শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৪ পি.এম
জাপানের টোকিওতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। এ বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এটি ছিল গত এক মাসের মধ্যে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র যে জেনারেলদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল, তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে ওয়াশিংটন। এই তথ্যটি রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনায় মূলত একজন মার্কিন ব্যবসায়ীর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং আমেরিকানদের লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো (স্ক্যাম সেন্টার) বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আলোচনা মিয়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের মতো আরও বিস্তৃত বিষয়ের আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
এই আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। বৈঠকের সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন, তাদের মধ্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি।
সর্বশেষ এই আলোচনার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো সাড়া দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তারা মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রাখে। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের একজন মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
আলোচনা আয়োজনে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমেইলের মাধ্যমে জানায়, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই ‘প্রয়োজনীয় যোগাযোগ’ বজায় রেখেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনা বা আদান-প্রদান নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, গত মাসে নেপিদোতে মাইকেল ভ্যান্স এবং মিয়ানমারের অভ্যুত্থানকারী নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যকার বৈঠকটি আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। টোকিওতে দ্রুত পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয়, উভয় পক্ষই এই সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টার একটি বড় লক্ষ্য হলো—মিয়ানমারে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে মিয়ানমারের সহায়তা নেওয়া। এসব কেন্দ্র থেকে রোমান্টিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি চালানো হয়, যার মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, অনেক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এমন সব এলাকায় পরিচালিত হয়, যা সেনাবাহিনী-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছায়। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, তারা প্রতারণামূলক কেন্দ্রগুলো দমনের লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মিয়ানমারে থাকা ভারি বিরল উপাদানের বিশাল মজুত নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ খুঁজছেন। বৈদ্যুতিক যানবাহন থেকে শুরু করে উইন্ড টারবাইন—এমন নানা পণ্য তৈরিতে এই উপাদানগুলো ব্যবহৃত হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা রয়েছে। এই খনিজ মজুতগুলো মূলত এমন সব অঞ্চলে অবস্থিত, যা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা উপাদানের প্রধান ক্রেতা চীন—তারাও হয়তো মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকাকে ভালোভাবে নেবে না।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি মিয়ানমারের বিষয়ে তাদের নতুন কৌশলের অংশ।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেছে, ‘এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে, দেশটিতে নিজেদের প্রধান স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপায় বা কৌশল ব্যবহার করে এসেছে, সেগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রতিশ্রুতিও এতে রয়েছে।’
মিন অং হ্লাইং এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো, পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থান দমন করা এবং ২০১৬-২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার ঘটনায় তার ভূমিকা রয়েছে—যা ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বিমান হামলায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, যা দেশটিতে ব্যাপক গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘লোউই ইনস্টিটিউটের’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটন মনে করেন, জাপানে সাম্প্রতিক এই আলোচনাগুলো প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারকে কেবল একটি ‘লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে দেখছে।
মার্সটন বলেন, ‘মিয়ানমারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানগুলোকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার প্রতি ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনও অবসর নেননি। তিনি জাতীয় দলের হয়ে আবারও মাঠে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকায়, জাতীয় দলে ফিরতে হলে তাকে ফিটনেস পরীক্ষা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিতে হবে।
জাহানারা বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং সেখানে ক্লাব ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে, জাহানারা নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া মানসিক ও যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমানে তিনি নতুন বোর্ডের কাছে জাতীয় দলে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু ঢাকা পোস্টকে জানান, ‘সে অনেকদিন আগে বলেছিল ফিরতে চায়, বোর্ডকে জানিয়েছে। সে দেশের হয়ে আবার খেলতে চায়। এখন খেলতে হলে সাধারণত যেসব প্রক্রিয়া আছে, সেটা অনুসরণ করতে হবে। ঘরোয়াতে খেলতে হবে, ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এরপর নিয়মিত পারফরম্যান্স করতে হবে। বাকিটা নির্বাচকদের ব্যাপার।’
জাহানারার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নারী দলের নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে ওয়েলকাম করব ফিরতে চাইলে। অনেকদিন যেহেতু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি জাহানারা, সেই কারণে তাকে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। এরপর ঘরোয়াতে পারফর্ম করতে হবে। তার স্কিল কেমন আছে দেখতে হবে, ভালো করলে বিবেচিত হবে।’
বিসিবি আসন্ন ঘরোয়া ক্রিকেটে জাহানারার অংশগ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে। এ প্রসঙ্গে সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, ‘এ ছাড়া সামনে ঘরোয়া খেলা রয়েছে, দল তো ঠিক। বিসিবি দেখবে তাকে কোন দলে দেবে, তবে আগে তো তাকে ফিরতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নয়াদিল্লি মার্কিন প্রশাসনকে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
১১ অক্টোবর, ইলিনয়ের প্যালাটাইন এলাকা থেকে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি অঙ্গরাজ্যটির অরোরা এলাকায় অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পরিকল্পনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতও রয়েছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণ তার সহকর্মীদের কাছে আট পাতার একটি ডিজিটাল নথি পাঠিয়েছিলেন। ওই নথিতে ভারতীয়, ইহুদি ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের অবমাননাকর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে এবং এসব জনগোষ্ঠীর যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে তারা অবগত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী বিদ্বেষ ও ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনকে দেশটিতে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ করেছে তারা।
ভারতের প্রত্যাশা, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্যালাটাইন ও মাউন্ট প্রস্পেক্টের পুলিশ সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ১১ অক্টোবরই মন্দিরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমধ্যসাগরের তলদেশে একটি বাণিজ্যতরির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের আন্তালিয়া প্রদেশের কেকোভা দ্বীপের নিকটে এই ধ্বংসাবশেষের বয়স আনুমানিক ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন, যখন মিসরের বিখ্যাত গিজার মহাপিরামিড নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিবিসি রিপোর্ট করেছে।
জাহাজটির কাঠের কাঠামো এত দীর্ঘ সময় পানির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। তবে এর বহন করা মাটির পাত্র ও পাথরের নোঙর সমুদ্রতলে রয়ে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
কেকোভা দ্বীপের উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে ঢালু সমুদ্রতলে জাহাজটির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তিনটি বড় পাথরের নোঙর এবং ৩০টির বেশি মাটির তৈরি পণ্য সংরক্ষণের পাত্র পাওয়া গেছে। এসব পাত্রকে প্রত্নতাত্ত্বিক পরিভাষায় ‘অ্যামফোরা’ বলা হয়।
নকশায় মিলেছে জাহাজের বয়স
জাহাজটির কাঠের অংশ অবশিষ্ট না থাকায় রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে এর বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা পাত্রগুলোর আকৃতি, নকশা ও অলংকরণ বিশ্লেষণ করে সময়কাল নির্ধারণ করেন।
তুরস্কের আকদেনিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাকান ওনিজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের গবেষকেরা দেখতে পান, পাত্রগুলোর দুই পাশে হাতল, মাঝখানে উঁচু খাঁজ এবং সমতল তলদেশ রয়েছে। মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া একই ধরনের প্রাচীন পাত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। এসব তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষকেরা জাহাজটিকে প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের বলে চিহ্নিত করেছেন।
ওনিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পাত্রগুলোর অলংকরণ কৌশল বিশ্লেষণ করে জাহাজটির সময়কাল সম্পর্কে তারা অত্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন।
কোথায় যাচ্ছিল জাহাজটি?
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলের কোনো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের উপকূলীয় অঞ্চল এর সম্ভাব্য যাত্রাপথের মধ্যে পড়ে।
গবেষকেরা মনে করছেন, জাহাজটি বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন ট্রয় নগরী কিংবা গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের মিনোয়ান সভ্যতার কোনো গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল।
মিসরের গিজা, সাক্কারা ও আবুসিরের পাশাপাশি ট্রয় ও ক্রিটে একই ধরনের পাত্র পাওয়ার ঘটনা প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ চালু ছিল।
জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা পাত্রগুলোর কিছুতে এখনো ঘন, চকচকে পদার্থের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ড. কারিন সোভাডা পাত্রগুলো পরীক্ষা করে এ আবিষ্কারে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, পাত্রের ভেতরে অবশিষ্ট পদার্থের পরিমাণ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার পরও কিছু পাত্রে দৃশ্যমান অবশিষ্টাংশ টিকে থাকা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
গবেষকেরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, এসব পাত্রে কী বহন করা হয়েছিল। এগুলোতে জলপাই তেল, ওয়াইন কিংবা গাছের রজন রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে পাত্রগুলো একাধিকবার ব্যবহৃত হয়ে থাকলে ভেতরের অবশিষ্টাংশ আগের কোনো পণ্যেরও হতে পারে।
প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর মানুষের স্পর্শ
কেকোভা দ্বীপের আশপাশের সমুদ্রপথ প্রাচীনকাল থেকেই বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। প্রবল বাতাস ও স্রোতের কারণে এ অঞ্চলে বহু জাহাজ ডুবে গেছে। বর্তমানে এলাকাটিতে শত শত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
সমুদ্রের গভীরে কাজ করার সময় ডুবুরিদেরও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। পানির নিচে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করতে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অধ্যাপক ওনিজ বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর তাঁরা প্রথমবারের মতো এসব বস্তু স্পর্শ করছেন। তাঁর কাছে এ আবিষ্কার শুধু একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ নয়; বরং সেই জাহাজের সঙ্গে যুক্ত নাবিক, পাত্র নির্মাতা, পণ্য বহনকারী শ্রমিক এবং তাঁদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জীবনকাহিনিও।
এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির রেকর্ড নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। এর আগে গ্রিসের দোকোস দ্বীপের কাছে পাওয়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষকে সবচেয়ে প্রাচীন বলে বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে, কাঠের অংশ সংরক্ষিত থাকা প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলে, যার বয়স প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছর।
কেকোভার এই আবিষ্কার প্রাচীন সামুদ্রিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য দেশের তরুণ সমাজকে একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেদের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।’
তিনি বলেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের সংকীর্ণ প্রতিযোগিতায় আটকে না থেকে সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে হবে।
দেশের ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সামাজিক মর্যাদা, সমতা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ। সেই আত্মত্যাগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন তরুণদের কাঁধে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পর পড়ালেখা শেষে দেশে ফিরে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতাকে দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হবে। গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে অন্যের যুক্তি শোনার মানসিকতা তৈরি করাই যোগ্য নেতৃত্বের মূল লক্ষণ। তরুণদের সংসদীয় চর্চা এবং নীতি-নির্ধারণী বিতর্ক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দেন তিনি।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ডসহ অন্যান্য বক্তা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে দেশের ৬৪টি জেলার দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ