প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারকে স্থগিত করেছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রদেশটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জারদারির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একজনকে।
এতে কারাবন্দি এই নেতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। এদিকে, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
রয়টার্স জানায়, রবিবার আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন জারদারি। সম্প্রতি সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারকে স্থগিত করেছেন জারদারি। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রদেশটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জারদারির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একজনকে।
তবে পিটিআইয়ের অভিযোগ, জরুরি অবস্থা জারির অজুহাতে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি, দলের সমর্থকেরা যাতে মিছিল নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রাদেশিক বাজেটের অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে দলটি।
বুধবার প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের হাইকোর্টে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে পিটিআই। ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফি বুখারি বলেন, "সন্ত্রাসবাদের মতো জটিল বিষয়ের সঙ্গে ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকারের বিষয়টি মিলিয়ে দেখা হাস্যকর।"
জরুরি অবস্থা জারির আগে প্রদেশটিতে ইমরান খানের হাজারো সমর্থক সমাবেশ করেন। ইমরানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে তাদের ইসলামাবাদে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই মিছিলের আগে ইমরানের তিন বোন, দলের নেতাসহ কয়েক শ সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজাম শেঠি বলেন, ইমরান খানের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠবে। তার মতে, পিটিআই একই সঙ্গে ইমরানের মুক্তির বিষয়ে কোনো ছাড় আদায় করতে পারেনি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিজেদের সরকারের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে। দলের নেতাদেরও কারাবন্দি হতে দিয়েছে।
শেঠির মতে, এ পরিস্থিতিতে ইমরান খান ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরো বাড়তে পারে।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত কয়েক মাস ধরে কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও বন্ধ ছিল। ইমরানের এক চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, রক্তচাপের ওঠানামা এবং একাকী কারাবাসের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছে তার পরিবার ও দল। তারা জরুরি চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন।
দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় বিক্ষোভ প্রাণঘাতী সংঘর্ষে শেষ হয়েছিল। ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পরও পাকিস্তানজুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে। আলোচনায় ইমরানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা, কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগ এবং লন্ডনে থাকা তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ চায় দলটি।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, সরকারও পিটিআইয়ের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার নিন্দা জানানো, হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীদের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের সঙ্গে কাজ করা।
রয়টার্সকে তালাল চৌধুরী বলেন, পিটিআই যেসব দাবি জানিয়েছিল, সরকার তার প্রায় সবই মেনে নিয়েছিল। তবে তার দাবি, দলটি সরকারের শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
১৯৭৫ সালের পর থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে পাঁচবার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং একবার করে পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিবারই কয়েক মাসের মধ্যে আদালত বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এবারের জরুরি অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ও বিশ্লেষকেরা। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের অজুহাতে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হতে পারে। স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইকে অর্থবহ রাজনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন