শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৩ পি.এম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারকে স্থগিত করেছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রদেশটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জারদারির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একজনকে।
এতে কারাবন্দি এই নেতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। এদিকে, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
রয়টার্স জানায়, রবিবার আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন জারদারি। সম্প্রতি সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারকে স্থগিত করেছেন জারদারি। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রদেশটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জারদারির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একজনকে।
তবে পিটিআইয়ের অভিযোগ, জরুরি অবস্থা জারির অজুহাতে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি, দলের সমর্থকেরা যাতে মিছিল নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রাদেশিক বাজেটের অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে দলটি।
বুধবার প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের হাইকোর্টে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে পিটিআই। ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফি বুখারি বলেন, "সন্ত্রাসবাদের মতো জটিল বিষয়ের সঙ্গে ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়টি মিলিয়ে দেখা হাস্যকর।"
জরুরি অবস্থা জারির আগে প্রদেশটিতে ইমরান খানের হাজারো সমর্থক সমাবেশ করেন। ইমরানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে তাদের ইসলামাবাদে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই মিছিলের আগে ইমরানের তিন বোন, দলের নেতাসহ কয়েক শ সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজাম শেঠি বলেন, ইমরান খানের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠবে। তার মতে, পিটিআই একই সঙ্গে ইমরানের মুক্তির বিষয়ে কোনো ছাড় আদায় করতে পারেনি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিজেদের সরকারের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে। দলের নেতাদেরও কারাবন্দি হতে দিয়েছে।
শেঠির মতে, এ পরিস্থিতিতে ইমরান খান ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরো বাড়তে পারে।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত কয়েক মাস ধরে কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও বন্ধ ছিল। ইমরানের এক চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, রক্তচাপের ওঠানামা এবং একাকী কারাবাসের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছে তার পরিবার ও দল। তারা জরুরি চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন।
দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় বিক্ষোভ প্রাণঘাতী সংঘর্ষে শেষ হয়েছিল। ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পরও পাকিস্তানজুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে। আলোচনায় ইমরানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা, কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগ এবং লন্ডনে থাকা তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ চায় দলটি।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, সরকারও পিটিআইয়ের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার নিন্দা জানানো, হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীদের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের সঙ্গে কাজ করা।
রয়টার্সকে তালাল চৌধুরী বলেন, পিটিআই যেসব দাবি জানিয়েছিল, সরকার তার প্রায় সবই মেনে নিয়েছিল। তবে তার দাবি, দলটি সরকারের শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
১৯৭৫ সালের পর থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে পাঁচবার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং একবার করে পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিবারই কয়েক মাসের মধ্যে আদালত বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এবারের জরুরি অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্লেষকেরা। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের অজুহাতে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হতে পারে। স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইকে অর্থবহ রাজনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যাংকক, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি হলেও, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করে যে, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে এবং নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান।
এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এই চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে।
ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।
তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব এবং আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।
আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়।
ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের টোকিওতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। এ বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এটি ছিল গত এক মাসের মধ্যে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র যে জেনারেলদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল, তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। এই তথ্যটি রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনায় মূলত একজন মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং আমেরিকানদের লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো (স্ক্যাম সেন্টার) বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আলোচনা মিয়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের মতো আরও বিস্তৃত বিষয়ের আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
এই আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। বৈঠকের সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন, তাদের মধ্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি।
সর্বশেষ এই আলোচনার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো সাড়া দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তারা মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রাখে। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের একজন মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
আলোচনা আয়োজনে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমেইলের মাধ্যমে জানায়, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই ‘প্রয়োজনীয় যোগাযোগ’ বজায় রেখেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনা বা আদান-প্রদান নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, গত মাসে নেপিদোতে মাইকেল ভ্যান্স এবং মিয়ানমারের অভ্যুত্থানকারী নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যকার বৈঠকটি আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। টোকিওতে দ্রুত পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয়, উভয় পক্ষই এই সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টার একটি বড় লক্ষ্য হলো—মিয়ানমারে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে মিয়ানমারের সহায়তা নেওয়া। এসব কেন্দ্র থেকে রোমান্টিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি চালানো হয়, যার মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, অনেক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এমন সব এলাকায় পরিচালিত হয়, যা সেনাবাহিনী-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছায়। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, তারা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো দমনের লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মিয়ানমারে থাকা ভারি বিরল উপাদানের বিশাল মজুত নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ খুঁজছেন। বৈদ্যুতিক যানবাহন থেকে শুরু করে উইন্ড টারবাইন—এমন নানা পণ্য তৈরিতে এই উপাদানগুলো ব্যবহৃত হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা রয়েছে। এই খনিজ মজুতগুলো মূলত এমন সব অঞ্চলে অবস্থিত, যা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা উপাদানের প্রধান ক্রেতা চীন—তারাও হয়তো মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকাকে ভালোভাবে নেবে না।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি মিয়ানমারের বিষয়ে তাদের নতুন কৌশলের অংশ।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেছে, ‘এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে, দেশটিতে নিজেদের প্রধান স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপায় বা কৌশল ব্যবহার করে এসেছে, সেগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতিও এতে রয়েছে।’
মিন অং হ্লাইং এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো, পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থান দমন করা এবং ২০১৬-২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার ঘটনায় তার ভূমিকা রয়েছে—যা ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বিমান হামলায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, যা দেশটিতে ব্যাপক গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘লোউই ইনস্টিটিউটের’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটন মনে করেন, জাপানে সাম্প্রতিক এই আলোচনাগুলো প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারকে কেবল একটি ‘লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে দেখছে।
মার্সটন বলেন, ‘মিয়ানমারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানগুলোকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার প্রতি ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনও অবসর নেননি। তিনি জাতীয় দলের হয়ে আবারও মাঠে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকায়, জাতীয় দলে ফিরতে হলে তাকে ফিটনেস পরীক্ষা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিতে হবে।
জাহানারা বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং সেখানে ক্লাব ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে, জাহানারা নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া মানসিক ও যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমানে তিনি নতুন বোর্ডের কাছে জাতীয় দলে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু ঢাকা পোস্টকে জানান, ‘সে অনেকদিন আগে বলেছিল ফিরতে চায়, বোর্ডকে জানিয়েছে। সে দেশের হয়ে আবার খেলতে চায়। এখন খেলতে হলে সাধারণত যেসব প্রক্রিয়া আছে, সেটা অনুসরণ করতে হবে। ঘরোয়াতে খেলতে হবে, ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এরপর নিয়মিত পারফরম্যান্স করতে হবে। বাকিটা নির্বাচকদের ব্যাপার।’
জাহানারার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নারী দলের নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে ওয়েলকাম করব ফিরতে চাইলে। অনেকদিন যেহেতু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি জাহানারা, সেই কারণে তাকে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। এরপর ঘরোয়াতে পারফর্ম করতে হবে। তার স্কিল কেমন আছে দেখতে হবে, ভালো করলে বিবেচিত হবে।’
বিসিবি আসন্ন ঘরোয়া ক্রিকেটে জাহানারার অংশগ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে। এ প্রসঙ্গে সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, ‘এ ছাড়া সামনে ঘরোয়া খেলা রয়েছে, দল তো ঠিক। বিসিবি দেখবে তাকে কোন দলে দেবে, তবে আগে তো তাকে ফিরতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নয়াদিল্লি মার্কিন প্রশাসনকে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
১১ অক্টোবর, ইলিনয়ের প্যালাটাইন এলাকা থেকে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি অঙ্গরাজ্যটির অরোরা এলাকায় অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পরিকল্পনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতও রয়েছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণ তার সহকর্মীদের কাছে আট পাতার একটি ডিজিটাল নথি পাঠিয়েছিলেন। ওই নথিতে ভারতীয়, ইহুদি ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের অবমাননাকর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে এবং এসব জনগোষ্ঠীর যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে তারা অবগত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী বিদ্বেষ ও ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনকে দেশটিতে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ করেছে তারা।
ভারতের প্রত্যাশা, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্যালাটাইন ও মাউন্ট প্রস্পেক্টের পুলিশ সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ১১ অক্টোবরই মন্দিরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ