আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৭ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তুলা মেম্বারের অকাল মৃত্যুতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মধুপুর উপজেলা মেম্বার কল্যাণ ফোরাম। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মরহুমের পরিবারের হাতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. রতন হায়দার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা মেম্বার ফোরামের সভাপতি ও ৫ নম্বর গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক ও ৯ নম্বর অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সুলতান আহমেদ। এ সময় মেম্বার ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন সহকর্মী জনপ্রতিনিধির অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং পারস্পরিক সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। বিপদের সময়ে সহকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।
মেম্বার ফোরামের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আন্তরিক সহযোগিতায় এ মানবিক উদ্যোগটি আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে মরহুম তুলা মেম্বারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং তাঁর পরিবারকে শোক সহ্য করার শক্তি দানের জন্য দোয়া করা হয়।
মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মেম্বার ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তরুণ নৃত্যশিল্পী রুদমিলা প্রিয়ন্তী চৌধুরী ভরতনাট্যমের মৌলিক বিষয় নিয়ে ইংরেজি ভাষায় একটি বই লিখেছেন। বইটির উদ্দেশ্য হলো শাস্ত্রীয় নৃত্যধারার প্রাথমিক বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিথিরা ‘ভরতনাট্যম’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লুবনা মরিয়ম, একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ, হুমায়ুন কন্যা নোভা আহমেদ, নৃত্যশিল্পী ওজিয়া আহমেদ এবং চিকিৎসক নায়লা খান। এছাড়া নৃত্যশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, লেখক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী, শিল্প পরিচালক, নৃত্য গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী লুবনা মরিয়ম মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশে একজন তরুণ নৃত্যশিল্পীর ভরতনাট্যমের মৌলিক বিষয় নিয়ে ইংরেজিতে বই লেখা একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।
বক্তারা অনুষ্ঠানে ভরতনাট্যমের মতো শাস্ত্রীয় নৃত্যধারার চর্চা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় বইটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের মতে, ইংরেজি ভাষায় নৃত্যের মৌলিক বিষয়গুলো উপস্থাপন করার ফলে দেশ-বিদেশের পাঠকেরা ভরতনাট্যম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
রুদমিলা প্রিয়ন্তী চৌধুরী গত ১২ বছর ধরে ভরতনাট্যমের সঙ্গে যুক্ত আছেন। নৃত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণাও করছেন। ২০২২ সালে ‘কল্পতরু’ থেকে নৃত্যের ওপর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন এই শিল্পী।
নিজের প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি জানিয়ে রুদমিলা বলেন, ‘আমার প্রথম বই প্রকাশ করতে পারলাম অবশেষে। সবমিলিয়ে মিলিয়ে অনুভূতি দারুণ আমার। এই জার্নিতে আমার বেশ কয়েকটি সিনিয়র আমাকে দারুণ ভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে চিকিৎসক ও নৃত্যশিল্পী নায়লা খান আমাকে অনেক সহযোগীতা করেছেন তাঁকেও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।’
বইটি ইংরেজিতে প্রকাশের পরিকল্পনার পেছনের কারণও জানিয়েছেন রুদমিলা। তিনি বলেন, ‘কল্পতরু’তে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্ট। সেই ভাবনা থেকে ‘ভরতনাট্যম’ বইটি ইংলিশ প্রকাশ করার পরিকল্পনা করি। শিগগিরই বাংলা ভাষায় প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে বইটি। রকমারি ডটকমক এবং যাত্রা ফেসবুকে বইটি কিনতে পারবেন কেউ চাইলে।
ভরতনাট্যমের মৌলিক বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে নৃত্যশিক্ষার্থী, শিল্পী ও এ নৃত্যধারা সম্পর্কে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা রুদমিলার উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নৃত্যচর্চা ও লেখালেখির জন্য শুভকামনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ জেলায় নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিএনপি’র পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেল বেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এড. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আকরামুজ্জামান রাহাত, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউল আলম চাঁন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় জেলা যুবদলের সভাপতি আতাহারুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান উজ্জল সহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম বিভাগে হাম-রুবেলা (এমআর) ক্যাচ-আপ টিকাদান ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে, যা হামের প্রাদুর্ভাব রোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে আসা হয়েছে, যারা প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে টিকা গ্রহণ করেনি।
আজ সকালে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত, শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিন ছাড়া, চলবে এ ক্যাম্পেইন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৯১ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৪৪ হাজারের বেশি এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ৩২ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. রাব্বি বলেন, "সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাচ-আপ টিকাদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. একরাম হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিক আমান, হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর ডা. ইমং প্রু চৌধুরী, এসআইএমও ডা. খাদিজা আহমেদ এবং ইউনিসেফের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ডা. সরওয়ার আলমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেটে ক্ষুধা, মাথায় এনজিওর কিস্তির বোঝা আর বাবার দিনমজুরি—এমন চরম বাস্তবতা প্রতিদিন চোখ রাঙাত কাজল পাঁড়ের সামনে। তবে অভাবের সেই অন্ধকারকে উপড়ে ফেলে এক ইতিহাস গড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ছেলে কাজল পাঁড়ে। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন তিনি।
কাজলের এই জয়ে ২২ বছর আগে গড়ে ওঠা পার্বতীপুর ইউনিয়নের মাধাইপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের অন্ধকার কাটল। গ্রামটিতে এতদিন কোনো সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না; সেই খরা কাটিয়ে প্রথম সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিচারকের আসনেই বসতে যাচ্ছেন অদম্য এই তরুণ।
মাধাইপুর গ্রামের ‘তুরি’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ি দম্পতির একমাত্র ছেলে কাজল। অভাবের তাড়নায় যাঁর তিন বোনের পড়াশোনা প্রাথমিকে পৌঁছানোর আগেই থেমে গিয়েছিল, অল্প বয়সেই দিতে হয়েছিল বিয়ে। অনেক দিন এমনও কেটেছে—ঘরে খাবার না থাকায় না খেয়েই স্কুলে দৌড়েছেন কাজল।
স্থানীয় মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিশন স্কুল, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে থেকে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিকে লেখা পড়া শেষ করেন। এরপরই উচ্চশিক্ষার যুদ্ধে নামেন তিনি। প্রথমবার হোঁচট খেলেও দ্বিতীয়বারে বাজিমাত করে একযোগে জগ্ননাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান। ভর্তি হন রাবির আইন বিভাগে।
ছেলের পড়ার খরচ যোগাতে বাবা নরেশ পাঁড়েকে নামতে হয়েছে কঠিন লড়াইয়ে। এনজিওর কিস্তি তোলা থেকে শুরু করে বাড়িতে দুধের গরু বিক্রি—সবই করেছেন। মানুষের দয়া না চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে গিয়ে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির কঠোর শ্রমিকের কাজ বেছে নেন, সেই মজুরির টাকায় ছেলের শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখেন। অন্যদিকে কাজলও ক্যাম্পাসে টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। অবশেষে ১৮তম বিজেএসে অর্জন করে সব কষ্টের হিসাব চুকিয়েছেন কাজল।
ছেলে জজ হওয়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না মা পঞ্চমী জেড়ি। তিনি বলেন, ছেলে চরম কষ্ট করে বড় হবার স্বপ্ন দেখেছিল, তা পূরণ হয়েছে। গাঁয়ের মানুষ এখন আমাদের দেখতে আসছে, এতে আনন্দ ধরে রাখতে পারছি না।
কাজলের বোন স্বপ্না পাড়ে বলেন, দিন আনি দিন খায়- এমন পরিবারের সন্তান আমরা৷ পড়ানোর স্বক্ষমতা না থাকার কারণে আমাদের ৩ বোনকে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। যার কারণ
আমরা প্রাথমিক স্তরও পার করতে পারিনি। আমার ভাই লেখা পড়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছে।
কাজলের এমন কৃতিত্বে বাবা নরেশ পাঁড়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে নিজের ভাষায় তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় দানে যখ্যান হ্যামার ছোয়া মোবাইল কারেলা তখন ক্যাহালো যে, ‘বা, ভাগয়ান কার আশীর্বাদে হাম জজ’কা চাকরি পালো।’ তখন হাম শুনকে খুশি হল।
তিনি বলেন, হামনি গরিব আবদিন। হামরা মাটি লাড়িচাড়ী। দিন খাটিলা দিন খাইলা। হামি চাই হামার ছোয়া মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। ভাগয়ান যেই দায়িত্বটুকু দেইছে সোঠা যেহে ভালো হয়।
কাজলের এমন সাফল্যের খুশি গ্রামবাসীও। তারা বলছেন, মেধাবী শিক্ষার্থী কাজল ও তার পরিবার যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে- এমন জায়গায় চাকরি তার প্রাপই।
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পাওয়া কাজল পাঁড়ে বলেন, মাধাইপুর গ্রামের সন্তান হিসেবে প্রথম সরকারি চাকরি পাওয়ার বিষয়টি খুবই আনন্দের। এই আনন্দ শুধু আমার একার নয়; আমার পরিবার, গ্রাম, আমার গোষ্ঠীরও।
স্মৃতির পাতা হাতরে পড়ালেখার যাত্রার সবচেয়ে কষ্টের একটি দিন স্মরণ করে তিনি বলেন, পড়ালেখার একপর্যায়ে আমাদের পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। যার কারণে, আমার বড় বোন গরু বিক্রি করে হাতে টাকা দিয়েছিল। সেদিনের কথা খুব মনে পড়ে।
বিচারালয়ে তার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নৃগোষ্ঠীর মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও মনে করেন কাজল পাঁড়ে।
কাজলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, গরিব ঘরের সন্তান কাগজের এমন সাফল্যে আমরা খুবই খুশি। তার জীবনের সাফল্য কামনা করি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ