সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৫ পি.এম
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী জাহাজের চলাচল নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা ও জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য নির্দেশ করে, গত এক সপ্তাহে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা ‘কাতার-এনার্জি’ (QatarEnergy)-এর সাথে যুক্ত একাধিক এলএনজি ট্যাঙ্কার নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই জলসীমা অতিক্রম করেছে।
শিপিং ডেটা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান 'কপলার' (Kpler) এবং 'এলএসইজি' (LSEG)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ইরানি হামলার আশঙ্কায় কাতার বা কাতারের রাস লাফান (Ras Laffan) গ্যাস টার্মিনাল থেকে আসা কোনো এলএনজি জাহাজের দৃশ্যমান উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের কারণে ওই সময়ে অনেক জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বা ট্র্যাকিং ডিভাইস বন্ধ রেখে গোপন যাত্রা বা "ডার্ক ট্রানজিট" (Dark Transits) সম্পন্ন করেছিল।
তবে চলতি মাস থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা এসব জাহাজের অবস্থান পুনরায় ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান থেকে এলএনজি কার্গো নিয়ে রওয়ানা হওয়া ‘গ্যাসলাগ স্কেগেন’ (GasLog Skagen) নামক একটি বিশালাকার এলএনজি ট্যাঙ্কার রোববার শ্রীলঙ্কা উপকূলে পুনর্দৃশ্যমান হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত, যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) পরিবাহিত হয়ে থাকে। চলমান যুদ্ধের কারণে এ প্রণালীতে বাধার সৃষ্টি হলেও, কৌশলগত ঝুঁকি এড়াতে রাডার ট্র্যাকিং বন্ধ রেখে বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে জাহাজ চালানো অব্যাহত রেখেছিল অনেক পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার এই লক্ষণকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্ব পর্যবেক্ষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বার্লিনে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জোসেফ হিন্টারসেহার এই আহ্বান জানান।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “একটি দখলদার শক্তি হিসেবে অবরুদ্ধ অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছানো নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ও আইনি দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাজার মানবিক পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও, সামগ্রিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পুনর্নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি।
শীতকাল ঘনিয়ে আসার আগে গৃহহীনদের আবাসন সংস্থানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে হিন্টারসেহার ইসরায়েলকে অনুরোধ করেন যে, তারা যেন 'ইরেজ' (Erez) ক্রসিংয়ে জার্মানির প্রদান করা মিলিটারী কার্গো স্ক্যানারগুলো ব্যবহার করে। তিনি জানান, বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (Dual-use) পুনর্নির্মাণ সামগ্রী দ্রুত ও নিরাপদে গাজায় পাঠাতে এ স্ক্যানারগুলো অত্যন্ত সহায়ক হবে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অব্যাহত ইসরায়েলি বিমান ও সামরিক অভিযানে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে যে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ও ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছালে আসন্ন শীতে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্সের পাঠদানকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ৯০০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করবে। এই মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণের জন্য ৯০ জন কোর ট্রেইনার প্রস্তুত করা হবে। কোর্সটির কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণসামগ্রী ভ্যালিডেশন সম্পন্ন হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে এ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের রোলআউট পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি, প্রশিক্ষক নির্বাচন, বাজেট, প্রশিক্ষণ এলাকা নির্ধারণ এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ‘Applied ICT Master Trainer’ ও ‘In-House Teacher Training’-এর কনসেপ্ট নোট নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ব্লেন্ডেড লার্নিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। কোর ও মাস্টার ট্রেইনারদের অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করার পর পাঁচ দিনব্যাপী সরাসরি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।
ইতোমধ্যে প্রথম বর্ষে ৯০ জন কোর ট্রেইনার ও ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন-হাউস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ইন-হাউস প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য বাজেট, কোর ও মাস্টার ট্রেইনারদের চূড়ান্ত তালিকা এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন জোন ও ম্যাপিং এলাকা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্সের পাঠদানকে আরও কার্যকর করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণ কলেজ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে শিক্ষকেরা প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং শিক্ষার্থীরাও শ্রেণিকক্ষে অ্যাপ্লাইড আইসিটির ব্যবহারিক দিকগুলো ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাবে।
সভায় ইউনিসেফের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আশেক কবির চৌধুরী, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে সাফল্যের দিক থেকে কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একের পর এক শিরোপা—ক্যারিয়ারে অর্জনের অভাব ছিল না তার। তবে মাঠের বাইরের জীবনে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে সাবেক এই তারকাকে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ক্যারিয়ারে উপার্জিত সম্পদের প্রায় পুরোটাই হারিয়ে ফেলেছেন।
লিসবনে আয়োজিত ‘পর্তুগাল ফুটবল সামিটে’ নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে উপার্জন করা অর্থের ৯৯ শতাংশ একপর্যায়ে তার হাতছাড়া হয়ে যায়।
ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ ও ফেনারবাচের মতো ক্লাবে খেলে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিলেন কার্লোস। কিন্তু পরবর্তীতে ভুল মানুষের ওপর আস্থা রাখাই তার জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের প্রতি তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন, তাদের কারণেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ সঞ্চিত সম্পদের বড় অংশ হারাতে হয়েছে।
নিজের সেই দুঃসময়ের কথা বলতে গিয়ে কার্লোস জানান, এক রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর পরদিন সকালে উঠে তিনি এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তার ভাষায়, "বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর শুক্রবার সকালে উঠে সামনে দেখতে পান নথিপত্রের বিশাল স্তূপ।" সেগুলোর বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। তখনই বুঝতে পারেন, অতীতে কষ্ট করে উপার্জন করা সম্পদের প্রায় সবটাই হারিয়ে ফেলেছেন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদেরও সতর্ক করেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তার মতে, একজন খেলোয়াড়ের উচিত শুধু মাঠের ক্যারিয়ার নিয়েই না ভেবে অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়েও আগেভাগে পরিকল্পনা করা।
কার্লোস আরও বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় ও ভাবমূর্তি তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেও ফুটবল ছাড়ার আগেই স্পোর্টিং ডিরেক্টরের লাইসেন্স নিয়েছিলেন এবং কয়েকটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন। ফলে বিপুল সম্পদ হারানোর পরও সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলো তাকে পরবর্তী জীবনে কাজে দিয়েছে।
ক্যারিয়ারে ঠিক কত অর্থ আয় করেছিলেন কার্লোস, সেটিও কম বিস্ময়কর নয়। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, পুরো পেশাদার ক্যারিয়ারে তার আয় ছিল আনুমানিক ১৬ কোটি ইউরো। তবে খেলোয়াড়দের এজেন্টদের সঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়েই তার বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন কার্লোস। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপাও জিতেছেন তিনি। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের বয়সভিত্তিক দলের কোচের পাশাপাশি ক্লাবটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করছেন এই কিংবদন্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে শাহজাদপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুর ১২:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। মতবিনিময় সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ ও শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী, শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং পৌর জামাতের আমির আমিনুল ইসলাম, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন, শাহজাদপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাজী তামিম এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, "স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।" স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপাচার্য মহোদয় বলেন, "রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আপনাদেরই সন্তান। তাদের শাসন করার পাশাপাশি ভালোবাসা ও সহযোগিতা করার দায়িত্বও আপনাদের, আমাদের সবার।" শিক্ষার্থীরা যেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনায় শাহজাদপুরের পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, "রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।" বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ইতিবাচক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ