ন্যায়বিচার চান, আমিও ন্যায়বিচার চাচ্ছি।’ সালমান এফ রহমান আরও বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলাম। বার কাউন্সিল নাকচ করেছে বলে খবরের কাগজে দেখেছি। আইন সংশোধন করে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিধান করা হয়েছে, অথচ আমাদের কোনো কারণ জানানো হয়নি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বিদেশি আইনজীবী খুবই প্রয়োজন। যাতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়, সেই প্রার্থনা করছি।’
সালমান এফ রহমানের বক্তব্যের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের আইনে আছে বার কাউন্সিল অনুমতি দিলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করা যাবে।’
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান ও আনিসুল সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন